রাকেশ গুপ্তা এর সফলতার কাহিনী | Jayanti Chakrabarty | Bangla Motivational success story

রাকেশ গুপ্তা এর সফলতার কাহিনী | Jayanti Chakrabarty | Bangla Motivational success story
Bangla success story :- Rakesh Gupta Bio graphy( Success Story) Bangla. This success story written by jayanti Chakraborty. This story revolves around Rakesh Gupta Success Story like Rakesh Gupta biography. Rakesh Gupta life story in bengali. Bangla Motivational success story. We are collected this type of success story that revive your lost mind. You get more success story on Bengali in our website. And I think  all success story will take place in your mind. So please share this story to your friends and I sure they will also benefit from this success story. Thank you so much. 

 রাকেশ গুপ্তা 

       বিহারের সহর্ষ জেলার ঘিনা গ্রাম । গাঁয়ের ছেলে , ১৩ বছরের রাকেশ গুপ্তা একদিন গাঁয়ের পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরছিল । হঠাৎ এক গ্রাম সম্পর্কে চাচা তার পাশে পাশে হাঁটতে লাগল । একথা সেকথার পর হাতের ব্যাগ থেকে কটা বড় বড় লাল লাড্ডু বের করে সে রাকেশকে খেতে দিল আদর করে । 

       গরিবের ছেলে রাকেশ । বাড়িতে অনেকগুলি ভাইবােন । মেঠাই মণ্ডা সে বহুবার শহরের দোকানগুলির কাচের শােকেশে সাজানাে থাকতে দেখেছে বটে কিন্তু কোনােদিন চেখে দেখার সৌভাগ্য হয় নি । লাড়ু দেখেই লােভে দু চোখ চকচক করে উঠল তার । সঙ্গে সঙ্গে হাতে নিয়েই মুখে পুরে দিল সে । 

       তারপর আর কিছু মনে নেই রাকেশের । সেই দিনই রাতারাতি তার সেই দেশােয়ালি চাচা স্থানীয় দালালের মাধ্যমে তাকে বিহার থেকে পাঞ্জাবের অমৃতসরে পাচার করে দিল । সম্পূর্ণ অচৈতন্য অবস্থায় এক রাজ্য থেকে আর এক রাজ্যে চলে এল রাকেশ । 

     জ্ঞান ফেরার পর রাকেশ দেখল সে এক পাঞ্জাবী চাষি পরিবারে কৃতদাস হিসাবে বন্দী । তার সঙ্গে আছে তারই মতাে আরও পাঁচজন বালক । কিন্তু রাকেশকে নিয়ে তার ক্রেতা অর্থাৎ মনিব মােটেই খুশী হতে পারল না । কারণ বিহারের ছেলে রাকেশ তার গুমুখী ভাষার বিন্দুবিসর্গ বােঝে না । শুধু বকে বকে মরতে হয় তাকে । গরুর মতাে মার , গালাগাল আর না খেতে দিয়ে দিনের পর দিন ঘরে তালাবন্ধ করে রাখার পরও যখন রাকেশের ভাষাজ্ঞানের কিছুমাত্র উন্নতি হল না , তার শিখ মনিব তখন তাকে বেচে দিল আর একজনের কাছে । এই নতুন প্রভু বেশ মােটা দামে রাকেশকে কিনেছিলেন । কাজেই খাটিয়ে সেই টাকা সুদে আসলে উশুল না করে ছেড়ে দেবার পাত্র তিনি নন । 

       শুরু হল তেরাে বছরের ক্রীতদাস রাকেশকে পুরােপুরি ব্যবহার করা । সকালে উঠেই রাকেশ মােষগুলােকে স্নান করায় বালতি বালতি জল তুলে এনে । তারপর চলে যায় মাঠে । সেখানে গমের ক্ষেতে কাজ করে সারাদিন । সন্ধ্যাবেলা বাড়ি ফিরে এলে দুখানি শুকনাে রুটি খেতে দেওয়া হয় তাকে । 

       সারা দিনে রাত্রে মাত্র দুখানি শুকনাে রুটি আর ছােটো গ্লাসে আধ গ্লাস চা । প্রায় দিনই ক্ষিদের জ্বালায় জ্ঞান হারাতাে রাকেশ । তখন তার কপালে জুটত লােহার রডের বাড়ি প্রচণ্ড প্রহার । প্রহারের হাত থেকে বাঁচবার জন্য ক্ষিদেয় ক্লান্তিতে ধুকতে ধুকতে কাজে যেতে হত রাকেশকে । 

      এভাবেই হয়তাে একদিন ক্ষিদের জ্বালায় মাঠের মধ্যেই মরে পড়ে থাকতে হতাে রাকেশকে কিংবা মালিকের প্রহারে খুন হতাে সে । কিন্তু ভাগ্যটা তার অত খারাপ ছিল না । 

     বছর পাঁচেক বিস্তর খোঁজাখুঁজি আর প্রশাসনের দোরে দোরে প্রচুর ঘােরাঘুরি । শেষপর্যন্ত পুলিশ খুঁজে বের করল রাকেশকে । কিন্তু তখন সে প্রায় পঙ্গু । মানসিক কিছু জটিলতাও দেখা দিয়েছে তার মধ্যে । নিয়মিত ড্রাগ খাওয়ানাের ফলে সে তখন এক অর্ধমৃত , রুগ্ন , অসংলগ্ন কথাবার্তা বলা আধপাগলা কিশাের যার আশ্রয় মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্র ছাড়া আর কোথাও নয় । 

      কিন্তু মনের জোর রাকেশকে এখানে থামতে দিল না । তার বাবা তাকে স্কুলে ভর্তি করে দিলেন । ধীরে ধীরে রাকেশ আবার তার মাতৃভাষা হিন্দি বলতে বুঝতে ও লিখতে পড়তে শিখে গেল । তারপর সে শুরু করল এই নিষ্ঠুর সমাজের দিকে তার ঘুরিয়ে মার ।

       ২০০৬ সালে বিশ্বে শিশুর অধিকার রক্ষার বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার নেবার জন্য সুইডেনে উপস্থিত হয়েছিল সে । সেখানে বিচারকবৃন্দ ও হাজার হাজার দর্শকদের সামনে দাঁড়িয়ে সে তার নিজের ভাষায় বর্ণনা করেছিল তার অমানুষিক জীবনসংগ্রামের কাহিনি । তার পরিণত বুদ্ধি , সংবেদনশীলতা ও অভিজ্ঞতার পরিচয় পেয়ে বিচারকরা তাকে অন্যতম জুরি হিসাবে নির্বাচন করেছেন । তার কাজ হল ২০১৩ সাল পর্যন্ত পুরস্কার প্রাপক শিশুদের মনােনীত করা । 

       জীবনের লড়াইটা এভাবেই একেবারে গােহারা হারতে হারতে হঠাৎ জিতে গেল রাকেশ দারুণভাবে । কে জানে কার জন্যে কি পুরস্কার তােলা আছে ভাগ্যদেবতার হাতে । মানুষের কাজ শুধু লড়াইটা টেনে নিয়ে চলা । কখনােই লড়াইটাকে থামতে না দিয়ে লাগাতার চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার নামই তাে জীবন ।

       রাকেশ এখন প্রতিদিন সকালে উঠে ধ্যান করে । ঈশ্বরের কাছে তার একমাত্র প্রার্থনা— জীবনের হেরে যাওয়া , মার খাওয়া শিশুদের পিঠে । সে যেন তার নিজের হাতখানা রাখতে পারে । যেন গভীর বিশ্বাস । মিশিয়ে বলতে পারে—

         ‘ভয় পেয়াে না । আমি তাে আছি । আমরা তাে আছি ।' 

সমাপ্ত 

স্বামী বিবেকানন্দ এর সফলতার কাহিনী | Swami Vivekananda life story in bengali

স্বামী বিবেকানন্দ এর সফলতার কাহিনী | Swami Vivekananda life story in bengali
Bangla success story :- Swami Vivekananda Bio graphy( Success Story) Bangla. This success story written by jayanti Chakraborty. This story revolves around Swami Vivekananda like Swami Vivekananda biography. Swami Vivekanada life story in bengali. We are collected this type success story that revive your lost mind. You get more success story on Bengali in our website. And I think  all success story will take place in your mind. So please share this story to your friends and I sure they will also benefit from this success story. Thank you so much. 

 স্বামী বিবেকানন্দ 

      আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট বলেছিলেন— The future belongs to those who believe in the beauty of their dreams . 

      স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন এমনি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা মানুষ । তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁর স্বদেশবাসী , পরাধীন , পদদলিত , দরিদ্র মূখ চির হতভাগ্য এই ভারতবাসীরা একদিন মানুষের মতাে মানুষ হয়ে উঠবে । ফিরে পাবে আত্মমর্যাদা , ফিরে পাবে স্বাধীনতা । জ্ঞানে , গরিমায় , শক্তিতে সাহসে এই অবহেলিত ঘৃণিত ভারতবর্ষই একদিন বিশ্বসভায় শ্রেষ্ঠত্বের আসন গড়ে নেবে । 

      এ স্বপ্ন যখন তিনি দেখেন তখন তিনি একজন কপর্দকশূন্য কৌপীন মাত্র সম্বল সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী । কখনাে ভিক্ষান্নে , কখনাে কোনাে সদাশয় গৃহস্থের দানে গ্রাসাচ্ছাদন চলে তার । তবু তিনিই এই স্বপ্ন দেখেছিলেন । 

      কিন্তু কে শুনবে তাঁর কথা ? অভাত অখ্যাত সন্ন্যাসীকে সাহায্য করতে কে আসবে এগিয়ে ? 

     অথচ দেশকে জাগাতে হলে চাই সংগঠন , চাই প্রচার আর চাই প্রচুর অর্থ । 

    পথ খুঁজতে লাগলেন স্বামীজি । কেমন করে স্বপ্নকে সার্থক করা যায় তারই পথ ।

     হঠাৎ একটা খবর পৌছুল তার কানে । আমেরিকার শিকাগাে শহরে বিশ্বধর্ম মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে । এই সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে তিনি যদি হিন্দুধর্মের ওপর ভাষণ দেবার সুযােগ পান তাহলে তিনি প্রমাণ করে দিতে পারবেন যে হিন্দুধর্ম পৃথিবীর কোনাে ধর্মের চেয়ে ছােটো নয় বরং পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনাে , সবচেয়ে উদার আর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধর্ম হল হিন্দু ধর্ম । 

      পাশ্চাত্যের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই সত্যকে একবার প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে আর ভাবনা কি ? তখন ভারতীয়রাও তাদের আত্মবিশ্বাস , আত্মমর্যাদা বােধ ফিরে পাবে । তখন আর তারা দলে দলে খ্রিস্টান হতে ছুটবে না ।

      নিজের ধর্ম , নিজের জাতি , নিজের দেশকে ভালােবাসতে শিখবে , শ্রদ্ধা করতে শিখবে । 

     আর অর্থের অভাব ? একবার বিদেশের মাটিতে প্রতিষ্ঠা পেলে সে অভাবও দূর হয়ে সহজেই । শুধু বক্তৃতা দিয়েই উপার্জন করতে পারবেন রাশি রাশি টাকা । অতএব যেতেই হবে আমেরিকা । স্বপ্নে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে গেছেন গুরু শ্রীরামকৃষ্ণ । গুরুমা সারদাদেবীও পাঠিয়েছেন আশীর্বাদ ।

      কিন্তু কোথায় পাথেয় ? কোথায়ই বা বিদেশ যাত্রার উপযুক্ত পােশাক ? খেতড়ির রাজা এগিয়ে এলেন । দিলেন প্রয়ােজনীয় টাকাপয়সা ও জামাকাপড় । 

      স্বামীজি ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মে বােম্বাই বন্দর থেকে জাহাজে উঠে আমেরিকার পথে পাড়ি দিলেন । চলেছেন কিন্তু জানেন না কোথায় গিয়ে উঠবেন । কারণ ধর্মমহাসভার পক্ষ থেকে তাকে কোনাে আমন্ত্রণপত্র পাঠানাে হয় নি । সে দেশে কোনাে চেনাজানা লােকও নেই তার । এমনকি একটি পরিচয়পত্র পর্যন্ত সঙ্গে নেই তার যা দিয়ে তিনি নিজেকে প্রমাণ করবেন । 

       শুধুমাত্র একবুক স্বপ্ন আর গুরুর আদেশ সম্বল করে ৩০ জুলাই এক কনকনে শীতের রাত্রে শিকাগাে শহরে এসে পৌঁছলেন স্বামীজি । 

      বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনীদের শহর । হােটেলের চার্জ নাগালের বাইরে । এদিকে সঙ্গে আনা টাকাপয়সাও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে । তারপর বর্ণবিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গরা খাবারের দোকানে ঢুকতে দেয় না , চুল কাটার সেলুনে ঢুকতে দেয় না , গৃহস্থ বাড়িতে ভিক্ষা চাইলে কেউ ভিক্ষাও দেয় না । মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেয় । 

     স্বামীজি বুঝলেন এভাবে শিকাগাে শহরে আর কয়েকদিন থাকলে অনাহারেই মারা যাবেন । তার ওপর প্রচণ্ড শীত । সঙ্গে আনা পােশাকগুলােও প্রায় ছিড়ে গেছে । এই নিদারুণ সময়ে স্বামীজি দেশে তার এক গুরুভাইকে চিঠিতে লিখছেন— 

      ‘ এখানে আসিবার পূর্বে যে সব সােনার স্বপ্ন দেখিতাম তাহা ভাঙিয়াছে । এক্ষণে অসম্ভবের সঙ্গে যুদ্ধ করিতে হইতেছে ।... মরি - বাঁচি , আমার উদ্দেশ্য ছাড়িতেছি না । '

        শিকাগাে থেকে কিছু দূরে বােষ্টন শহর । সেখানে থাকা খাওয়ার খরচ কিছুটা কম । স্বামীজি চললেন বােষ্টনের উদ্দেশ্যে । পথে ট্রেনে এক দয়াবতী মহিলার সঙ্গে আলাপ হল তার । তিনি স্বামীজির সব কথা শুনে তাকে নিজের বাড়িতে অতিথি হিসাবে আশ্রয় দিলেন । থাকা খাওয়ার সমস্যা মিটল ।

         কিন্তু আসল কাজের তাে কিছুই হল না । যে জন্য এতাে দূরে , এতাে কষ্ট স্বীকার করে আসা সেই বিশ্বধর্ম সম্মেলেনের মহাসভায় যােগ দেবার কোনাে সুরাহাই তাে হল না ! তবে কি শূন্য হাতেই ফিরে যেতে হবে ? স্বামীজি হাল ছাড়লেন না । মানুষের জেদের পরিচয় পেলে ঈশ্বরও হাত বাড়িয়ে দেন । 

       হঠাৎই একদিন পথ চলতে চলতে স্বামীজির আলাপ হয়ে গেল মি . রাইটের সঙ্গে । মাত্র তিনঘণ্টার আলাপে অধ্যাপক রাইট এতােটাই অভিভূত হয়ে পড়লেন যে নিজেই উদ্যোগ নিয়ে নিজের এক বন্ধু জে এইচ ব্যারেজের কাছে চিঠি লিখে স্বামীজির হাতে দিয়ে তাকে শিকাগাে শহরে পাঠিয়ে দিলেন । মি ব্যারেজ ছিলেন এমন এক সভার সদস্য যে সভার হাতেই ছিল ধর্মসম্মেলনের প্রতিনিধি নির্বাচনের ভার । 

       ডক্টর রাইটের চিঠি নিয়ে স্বামীজি আবার ফিরে এলেন শিকাগাে শহরে । কিন্তু ট্রেন ঢুকতে দেরী করল । গভীর রাত । ঝােলা ঝুলি হাতড়ে খুঁজতে লাগলেন অধ্যাপক রাইটের দেওয়া চিঠি আর সমিতির ঠিকানা । কিন্তু কোথায় সে সব । পথের মধ্যে মনের ভুলে কোথায় ফেলে এসেছেন কে জানে ! সঙ্গে টাকাপয়সাও নেই । কোনাে হােটেলেও ঠাই হলাে না । হাড় কাপানাে ঠাণ্ডায় হাত - পা অসাড় হয়ে গেছে । মৃত্যু অবধারিত । 

        এমন সময় হঠাৎ চোখে পড়ল একটি কাঠের খালি প্যাকিং বাক্স স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের এক কোণে পড়ে আছে । স্বামীজি সে রাতের মতাে সেই বাক্সের মধ্যে ঢুকে কোনােমতে প্রাণ বাঁচালেন । সারারাত কেটে গেল অনাহারে । তবু হাল ছাড়লেন না । সকালে উঠেই ক্লান্ত অবসন্ন পায়ে ফের বেরিয়ে পড়লেন সমিতির খোঁজে । 

        কিন্তু খোঁজ তাে পেলেনই না উপরন্তু বিস্তর হাঁটাহাঁটি করে খিদে আরাে বেড়ে গেল । নিরুপায় স্বামীজি ভিক্ষা চাইতে লাগলেন দ্বারে দ্বারে এককণা খাবারের জন্য । কিন্তু ধনী , অহংকারী আমেরিকান গৃহস্থরা এক মুঠো খাবার তাে দিলই না বরং যারপরনাই অপমান করে তাকে - তাড়িয়ে দিল । এ দুয়ার থেকে ও দুয়ার ক্রমাগত বিতাড়িত হতে হতে একসময় স্বামীজি আর পারলেন না । খিদেয় লুটিয়ে পড়লেন রাস্তার মাঝখানে ফুটপাতের ওপর । 

       এই দৃশ্য উল্টোদিকের বাড়ির বারান্দা থেকে দেখতে পেয়েছিলেন এক দয়াবতী মহিলা মিসেস হেল । তিনি তক্ষুনি নিজে গিয়ে স্বামীজিকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে এলেন । যত্ন করে তাকে খাওয়ালেন । বিশ্রামেরও ব্যবস্থা করে দিলেন । 

       কিন্তু স্বামীজি তাে সাধারণ ভিক্ষুক নন । তিনি তাে চান ধর্মসভায় বক্তৃতা দিতে । তিনি তাে থাকা খাওয়ার নিশ্চিত আশ্রয় পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে পারেন না । তাই সময় বুঝে একদিন বলে ফেললেন মিসেস হেলকে তার মনের কথা । ব্যাকুল হয়ে প্রার্থনা করলেন তার সাহায্য । 

       অনেক চেষ্টা করে শেষপর্যন্ত ব্যবস্থা একটা হল । হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে ইতিমধ্যে অনেকেই পৌঁছে গেছেন । অভ্যর্থনা সমিতির অতিথি নিবাসে । সেইসব ভারতীয়ের মধ্যে বেশ কজন বাঙালিও আছেন । কাজেই হিন্দু ধর্মের ওপর বলার জন্য যে সময়সীমা নির্দিষ্ট করা আছে তা আর কোনাে মতেই বাড়ানাে যাবে না । তবে একান্তই নাছােড়বান্দা এই তরুণ সন্ন্যাসীর জন্য অনেক বলে কয়ে কোনােমতে দু মিনিট সময় বরাদ্দ করা গেল । স্বামীজি তাতেই সন্তুষ্ট হলেন । মনে মনে প্রস্তুত করতে লাগলেন নিজেকে । ওই দু মিনিট সময়কেই কিভাবে পুরােপুরি কাজে লাগানাে যায় তাই ভাবতে লাগলেন দিন রাত । 

        ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শিকাগাের কলম্বাস হলে শুরু হল বিশ্বধর্ম মহা সম্মেলন । পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাছা বাছা সাত হাজার মহাপণ্ডিত সেই সভার দর্শকাসনে । এছাড়া বক্তা হিসাবে যাঁরা বসে আছেন মঞ্চে তাদের পাণ্ডিত্য তাে সন্দেহাতীত । এই সভায় দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করতে হবে ভেবে ভয়ে স্বামীজির কণ্ঠ তালু শুকিয়ে গেল , বুকের মধ্যে দুরু দুরু । জীবনে যে কখনাে তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেন নি । তাছাড়া সকলেই বক্তৃতা লিখে নিয়ে গিয়েছিলেন । স্বামীজি তাও করেন নি । 

     একমনে গুরুকে স্মরণ করে স্বামীজি নিজের নিলেন । ঘােষক তার নাম ঘােষণা করতেই ধীর পায়ে মঞ্চে উঠে এলেন মনকে প্রস্তুত করে স্বামীজি । তার তরুণ তেজপূর্ণ চেহারা , গৈরিক পােশাক ও আত্মবিশ্বাস মাখানাে দুটি চক্ষুর নির্মল জ্যোতি দর্শকদের মুগ্ধ করে দিল । স্বামীজি শুরু করলেন—

       ‘ আমেরিকাবাসী ভগ্নী ও ভ্রাতাগণ’– সভাকক্ষে , যেন বিদ্যুত চমকিত হল । শ্রোতারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে করতালি দিতে লাগল । এতাে আন্তরিক সম্বােধন আগে কোনাে বক্তা তাে করেননি । মুগ্ধ করতালি চলল টানা দু মিনিট ধরে । 

      এরপর স্বামীজি যা বললেন তার সারসংক্ষেপ হল এই - বিশ্বের সব ধর্মই মহান । সব ধর্মেরই লক্ষ্য এক ঈশ্বর । হিন্দুধর্মের মহান্থি গীতা এই সত্যকেই প্রকাশ করেছে । আজকের এই ধর্মহাসম্মেলন বিশ্ব থেকে ধর্মান্ধতা , সংকীর্ণতা , সাম্প্রদায়িকতা ও যাবতীয় ধর্মোন্মত্ত পৈশাচিকতাকে দূর করুন । তুমুল করতালির মধ্যে বক্তৃতা শেষ হল । 

      জনপ্রিয়তার প্রবল স্রোতে ভেসে গেলেন স্বামীজি । আমেরিকাবাসীর মুখে মুখে ফিরতে লাগল তার নাম । সবাই তার কথা শুনতে চায় । ফলে আরাে দশ বারােদিন ভাষণ দিতে হল তাকে ধর্মসভায় । 

      না , আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে । এরপর দিনের পর দিন , মাসের পর মাস , বছরের পর বছর , আমেরিকা , লন্ডন সহ পাশ্চাত্যের নানা দেশে বক্তৃতা করে বেড়িয়েছেন তিনি । পৃথিবীর দিগভ্রান্ত , নষ্ট চৈতন্য , হতাশ মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছেন জীবনের মহামন্ত্র -

       ‘ উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরাণ নিবেধিত । 

        Arise , awake stop return till you reach the goal . 

        আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অসংখ্য শাখাপ্রশাখা । শিবজ্ঞানে জীবসেবাই যার একমাত্র উদ্দেশ্য । বিবেকানন্দ রচিত প্রচুর বই ও বক্তৃতামালা আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে সঞ্চারিত করে । দিচ্ছে দিব্যজীবনের , প্রকৃত আনন্দময় জীবনের মন্ত্র

         - He only lives , who lives for others . 

                                            - Swami Vivekananda

Swami Vivekanda:- Swami Vivekanada was an Indian Hindu monk. He was born ( 12 january 1863 ) in a bengali family at his ancestral home at 3 gourmohon mukherjee street in kolkata. His another name was Narendra nath datta. He was death on 4th july 1902 in Belur Math Howrah.

উত্তম কুমারের সফলতার কাহিনী | Best Powerful Bangla Motivational Success Story | Uttam Kumar Biography

উত্তম কুমারের সফলতার কাহিনী | Best Powerful Bangla Motivational Success Story | Uttam Kumar Biography
তোমার লেখা গল্প বা কবিতা আমাদের Website এ প্রকাশিত করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারো আমাদের সাথে, আমাদের Email Id, "lovejunction506@gmail.com." আমরা তোমার Email এর অপেক্ষায় আছি । ততক্ষনে এই কবিতাটি তোমার জন্য ।  

 উত্তমকুমার 

      There can be no rainbow without a cloud and a storm . 

       মহানায়ক উত্তমকুমার শুধু আপামর বাঙালির চিরদিনের স্বপ্নের নায়ক নন , তিনি মহানায়ক । বাংলা সিনেমার ১০০ বছরের ইতিহাসে অসংখ্য নায়ক এসেছেন কিন্তু মহানায়ক একজনই । মানুষের উজাড় করা ভালােবাসা যেমন পেয়েছিলেন উত্তমকুমার তেমনি নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নিঃশেষে নিঙড়ে দিয়েছিলেন সেই অকুণ্ঠ ভালােবাসার ঋণশােধ করতে । আজও উত্তমকুমার নামের ম্যাজিকে আপ্লুত মানুষ , মহানায়কের বিকল্প খুঁজে পায় না । কিন্তু কি মূল্য দিতে হয়েছে কতােখানি অপমান , লাঞ্ছনা আর উপেক্ষার কাঁটা বিছানাে পথ মাড়িয়ে , কতােটা রক্তাক্ত পায়ে তিনি উঠে এসেছিলেন এই সাফল্যের চূড়ায়— সে এক আশ্চর্য ইতিহাস , চিরকালের হার না মানা মানুষের অলৌকিক ধৈৰ্য্য আর সাধনার দিনলিপি । 

        উত্তমকুমারের পিতৃদত্ত নাম অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় । বাবা সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় ছিলেন মেট্রো সিনেমার এক সাধারণ অপারেটর । তিন ভাই অরুণ , বরুণ আর তরুণের মধ্যে গভীর ভালােবাসা । অকালমৃতা দিদি পুতুলের জন্যে মনের মধ্যে জমে ওঠে মেঘ । সেই দিদি বলত— ‘ ভাই তুই যাত্রা করবি , নাটক করবি , বেশ মজা হবে । 

        অরুণের জন্মসূত্রেই অভিনয়ের উত্তরাধিকার । বাবা জ্যাঠা পাড়ার ক্লাব ‘ সুহৃদ সমাজে ’ নিয়মিত অভিনয় করেন । শিশু অরুণ সন্ধে বেলা বাড়ির চোখ এড়িয়ে ক্লাবের জানলায় উকি মেরে দেখতেন রিহার্সাল । তারপর বাড়িতে এসে অবিকল তা নকল করে শােনাতেন । মা দিদি আর ভায়েরা অবাক হয়ে যেতাে শুনে । স্কুলে পড়ার সময়েও ছােটো গয়াসুরের ভূমিকায় অভিনয় করে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন । হেডমাস্টারমশাই নিজে এসে বুকে জড়িয়ে ধরলেন । পেলেন দু - দুখানি মেডেল । সেদিন আনন্দে আপ্লুত শিশুশিল্পী মেকাপ না তুলেই স্কুল থেকে ছুটতে ছুটতে বাড়িতে এসে মায়ের পায়ে প্রণাম করেছিলেন । মা চপলা দেবী সেদিন প্রাণভরে আশীর্বাদ করেছিলেন ছেলেকে । 

       ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেওয়ার পর থেকেই প্রবলভাবে অরুণের মধ্যে চেপে বসল অভিনেতা হবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা । পাড়ার স্টেজে নাটক কিংবা যাত্রা নয় , একেবারে রূপােলি পর্দার নায়ক হবার স্বপ্নে রীতিমতাে বিভাের হয়ে উঠলেন তিনি । চেনা পরিচিত যে কোনাে লােকের সঙ্গে সিনেমা বা রঙ্গমঞ্চের কোনােরকম যােগাযােগের কথা জানতে পারলেই ছুটে যেতেন যে কোনাে চরিত্রে ছােটো একটা সুযােগ পাবার আশায় । বন্ধুরা একদিন বলল— গান জানলে নায়কের ভূমিকায় সুযােগ পেতে সুবিধা হয় কারণ সে সময়ে প্লেব্যাকের তত চল হয়নি । নায়ক নায়িকারা নিজেদের গলাতেই গান গাইতেন । অরুণ নামের স্বপ্নসন্ধানী ছেলেটা এসব কথা ভেবেই ভর্তি হল নাইট কলেজে । সারাদিন সে সিনেমা থিয়েটার জগতের জানা অজানা সবার দোরে দোরে ধর্না দিয়ে বেড়ায় আর সন্ধ্যায় করে কলেজ । এরই ফাকে নিয়মিত চলে গান শেখা আর নায়ক জীবনের প্রস্তুতি । গান , সাঁতার , ব্যায়ামাগারে গিয়ে শরীরচর্চা , ভলিবল খেলা , হিন্দি উর্দু শেখা- সবকিছুর লক্ষ্য একটাই— নায়ক হতে হবে । শিশির ভাদুড়ি তখন বাংলার বিখ্যাত নটসম্রাট । মঞ্চকাপানাে অভিনয় তার । অরুণ শিক্ষার জন্য তাকেই গুরু মানলেন । যখনই যেখানে শিশির ভাদুড়ির অভিনয়ের খবর পেতেন অমনি ছুটে যেতেন । পরম নিষ্ঠাভরে একমনে দেখতেন । উপভােগ নয় শিক্ষা । শুধু অভিনয় কলা শিক্ষার জন্যেই তিনি যাত্রা , নাটক আর সিনেমার মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতেন । 

          শুধু দেখা আর শেখা নয়— হাতে কলমে অভিনয় চালিয়ে যেতে না পারলে অভিনেতা হওয়া যায় না । তাই কলেজের পড়াশােনার ফাঁকেই নিজস্ব থিয়েটারের দল গড়ে নিয়মিত অভিনয় চালিয়ে যেতে থাকলেন । আগামী দিনের উত্তমকুমার । এভাবেই একদিন বি কম পাস করলেন । কিন্তু বাড়ির বড়াে ছেলে হিসাবে বৃহৎ পরিবারের দায় এসে চাপল তার কাধে । নায়ক হবার স্বপ্ন মনে হল জীবন থেকে চিরতরে বুঝি হারিয়েই গেল । কিন্তু পাদপ্রদীপের আলাের নেশায় রক্ত নেচেছে যাঁর , সাধারণের মতাে দশটা পাঁচটার চাকুরে জীবন সে কি মেনে নিতে পারে ? সেদিনের অরুণ চট্টোপাধ্যায়ও মেনে নিতে পারেন নি । তবু বাবা , মা আর ছােটো ভাইদুটির মুখ চেয়ে পাের্ট কমিশনে সামান্য এক কেরাণীর চাকরিতেই বহাল হয়ে গেলেন তিনি , মাসিক ২৭৫ টাকা মাইনের এই কেরাণীর জীবনই তার ভবিতব্য বলে মেনে নিলেন । সাংসারিক দায়বদ্ধতার কাছে । নতি স্বীকার করলেন বটে কিন্তু হাল ছাড়লেন না । 

        দশটা পাঁচটা অফিস করেও নায়ক হবার স্বপ্নটাকে বুকের মধ্যে পুষে রাখলেন সযত্নে । নিয়মিত চলল সঙ্গীত চর্চা আর শরীর চর্চা । অব্যাহত রইল সুযােগের সন্ধানে চেনা পরিচিত মহলে অনুসন্ধান । এমনিভাবেই একদিন , তখন বছর কুড়ি বয়স তার হঠাৎ একদিন সুযােগ এসে গেল । ‘ মায়াডাের ’ নামের একটি সিনেমায় ছােট্ট একটা রােল । একস্ট্রা হিসেবে । মহানন্দে সেই ভূমিকাতেই নিজেকে উজাড় করে দিলেন অরুণ চট্টোপাধ্যায় নামের নবাগত সেই অভিনেতা । কিন্তু সেই ছবি মুক্তি পেল । না কোনাে অজ্ঞাত কারণে । দুঃখ পেলেন ঠিকই কিন্তু ভেঙে পড়লেন না অরুণ নামের সেই তরুণ যুবক । তখন গানও তিনি ভালাে গাইছেন ।পাড়ায় পাড়ায় ফাংশানে ডাক আসছে , কিন্তু সবই বিনা পারিশ্রমিকে । বড়াে জায়গায় সুযােগ পাবার জন্য উদ্যোক্তাদের কতাে অনুরােধ উপরােধ করেছেন । এমনও হয়েছে সুযােগ দেবার নাম করে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে । একের পর এক নামী শিল্পী গেয়ে গেয়ে চলে গেছেন আর অরুণকে বলা হয়েছে । এরপরই আপনার । শেষপর্যন্ত ক্লান্ত হয়ে ভােরবেলা শুকনাে মুখে বাড়ি ফিরে এসেছেন একরাশ হতাশা বুকে নিয়ে । তবুও হাল ছাড়েন নি । কারণ আত্মবিশ্বাসী অরুণ জানতাে যে জয় একদিন তার হবেই হবে । 

         আরাে বছরখানেক ঘোরাঘুরির পর দ্বিতীয় সুযােগ এল । দৃষ্টিদান ’ ছবিতে নায়কের ছেলেবেলার ভূমিকায় । এ ছবি পুরাে ফ্লপ করল । কিন্তু তার চেয়েও বেশি আঘাত অরুণ পেলেন , চরিত্রলিপিতে নিজের নাম কোথাও নেই দেখে মনকে প্রবােধ দিলেন এই বলে যে যেদিন সত্যি সত্যি যােগ্য হয়ে উঠবেন সেদিন তারই নাম থাকবে সবার উপরে । 

       পরের বছর ১৯৪৯ ‘ কামনা নামের নতুন একটা ছবিতে সুযােগ পেলেন । কমদামী পরিচালকের কম বাজেটের ছবি । তবু পরিচালক রাজী হলেন একটা শর্তে । পিতৃদত্ত নামটিকে বদলে ফেলতে হবে কারণ অরুণ নামটি বােঝাই যাচ্ছে মােটেই তার পক্ষে শুভ ( লাকি ) নয় । জন্মকালে মায়ের বাবা নাম রেখেছিলেন উত্তম । কামনা ’ ছবিতে নাম হল তার উত্তম চ্যাটার্জী । কিন্তু না , সমস্ত আশায় জলাঞ্জলি দিয়ে উত্তম চ্যাটার্জির এই কামনা ছবিও ফ্লপ করল । 

        পরপর তিন বছরে তিনটি ছবি । তিনটিই ফ্লপ । কোনাে পরিচালকই আর রাজী হতে চান না উত্তম চ্যাটার্জীকে নিয়ে ছবি করতে । কিন্তু উত্তমকুমার যে নাছােড়বান্দা । তাছাড়া ততােদিনে বিয়ে করে বসেছেন । পিতা হয়েছেন একটি সন্তানের । ২৭৫ টাকার কেরানী কিছুটা বিকল্প উপার্জনের কথা ভেবেও মরীয়া হয়ে উঠেছেন কোনাে একটা সিনেমায় যে কোনাে রােল পাবার জন্যে । এমন সময় একদিন অফিসে বসেই খবর পেলেন ‘ মর্যাদা ’ নামের একটা ছবি হতে চলেছে যার নায়ক প্রদীপকুমার । কোনাে কারণে প্রদীপকুমার ‘ মর্যাদায় অভিনয় করতে রাজী হলেন না ।খবরটা পাওয়া মাত্র উত্তম ছুটলেন পরিচালক সরােজ মুখার্জীর কাছে । সরােজ মুখার্জী রাজী হলেন তাকে নিতে এবং নায়ক চরিত্রেই । শুধু বাধা একটাই । বার বার ফ্লপ হয় যার ছবি— তাকে নায়ক করলে প্রযােজক কেন অর্থ ঢালবেন ? তাই নামটা আবার বদলাতে হবে । অগত্যা এবার তার নাম হল অরূপকুমার ।

          কিন্তু নাঃ ! অরূপকুমার অভিনীত মর্যাদা ও ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করল না । দু - দুবার নাম পরিবর্তন , প্রাণপণ সাধনা , সবরকমের চেষ্টা সব । কিছু ব্যর্থ করে দিয়ে আবারও ফ্লপ করল ছবি । নায়কের ভূমিকায় । উত্তমকুমার ব্যর্থ প্রমাণিত হলেন । 

        বার বার পরাজয় । কিন্তু তবুও হাল ছাড়লেন না তিনি । সম্ভবত প্রযােজক সংস্থা এম পি স্টুডিও উত্তমের অভিনয় ক্ষমতায় লক্ষ্য করেছিলেন আগামী দিনের মহানায়ককে । তারা তাদের পরের ছবি ‘ ওরেযাত্রী ’ - তে নবাগত এই নায়ককে দ্বিতীয় সুযােগ দিতে চাইলেন । ওই একই বছর , অর্থাৎ ১৯৫১ সালে তিনটি ছবিতে সুযােগ পেলেন উত্তম । কিন্তু না ! একটি ছবিও হিট করল না । অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার কোনাে সম্ভাবনাই আর অবশিষ্ট রইল না । তার নাম হয়ে গেল । ফ্লপ মাস্টার জেনারেল । এর মধ্যে সহযাত্রী ’ ছবিতে তার নতুন নাম আবার পাল্টে হয়েছে উত্তমকুমার । 

        কিন্তু তাতেও কিছু হল না । এতােদিনের লালিত সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল । ঘরে বাইরে , আত্মীয় , বন্ধু , পরিচিত মহলে , অফিসে - প্রচ্ছন্ন ব্যঙ্গ আর বিদ্রুপের তীর নির্ভুল ভাবে বিদ্ধ করতে লাগল তাকে । তবু না । উত্তমকুমার হবেন যিনি ভবিষ্যতে তাকে তাে ভেঙে পড়লে চলবে না ।

        যথারীতি অফিসের কাজে নিজেকে ডুবিয়ে রেখে ব্যর্থতার গ্লানি ভুলতে চেষ্টা করতে লাগলেন । তবে , অব্যাহত রইল সুযােগের সন্ধান করে যাওয়া । পরের বছরই ‘ সঞ্জীবনী ’ ছবিতে নায়কের ভূমিকায় সুযােগ পেলেন । এবার তার নাম উত্তমকুমার । অরূপকুমার বদলে হয়েছিল । উত্তমকুমার সহযাত্রী ছবি থেকেই । কিন্তু তাতে প্রযােজক ভুললেও দর্শক ভুলল না । এবারও ছবি হল ফ্লপ । বিখ্যাত নায়িকা ও নামী দামী স্টার সমন্বয়ে তৈরি ছবিও ফ্লপ করল দর্শকদের নিরপেক্ষ বিচারে । অরুণ চ্যাটার্জী থেকে উত্তম চ্যাটার্জী , তা থেকে অরূপকুমার এবং অবশেষে উত্তমকুমার ।এতাে ভাবে নিজেকে বদলে ফেলেও সাফল্যের মুখ দেখতে পেলেন না মহানায়ক উত্তমকুমার । 

         সাধারণত যারা হাল ছেড়ে দিয়ে জীবনের খেলার মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান তাঁর জানতেই পারেন না যে তীরের একেবারে কাছ থেকেই ফিরে গেলেন তারা । উত্তমকুমার কিন্তু এই ভুলটা করেন নি । এইসময় বসু পরিবার নামে একটা ছবি করার কথা চলছিল । পরিচালক তাঁর পছন্দের নায়কদের ডেট পাচ্ছিলেন না , কারণ তারা নামী দামী ও ব্যস্ত নায়ক । উত্তম মনে সাহস এনে পরিচালক নির্মল দে - কে ধরে পড়লেন তাকে অন্তত একটা সুযােগ দেওয়া হােক । 

         উত্তমের মধুর ব্যবহার , আত্মবিশ্বাসে ভরপুর কথাবার্তা ও প্রচণ্ড নিষ্ঠা আর অধ্যবসায়ের সম্মান দিলেন তারা । এই ছবিতেও নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করলেন উত্তমকুমার । সবাইকে চমকে দিয়ে বসু পরিবার ’ হিট করে গেল । প্রতিটি দর্শকের মুখে মুখে ফিরতে লাগল উত্তমকুমারের নাম । পত্রপত্রিকা উত্তমকুমারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠল একেবারে । 

       এতােদিনে যে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছিলেন উত্তমকুমার , সেটা সত্যিই একটা জীবনপণ সংগ্রাম । ৬ বছরে মােট ৯ টা সিনেমা ফ্লপ করার পরও মনের জোর বজায় রেখে নিজের সবটুকু ক্ষমতা নিঙড়ে দিয়ে অভিনয় করার মধ্যে যে অদম্য মনােবল ছিল তাতেই শেষপর্যন্ত এলাে সাফল্য ।

         ‘ বসু পরিবারের ' পরিচালক সাহস করে ভূমিকা লিপিতে ‘ ফ্লপ মাস্টার ’ উত্তমকুমারের নাম দেননি । কিন্তু পরবর্তী ছবি ‘ সাড়ে চুয়াত্তর ’ ছবিতে বড়াে বড়াে করে ছাপানাে হল নায়কের ভূমিকায় উত্তমকুমারের নাম । নায়িকা নবাগত সুচিত্রা সেন । 

       এ ছবিতে সদ্য সফল নায়ক উত্তমকুমার প্রাণ ঢেলে অভিনয় করলেন । নবাগতা নায়িকার বিপরীতে কাজ করতে গিয়ে সব রকমের আড়ষ্টতাও কেটে গিয়েছিল । সম্পূর্ণ স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল হয়ে উঠলেন তিনি ‘ সাড়ে চুয়াত্তর ’ ছবিতে । জনপ্রিয়তায় সাড়ে চুয়াত্তর ’ ইতিহাস গড়ে তুলল । এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি । ১৯৮০ পর্যন্ত দাপটে অভিনয় করে গেছেন । রাষ্ট্রপতি পুরস্কার , ভারত সরকারের ভরত পুরস্কার , রাজ্য সরকারের পুরস্কার সহ অসংখ্য পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন । বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রিত হয়েছেন । কিন্তু সাফল্যে মাথা ঘুরে যায়নি তার । নিজের অতীত মনে রেখেই চিরদিন তিনি নবাগতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন । দুঃস্থ শিল্পীর সাহায্যে দুহাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি । 

       দীর্ঘ ৩৩ বছরের অভিনয় জীবনে ২০০ টি ছবিতে উত্তমকুমার প্রবল দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন । বাংলা চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন ১০০ বছরের দূরত্বে একাই । তার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ একটাই— নিরলস অধ্যবসায় । প্রতিভা অনেকেরই থাকে । কিন্তু ধৈৰ্য্য আর অধ্যবসায়ের অভাবে , প্রতিকূলতার ঝড়ে তা অঙ্কুরেই শুকিয়ে যায় । উত্তমকুমার কখনাে ধৈৰ্য্য হারান নি । হতাশার সমুদ্রে বসেও হাল ছাড়েন নি । প্রতিটি চরিত্রকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বােঝাবার চেষ্টা করেছেন । চরিত্রটি যাতে নিখুঁতভাবে রূপায়ণ করা যায় তার জন্য দিনের পর দিন সেই চরিত্রের খুঁটিনাটি প্রতিটি ব্যাপার নিয়ে ভেবে গেছেন । আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিজেই নিজেকে তালিম দিয়েছেন । সপ্তপদী ’ করার সময় তিনি দিনরাত শেক্সপীয়র আবৃত্তি করতেন । অথচ জানতেন ওথেলাের ওই অংশটুকু তিনি নয় , উৎপল দত্তকে দিয়ে বলানাে হবে । তবু শুধুমাত্র যাতে নিখুঁত অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে এইজন্যে তিনি এতাে পরিশ্রম করতেন । কোনাে ছবি রিলিজ হলেই হলের আশেপাশে । গােপনে ঘােরাঘুরি করতেন আর শুনে নিতেন দর্শকদের মতামত । পত্রপত্রিকার ফিল্ম সমালােচনার বিভাগের প্রতিটি লাইন মন দিয়ে পড়তেন । নিজের দোষত্রুটি পরের ঘাড়ে না চাপিয়ে নিজেই নিতেন ও তা সংশােধনের চেষ্টা করতেন নিজে নিজেই ।এসবই তাকে একদিন চূড়ান্ত সাফল্য এনে দিয়েছিল ।

        শুধু শিল্পী হিসাবে নয় , মানুষ হিসাবেও উত্তমকুমার ছিলেন এতােবড়াে যে কোনাে বিশেষণ দিয়েই সেই বিশালত্বকে প্রকাশ করা যায় না । 

        আসলে , একজন মানুষ প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে অনেক বাধার পাহাড় পার হয়ে । অনেক আগুনে নিজেকে পুড়িয়ে তবেই খনির সােনা হয় । খাঁটি সােনা । আজকে যারা অভিনয় জগতে নাম করতে চায় , তারা শুধু রূপােলি পর্দার রূপটুকুই দেখতে পায় তার আড়ালে যে বিপুল সংগ্রাম প্রচ্ছন্ন থাকে , তাকে কেউ মেনে নিতে চায় না । তাই ব্যর্থতাকে তারা । মেনে নিতে পারে না । উত্তমকুমারের জীবন ও আদর্শ সামনে রাখলে এদের জীবনের সব ব্যর্থতাই একদিন সফলতার সােপান হয়ে উঠতে পারবে নিঃসন্দেহে । 

     যে সয় সে রয় , যে  না সয় , সে নাশ হয় । 

                                                  –ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

Success Story :- This success story written by Jayanti Chakrabarti. This story revolves around Uttam Kumar like Uttam Kumar biography. We are collected this type success story that revive your lost mind. You get more success story on Bengali in our website and I think  all success story will take place in your mind. So please share this story to your friends and I sure they will also benefit from this success story. Thank you so much.  

Jogindar Singh Saluja ( যােগীন্দর সিং সালুজা ) | Bangla Motivational Success Story |

Jogindar Singh Saluja ( যােগীন্দর সিং সালুজা ) | Bangla Motivational Success Story |

তোমার লেখা গল্প বা কবিতা আমাদের Website এ প্রকাশিত করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারো আমাদের সাথে, আমাদের Email Id, "lovejunction506@gmail.com".আমরা তোমার Email এর অপেক্ষায় আছি । ততক্ষনে এই কবিতাটি তোমার জন্য ।  

 যােগীন্দর সিং সালুজা

       যােগীন্দর সিং সালুজা ওরফে বিটু খেলাধুলার জগতে আজ এক পরিচিত নাম । মিস্টার ইন্ডিয়া প্রতিযােগিতায় জাতীয় খেতাব জয়ী এই যুবক তিন তিনবার ভারােত্তোলন প্রতিযােগিতাতেও জাতীয় পুরস্কার ছিনিয়ে এনেছেন । 

        অথচ এই বিটু একজন প্রতিবন্ধী । দু - দুটি পা - ই পােলিওতে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তার । কিন্তু সেই ক্ষতি তার সুদে আসলে পুষিয়ে দিয়েছিল দুখানি পেশীবহুল হাত আর সুগঠিত অটুট স্বাস্থ্য । বিটুর বয়স যখন মাত্র ১০ মাস , পােলিও আক্রমণ করল তাকে । দুটি পা - ই অকেজো হয়ে গেল তার । 

      জ্ঞান হবার পর থেকেই নিজেকে সমাজ ও সংসারের এককোণে । পরিত্যক্ত , করুণার পাত্র হিসাবে দেখতে অভ্যস্ত যে ছেলে তার মনের কোনাে সংগােপনে জন্ম নিল এক দৃঢ় প্রতিজ্ঞা খাড়া হয়ে দাঁড়াতে হবে । এই পৃথিবীকে দেখিয়ে দিতে হবে আমিও পারি । দুটো পা অকেজো হয়ে গেছে বলে আমি ফেলনা নই , অকেজো , অপদার্থ , বর্জ্য পদার্থ নই এ সংসারে । আজ যার দিকে উপেক্ষা আর করুণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে মুখ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছাে তােমরা , একদিন তার দিকেই সম্ভ্রম আর প্রশংসা পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে হবে তােমাদের । যােগীন্দরের মনে প্রতিজ্ঞার জন্ম নিল সমাজের ঘৃণা আর অবহেলা থেকেই  ।

       ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত দু - পায়ে একের পর এক অপারেশন চালানাে হল যােগীন্দরের । ধীরে ধীরে সাড় ফিরে এলাে অসাড় প্রত্যঙ্গে কিন্তু খর্ব পায়ের ক্ষুদ্রতা দূর করা গেল না । এবার যােগীন্দর ভর্তি হল জিমন্যাসিয়ামে । এই পঙ্গু শরীরটাকেই সর্বশ্রীমণ্ডিত করে তুলতে হবে । তার জন্যে কঠিন সাধনা শুরু হল । সে এক দুর্দান্ত লড়াই— শারীরিক এবং মানসিক ।

       প্রথম যখন ক্ষুদে ক্ষুদে দুই পায়ের ওপর সােজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুই কাধে ভারী লােহার ডাম্বেল দুটো তুলে নিয়েছিল বিটু তখন চারপাশের সব্বাই হাে হাে করে হেসে উঠেছিল তাকে দেখে । তারা যতাে হাসত ততই জেদ চেপে যেত বিটুর । নিজেকে শক্তি যােগাবার জন্য বারবার মনে মনে পবিত্র মন্ত্রের মতাে সে আবৃত্তি করত— “ ম্যায় তাে চিতা হ্যা , কিসে তাে নহি ডর দে । আমি চিতাবাঘের মতাে নির্ভীক । কোনাে কিছুকে ভয় পাব না । 

       বর্তমানে বিটু ওরফে যােগীন্দর সিং ১৫০ কিলাে ওজন তানায়াসে তুলে ধরে দুই হাতে । তার পা দুটো আজ আর টলে না । তার চোখ ছাপিয়ে আজ আর জল আসে না । আজ সে সকলের প্রশংসা আর ভালােবাসার পাত্র ।

        ভারতশ্রী খেতাব যােগীন্দরকে যেমন দিয়েছে জীবনে প্রতিষ্ঠা ও সাধনার পুরস্কার তেমনি বিশ্বের প্রতিটি হালছাড়া হার মানা হতাশ মানুষের কানে পৌঁছে দিয়েছে এই মন্ত্র – নির্ভীক ভাবে , যদি একনিষ্ঠ সাধনা চালিয়ে যাও , তবে জীবনে যা কিছু চাও সবই একদিন সহজেই করায়ত্ত হবে তােমার । মানুষের অসাধ্য কিছু নেই । বিটুর জীবন তার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ । 

       নিজে প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করতে করতে যােগীন্দর সিং দেখেছে কিভাবে প্রতি পদে অবহেলিত , অপমানিত ও লাঞ্ছিত হতে হয় হতভাগ্য মানুষদের আমাদের এই অর্ধশিক্ষিত স্বার্থপর সমাজে । জানে , নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরকেই করতে হবে জেনে কিভাবে কতাে কষ্টে তাদের একটু একটু করে এগােতে হয় ।

      তাই বিটুর জীবনে এখন একমাত্র স্বপ্ন ও সাধনা হল শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি উন্নত মানের জিমন্যাসিয়াম তৈরি করা যেখানে তার প্রতিবন্ধী ভাইবােনরা স্বল্পব্যয়ে অথবা বিনা ব্যয়ে শরীর চর্চা করতে পারবে । নিজের পায়ের ওপর দাঁড়াতে পারবে খাড়া হয়ে মাথা তুলে পৃথিবীকে ডেকে দেখাতে পারবে— দ্যাখাে , আমিও পারি । আমরাও পারি ।

         I have found that if you love life , life will love you back .

                                                  - Arthur Rubinstein

Success Story :- This success story written by jayanti chakrabarti. This story revolves around Jogindar Singh Saluja. Jogindar Singh Saluja biography. We are collected this type success story that revive your lost mind. You get more success story on bengali in our website. And I think  all success story will take place in your mind. So please share this story to your friends and I sure they will also benefit from this success story. Thank you so much.    

শ্রুতি মেনন | Bangla Motivational Success Story | inspirational stories of success

শ্রুতি মেনন | Bangla Motivational Success Story | inspirational stories of success
তোমার লেখা গল্প বা কবিতা আমাদের Website এ প্রকাশিত করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারো আমাদের সাথে, আমাদের Email Id, "lovejunction506@gmail.com".আমরা তোমার Email এর অপেক্ষায় আছি । ততক্ষনে এই কবিতাটি তোমার জন্য ।  

শ্রুতি মেনন     

    মেয়েটির নাম শ্রুতি । শ্রুতি মেনন । ব্যাঙ্গালােরে একটি সাজানাে গােছানাে ছিমছাম ফ্ল্যাটে নিজের বাবা মায়ের সঙ্গে থাকত শ্রুতি । মাত্র ১৫/১৬ বয়স তার । কাছেই একটা নামী স্কুলে পড়ে শ্রুতি । পড়াশােনাতেও সে বেশ ভালাে । বাবা মা আর স্কুলের শিক্ষিকাদের চোখে একরাশ স্বপ্ন শ্রুতিকে ঘিরে । স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষায় নিশ্চয় খুব ভালাে ফল করবে সে স্বপ্ন দেখে শ্রুতি ।

       কিন্তু সহসা কোথা থেকে যেন ছুটে আসা এক উদ্দাম ঝােড়াে হাওয়া জীবনটাকে তার তছনছ করে দিল মুহূর্তে । 

       পাড়ার ছেলে রাজেশ । স্কুলে আসা যাওয়ার পথের ধারে প্রায় প্রতিদিনই দাঁড়িয়ে থাকত সে । প্রথম প্রথম শ্রুতি দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যেতাে । কিন্তু ক্রমে ক্রমে ব্যাপারটা বেশ সিরিয়াস হয়ে দাঁড়াল । 

       রাজেশ মস্তান টাইপের ছেলে । সে শ্রুতিকে প্রথম প্রথম নানারকম তােষামুদে কথাবার্তা বলে বাগে আনবার চেষ্টা করত । কিন্তু শ্রুতি একেবারেই পাত্তা দিচ্ছে না দেখে রাজেশের জেদ ক্রমশ বেড়ে যেতে লাগল । সে প্রতিদিন শ্রুতিকে শাসাতে লাগল এই বলে যে যদি তার কথা শ্রুতি না শােনে তবে তাকে সে চরম শাস্তি দেবে । 

      শ্রুতি শক্ত চরিত্রের মেয়ে । মেয়েমানুষ হলেও সে বুঝতে পেরেছিল এ ধরনের সমাজবিরােধী ছেলেদের সংস্রব কতােখানি বিপজ্জনক । তাই সে সাবধানে রাজেশকে এড়িয়ে চলত । এমনকি স্কুল যাবার একটা বিকল্প পথও সে বার করে নিল ।

       কিন্তু রাজেশ এতাে সহজে ছাড়বার পাত্র নয় । পরদিন বিকল্প এই পথের পাশেই যথাসময়ে তাকে দেখা গেল । এবার সে সরাসরি এসে দাঁড়াল স্কুলের পােশাক পরা বালিকাটির সামনে ।

      —আমি জানতে চাই , তুমি আমাকে বিয়ে করবে কিনা ! আচমকা এরকম ঘটনায় হকচকিয়ে গেল শ্রুতি । কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে কঠোর ও ঠাণ্ডা গলায় উত্তর দিল সে ,

      —প্রাণ থাকতেও নয় । 

      —তার কারণ ?

       —কারণ তােমাকে আমি ঘৃণা করি ।

       –বেশ , এর প্রতিফল তােমাকে পেতে হবে । 

        কথাটা শুনেও তেমন গুরুত্ব দিল না শ্রুতি । মাস্তানি মার্কা হাল্কা শাসানি ভেবে উড়িয়ে দেবার চেষ্টা করল ।

       পরদিন স্কুলের পােশাক পরে দ্রুত পায়ে এগিয়ে চলেছে শ্রুতি । হঠাৎ পথের ধারে ঝােপের পিছন থেকে সাঁ করে ছুটে এলাে একটা অ্যাসিড বাল্ব তার মুখ লক্ষ করে । মুহূর্তে কী ঘটে গেল ! অসহ্য যন্ত্রণায় তীব্র আর্তনাদ করতে করতে দু হাতে মুখ ঢেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল শ্রুতি এবং জ্ঞান হারাল তৎক্ষণাৎ |

       কয়েকদিন পর হাসপাতালে জ্ঞান ফেরবার পর শ্রুতি জানতে পারল অ্যাসিডে পুড়ে চিরদিনের মতাে নষ্ট হয়ে গিয়েছে তার চোখ আর কান । চিরদিনের মতাে অন্ধ আর বধির হয়ে গিয়েছে সে । সমস্ত মুখ , বুক আর মাথায় অসহ্য দাহ । চামড়া পুড়ে পুড়ে একটু একটু করে কুঁচকে যাচ্ছে আর সমস্ত উর্ধাঙ্গ ধারণ করছে এক বীভৎস রূপ । সে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্যের সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে । প্রতিটি মুহূর্তে মনে হচ্ছে এ নরক যন্ত্রণা সহ্য করে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যু অনেক ভালাে । 

       কিন্তু না , শেষপর্যন্ত হাল ছাড়ল না শ্রুতি । সে ভাবল এভাবে যদি সে জীবন থেকে পালিয়ে যায় তা হলে রাকেশের মতাে গুণ্ডা বদমাইশরা আরাে বেশি প্রশ্রয় পেয়ে যাবে । তাকে জিততেই হবে । তার জিত মানেই রাকেশদের হার । তাই এই যুদ্ধটা অর্থাৎ বেঁচে ওঠার যুদ্ধটা জিততেই হবে শ্রুতিকে যেমন করেই হােক ।

        কিন্তু এরকম রুগীকে সুস্থ করে তুলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে গেলে প্রচুর প্রচুর অর্থের প্রয়ােজন । শ্রুতির বাবা একজন দর্জি । তবু একমাত্র মেয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি নিজের সমস্ত সঞ্চয় উজাড় করে ঢেলে দিলেন । নিতান্ত ছেলেমানুষ শ্রুতির তীব্র মনের জোর আর চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখে সেদিন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানও । 

       সবার সহযােগিতা পেয়ে মনের জোর বেড়ে গেল শ্রুতির । দ্রুত সেরে উঠতে লাগল সে । যমের সঙ্গে প্রথম রাউন্ডের লড়াইয়ে বীরের মতাে বিজয়ীর হাসি হাসতে হাসতে হাসপাতাল থেকে একদিন ঘরে ফিরে এল শ্রুতি । 

      কিন্তু বাড়ি ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতাে অবস্থা হল তার ঘৃণায় - আতঙ্কে - লজ্জায় । নিজের অতিপ্রিয় কিশােরী শরীরটার দিকে আর তাকাতে পারল না সে একবারও । তবে কি সারাজীবন এই বিভৎস রূপ নিয়ে গৃহবন্দী হয়ে থাকতে হবে তাকে ? না , হার মানলে চলবে না ।

      কিছুতেই হার মানবে না সে । যতাে কষ্টই হােক- যতাে দিনই লাগুক ! শ্রুতির বাবা মা প্লাস্টিক সার্জেন্টের সঙ্গে কথা বললেন । ছ বছরে মােট ৩৯ বার অপারেশন করা হল তার শরীরে । ধীরে ধীরে ফিরে এলাে হারানাে রূপ । যদিও সম্পূর্ণ নয় তবু ৬ বছরের নিরলস চেষ্টায় অনেকটাই স্বাভাবিক চেহারায় ফিরে এলাে শ্রুতি । 

        শরীরের জন্য পড়াশােনায় বাধা পড়েছিল বলে টেনথ স্টান্ডার্ডের পরীক্ষাটাও দেওয়া হয়ে ওঠেনি তার । এ কারণে সবসময় হীনমন্যতায় ভুগত শ্রুতি । বয়সটাও অনেকটাই বেড়ে গেছে । এখন তাে আর স্কুলে অল্পবয়সী মেয়েদের সঙ্গে পড়তে যাওয়া সম্ভব নয় । 

        তবে কি মূখ হয়েই থাকবে সে আজীবন ? না , শ্রুতি কিছুতেই হার মানবে না । বাবা মা - এর সাহায্যে বইপত্র যােগাড় করে ঘরে বসেই পড়াশােনা করে পরীক্ষা দিল শ্রুতি এবং যথেষ্ট ভালাে নম্বর পেয়েই পাশ করল সে । এবার বাবাকে সাহায্য করার জন্য ঘরে বসে টেলিমার্কেটিংয়ের কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে লাগল শ্ৰতি । নিজের স্বােপার্জিত অর্থে সংসারকে সাহায্য করছে সে , একটু একটু পরিশোধ করতে পারছে চিকিৎসার জন্য হয়ে যাওয়া বিপুল ঋণ । এই চিন্তা থেকেই হারানাে আত্মবিশ্বাস একটু একটু করে ফিরে আসতে লাগল শ্রুতির মনে । সে বুঝতে পারল সেও পাচজনের মতােই সহজ সুস্থ , স্বাভাবিক একজন দায়িত্বশীল মানুষ । সেও পারে সংসারের দায়িত্ব নিতে , বাঁচতে , বাঁচাতে । 

       এখন শ্রুতি বড়াে একটি কোম্পানিতে চাকরি করে । আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ শ্রুতি সাধারণ হয়েও আজ অসাধারণ । অশুভ শক্তির সঙ্গে অসম যুদ্ধে সসম্মানে জয়ী হয়ে সে আজ সকলের আদর্শ , সমস্ত দুঃখী , দুর্গত ও উৎপীড়িত মানুষের কাছে এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা । 

         Real leaders are ordinary people with extraordinary determinations .

আমাদের আর ও মহিয়সীদের সফলতার কাহিনী :-

Success Story :- This success story written by  Jayanti chakrabarty.This story revolves around Sruti Menon like Sruti Menon biography. We are collected this type success story that revive your lost mind. You get more success story on Bengali in our website. And I think  all success story will take place in your mind. So please share this story to your friends and I sure they will also benefit from this success story. Thank you so much. 

একটি হার না মানা জীবনের গল্প | Ratri Menon | Best Powerful Motivational Success Story | Inspirational Stories Of Success

 একটি হার না মানা জীবনের গল্প | Ratri Menon | Best Powerful Motivational Success Story | Inspirational Stories Of Success

 রাত্রি মেনন 

       আর একটা ছােট্ট গল্প শােনাই হার না মানার । 

       ২২ বছরের তরুণী রাত্রি , রাত্রি মেনন বি এ পাশ করার পর ইনকাম ট্যাক্সের পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল এক দূরপাল্লার ট্রেনে চেপে । তীব্র গতি ছিল গাড়িটার । রাত্রি মাঝখানের প্যাসেজে দাঁড়িয়ে বেসিনে মুখ হাত ধুচ্ছিল । পাশেই খােলা দরজা । হঠাৎ কে বা কারা যেন এক ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল রাত্রিকে । কিছু বুঝে ওঠবার আগেই লােহার চাকায় গুড়িয়ে পিষ্ট হয়ে গেল রাত্রির ডান হাতখানা আর মেরুদণ্ডের হাড়খানা চৌচির হয়ে গেল ফেটে । 

       মুহূর্তে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল মেয়েটা । কিন্তু সহসা আবার আর একটা ট্রেনের গর্জনে জ্ঞান ফিরে এলাে তার । দেখল আবার আর একটা ট্রেন দৈত্যের মতাে ধেয়ে আসছে তার দিকে ওই একই লাইনের ওপর দিয়ে । 

        প্রাণপণে চেষ্টা করতে লাগল রাত্রি কোনােমতে শরীরটাকে লাইনের ওপর থেকে একটুখানি সরিয়ে নিয়ে যেতে । কিন্তু এমনই দুর্ভাগ্য তার যে একচুলও নড়াতে পারল না সে নিজেকে আর ভয়ঙ্কর যন্ত্রদানব তার একখানি পা গুড়িয়ে দিয়ে চলে গেল । 

        অর্ধমৃত অবস্থায় লাইনের ওপরই পড়েছিল রাত্রি মেননের ছিন্নভিন্ন দেহটা । কতােক্ষণ পর কে জানে একটা ইঞ্জিন চালিয়ে শান্টিংয়ে আনছিলেন এক ড্রাইভার । তারই প্রথম নজরে পড়ল । তিনি রাত্রিকে লাইন থেকে তুলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করে দিলেন । 

        ডাক্তাররা রাত্রির জীবনের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন । এমনকি তারা একথাও পরিষ্কার বলে দিয়েছিলেন যে যদিও বা কোনােমতে বাঁচেও , সারাজীবন রাত্রিকে বিছানায় শুয়ে থাকতে হবে । 

        ডাক্তারদের আলােচনা পৌঁছে গিয়েছিল রাত্রির কানে । মাত্র ২২ বছরের জীবনের তৃষ্ণায় ভরপুর এক তরুণী সে । সে কেন শুয়ে থাকতে যাবে সারাজীবন ? কতাে কাজ আছে তার করবার । পৃথিবী থেকে পাবার , পৃথিবীকে দেবার কতাে অফুরন্ত সম্ভাবনার ভাণ্ডার লুকিয়ে রয়েছে তার মধ্যে । সে কি সব ব্যর্থ হয়ে যাবে ?

      না , হাল ছেড়ে দিলে চলবে না । মনকে শক্ত করল রাত্রি । ঐকান্তিকভাবে প্রার্থনা করতে লাগল আমি বাঁচব , বাঁচব , বাঁচব ...। আর পাঁচজন সাধারণ মানুষ যেমন করে বাঁচে ঠিক তেমন সসম্মানে , সানন্দে , স্বনির্ভরতায় । 

       তীব্র ইচ্ছাশক্তির জোরে আশ্চর্য ফল ফলল রাত্রির জীবনে । অপারেশনের পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এল সে । 

       এরপর তার পায়ের সঙ্গে লাগিয়ে নেওয়া হল কাঠের এক নকল পা ও হাত । প্রথম প্রথম খুব যন্ত্রণা ও অসুবিধা হলেও প্রচণ্ড মনের জোরে ধীরে ধীরে রীতিমতাে সহজ হয়ে গেল তার এই কৃত্রিম হাত পা ব্যবহারের প্রণালী । 

        এবার নেমে পড়ল শ্রুতি প্রতিযােগিতার লড়াইয়ে । পর পর তিনটি পরীক্ষা দিল সে ইনকাম ট্যাক্স - এ এবং প্রতিবারই প্রথম স্থান অধিকার করে নিল । বর্তমানে রাত্রি ইনকাম ট্যাক্সের ইন্সপেক্টর হিসাবে ভারত সরকারের অধীনে কর্মরত । 

      পৃথিবীর কাছে প্রমাণ করে দিয়েছে সে তার যােগ্যতা । সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে মনের জোর হল এমন এক আশ্চর্য অলৌকিক শক্তি যা যে কোনাে পরিস্থিতিতে , যে কোনাে মুহূর্তে যে কোনাে মিরাকল ঘটিয়ে দিতে পারে । যেমন ঘটেছে তার নিজের জীবনে । 

         Adversity is the diamond dust that heaven polishes its jew els with 

                                                                     - Leighton

বিঠোফেনের সফলতার কাহিনী | Best Powerful Motivational Success Story | Inspirational stories of success

বিঠোফেনের সফলতার কাহিনী | Best Powerful Motivational Success Story | Inspirational stories of success

 বিঠোফেন 

      পৃথিবীর মানুষ তাঁকে চেনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে । পুরােনাম লাডুইগ ভন বিঠোফেন । হাজার হাজার দর্শক ঘণ্টার পর ঘণ্টা মন্ত্রমুগ্ধের মতাে শুনতাে তাঁর পিয়ানাের সুর আর বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেত । আজও তার সিম্ফনীগুলি বিশ্বের যে কোনাে সুররসিক ব্যক্তির কাছে এক অমূল্য সম্পদ । সে সুর শােনা এক অনির্বচনীয় অভিজ্ঞতা । 

       কিন্তু ভাবতে পার ? অদৃষ্টের এমনই পরিহাস যে সারা পৃথিবী যাঁর সুরে মুগ্ধ সেই বিঠোফেন নিজেই কখনাে শুনতে পাননি তার নিজের রচিত শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতগুলাে । কারণ তার আগেই তিনি সম্পূর্ণ বধির হয়ে গিয়েছিলেন । কিন্তু হাল ছাড়েন নি । নির্মম ভাগ্যের কাছে নতিস্বীকার করেন নি । বরং আরাে নিষ্ঠা , আরাে একাগ্রতার সঙ্গে মগ্ন হয়ে গিয়েছিলেন সঙ্গীত সাধনায় ।

         ১৭৭০ সালে জার্মানীতে জন্ম বিঠোফেনের । সঙ্গীত শিল্পী বাবার কাছেই পিয়ানােয় হাতে খড়ি তার । মাত্র ২/৩ বছর বয়স থেকেই বাবার দেখাদেখি দিনরাত পিয়ানাে নিয়ে নাড়াচাড়া করতেন । খেলাচ্ছলে যেমন খুশি আঙুল চালাতেন পিয়ানাের বুকে । আর এমনি করতে করতেই কখন সবার অজ্ঞাতে বিঠোফেন হয়ে দাঁড়ালেন একজন পাক্কা শিল্পী । মাত্র দশ বছর বয়সেই সারা দেশে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল তার । 

        হঠাৎ মা মারা গেলেন । বাবা তাকে পাঠিয়ে দিলেন বাের্ডিং স্কুলে । সেই স্কুলেই একদিন বিঠোফেনের দেখা হয়ে গেল বিখ্যাত সুরকার যােশেফ হেডেনের সঙ্গে । যােশেফ বিঠোফেনের বাজনা শুনে অবাক হয়ে গেলেন । 

        এরপর যােশেফের পরামর্শে ভিয়েনায় চলে এলেন বিঠোফেন । ভিয়েনা সঙ্গীতের পীঠস্থান । যােশেফের সাহায্যে একের পর এক রচনা করতে লাগলেন আশ্চর্য সব শিম্ফনী । ভিয়েনায় গুণগ্রাহীর অভাব নেই । হাজার হাজার শ্রোতা টিকিট কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মুগ্ধ হয়ে বসে । এইসব শিম্ফনী বা সুরলহরী শুনে যেত আর বিস্ময়ে নির্বাক হয়ে ভাবত এমন স্বর্গীয় সুর এতােটুকু একটা ছেলের হাত থেকে বের হওয়াও কি সম্ভব ? 

        সহসাই দুর্ভাগ্য নেমে এলাে বিঠোফেনের জীবনে । এমন দুর্ভাগ্যের কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি বিঠোফেন । ফিফথ ও সিক্সথ শিম্ফনী রচনার সময় তিনি বুঝতে পারলেন যে একটু একটু করে বধির হয়ে যাচ্ছেন । যা বাজাচ্ছেন তার সবটুকু যেন তার কানে পৌছচ্ছে না । যেন দূর থেকে ভেসে আসা পথিকের গানের মতাে তা ক্রমশ একটু একটু মিলিয়ে যাচ্ছে দূর থেকে আরাে দূরে । 

       বাচ্চা হলেও বুদ্ধিমান বিঠোফেন বুঝতে পারলেন কি হতে চলেছে । কিন্তু ভেঙে পড়লেন না । একজন শিল্পী যদি সুর শুনতেই না পায় তবে কেমন করে সৃষ্টি করবে সে ? 

      তবু হাল না ছেড়ে দিনের পর দিন আরাে বেশি সময় দিয়ে মগ্ন হয়ে রইলেন সুরে । প্রতিটি নােট বা স্বরলিপির সুর যেন হৃদয়ের মধ্যে একেবারে গেঁথে নিতে চাইলেন যাতে কোনাে ভুল না হয় ।

      সপ্তম অষ্টম শিম্ফনী রচনা হয়ে গেল অতি দ্রুততার সঙ্গে । কিন্তু নবম সিম্ফনী রচনা শেষ হবার আগেই সম্পূর্ণ বধির হয়ে গেলেন তিনি । 

       তবু থামলেন না । সম্পূর্ণ আন্দাজে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসে ভর করে শেষ করলেন নাইনথ শিম্ফনী । 

      কাজ শেষ করে বিষন্ন শান্ত মনে বসেছিলেন বিঠোফেন । কাউকে ডেকে শােনাবার কথা মনে হবার আগে ভাবছিলেন কি জানি কেমন হয়েছে এই গান । হয়তাে শ্রোতারা শুনে বলবে বিঠোফেনের আগের সৃষ্টির তুলনায় এটি একেবারেই নিকৃষ্ট হয়েছে । অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসী মনটি বলল- না না- হৃদয়ের সুরে বাঁধা সঙ্গীত , মানুষের ভালাে লাগবেই লাগবে । 

       যাই হােক , ফুলের সুরভী চাপা থাকে না । মানুষ বিঠোফেনের নাইনথ শিম্পনী শুনল এবং সবাই একবাক্যে বলল- এইটাই বিঠোফেনের সমস্ত শিম্ফনী মধ্যে শ্রেষ্ঠ । অন্য কিছু না করে বিঠোফেন যদি শুধু এই নাইনথ শিম্ফনী টুকুই রচনা করতেন তা হলেও জগতে তিনি অমর হয়ে থাকতেন । ঠিক যেমন অমর হয়ে আছেন আজ , সরস্বতীর বরপুত্র বধির বিঠোফেন । বধির হয়েছিলেন বলেই বিশ্বসংসারের কল কোলাহল থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে এনে একটি মাত্র বিষয়ের প্রতি পুরােপুরি মগ্ন হতে পেরেছিলেন । আর তাই পেয়েছিলেন সাধনায় অভূতপূর্ব সিদ্ধি । 

                                ' Every cloud has a silver line !'

আমাদের আর ও মহিয়সীদের সফলতার কাহিনী :-

কালিদাসের সফলতার কাহিনী | Kalidash bangla success story | Bangla motivational success story |

কালিদাসের সফলতার কাহিনী | Kalidash bangla success story | Bangla motivational success story |

 কালিদাস

       মহাকবি কালিদাসের নাম শুধু তোমরা কেন পৃথিবীর যে কোনাে শিক্ষিত ব্যক্তিই শুনেছেন । অনেকেই পড়েছেন তাঁর কাব্য । বিশ্বের পণ্ডিত ব্যক্তিরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন কালিদাসের লেখা অভিজ্ঞান শকুন্তলম , মেঘদূত , কুমারসম্ভব প্রভৃতি কাব্য- অপূর্ব , বিশ্বের সেরা সাহিত্যের অন্যতম । 

      এহেন মহাপণ্ডিত মহাকবি কালিদাস যে প্রথম জীবনে একজন আকাট মূর্খ লােক ছিলেন তা বােধহয় অনেকেই জান না ।

      কালিদাসের জীবনের সেই উত্তরণের গল্প যেমন আশ্চর্য তেমনি শিক্ষণীয় । 

       বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের উজ্জয়িনী ছিল গুপ্তরাজ চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্যের রাজধানী । ঐতিহাসিকরা গুপ্ত যুগকে বলেন ভারতের সুবর্ণ যুগ , শিল্পে , সাহিত্যে , দর্শনে , বিজ্ঞানে , বাণিজ্যে সব বিষয়েই চরম সাফল্য এসেছিল এই যুগে । পুরুষরা তাে বটেই পরিবারের মেয়েরাও লাভ করতেন উচ্চশিক্ষা । তাদের সবাই খুব সম্মানও করত । 

        উজ্জয়িনী রাজ্যেরই কোনাে এক রাজকন্যা ছিলেন রত্নাবলী । তিনি যেমন সুন্দরী তেমনি বিদূষী । দেশবিদেশের রাজপুত্ররা আসত তাঁকে বিয়ে করতে , কিন্তু রাজকন্যা তাদের তর্কযুদ্ধে হারিয়ে একেবারে নাস্তানাবুদ করে ছেড়ে দিতেন । দিনের পর দিন বড়াে বড়াে রাজা , রাজপুত্রেরা বিদূষী রাজকন্যার বিদ্যাবুদ্ধির কাছে গােহারা হারতে হারতে একসময় জোট বাঁধলেন । সবাই মিলে ঠিক করলেন রাজকন্যার বিদ্যার অহংকার ভাঙতেই হবে । প্রতিশােধ নেওয়ার জন্য তারা গভীর ষড়যন্ত্র করে এক আকাট মূর্খ দরিদ্র ব্যক্তির সঙ্গে রাজকন্যার বিয়ে দিয়ে দিলেন । ওই ব্যক্তি আর কেউ নন স্বয়ং কালিদাস । 

        যাই হােক , বিয়ে তাে হয়ে গেল । কিন্তু বাসর রাত্রেই স্বামীর সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে রাজকন্যা বুঝতে পারলেন একজন গণ্ড মুখের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে তাঁর । বুঝতে পারলেন অপমানিত প্রত্যাখাত রাজপুত্রেরা এভাবেই প্রতিশােধ নিয়েছে । কিন্তু তাই বলে একজন গণ্ড মূর্খকে স্বামী বলে সারাজীবন মেনে নিতে হবে— এ ব্যবস্থাও তিনি মেনে নিতে পারলেন না । অপমান করে সেই রাত্রেই স্বামীকে রাজপ্রাসাদ থেকে তাড়িয়ে দিলেন রত্নাবলী । 

      মূর্খ হলেও স্ত্রীর এই অপমানে মর্মান্তিক দুঃখ পেলেন কালিদাস । তিনি ভাবলেন এই লাঞ্ছিত জীবন তিনি আর রাখবেন না । বেশ তাে ছিলেন তিনি । মূর্খ হােন , দরিদ্র হােন নিজের মতােই ছিলেন । রাজপুত্ররাই তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কৌশলে রাজকন্যার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন । এবার বন্ধুবান্ধব , আত্মীয়স্বজন কারাে কাছে কি তিনি আর মুখ দেখাতে পারবেন ? সবাই বিদ্রুপ করবে , করুণা করবে , মজা দেখবে ; নাঃ এ ঘৃণিত জীবন আজ রাতেই ওই নদীর জলে ডুবে ত্যাগ করবেন তিনি ।

       মাথা নীচু করে একমনে উজ্জয়িনীর রাজপথ ধরে হেঁটে চলেছেন কালিদাস । বুকের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলছে অপমানের তীব্র জ্বালা । চলতে চলতে একসময় শিপ্রা নদীর তীরে এসে দাঁড়ালেন তিনি । সামনে , একটু নীচেই পাহাড়ের কোল বেয়ে বয়ে চলেছে শিপ্রা । স্নিগ্ধ , শীতল , গভীর কালাে জল তার । কালিদাসের মনে হল যেন সেই জল মায়ের মতাে পরম মমতায় হাতছানি দিয়ে তাকে ডাকছে । যেন তার স্নিগ্ধ শীতল স্পর্শেই সব জ্বালা , সব লজ্জা জুড়িয়ে যাবে তার এখনি । পাথরে পাথরে পা রেখে , পায়ে পায়ে নীচে নেমে এলেন কালিদাস । পায়ের কাছে জল । জলের একেবারে কোল ঘেঁসে পড়ে থাকা একটা বড়াে পাথরের খণ্ডের ওপর একটু বসলেন কবি । জলের স্পর্শে আর নদীর ঠাণ্ডা বাতাসে মনের ভার একটু হাল্কা হয়ে এল তার । মনে পড়ল— বাপ মায়ের কথা । মনে পড়ল শৈশবের সাথীদের কথা । দুচোখ জ্বালা করে উঠল তাঁর । ঝর ঝর করে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল দুগাল বেয়ে । পরনের কাপড় দিয়ে দুচোখ মুছে চুপ করে বসে বসে ভাবতে লাগলেন । তিনি ছােটবেলাকার নানা কথা । 

        চারিদিকে ইতস্তত ছড়ানাে আছে ছোটো বড়াে নানা আকারের পাথর । এদের মধ্যে একটা বেশ বড়াে পাথরের দিকে চোখ পড়তে বেশ অবাক হয়ে গেলেন কালিদাস । পাথরটা অন্য পাথরগুলাের তুলনায় বেশ মসৃণ , চওড়া আর ঝকঝকে পরিষ্কার । কালিদাস আপন মনে বসে বসে ভাবতে লাগলেন কেন এমনটা হল । অন্য পাথরগুলাে এমন এবড়াে খেবড়াে অথচ এই পাথরটা হঠাৎ এতাে মসৃণ হলাে কেমন করে ?

      হঠাৎ বিদ্যুত চমকের মতাে তার মনে পড়ে গেল একদিনের কথা । আনমনে নদীর তীরে বেড়াতে বেড়াতে সেদিন তিনি দেখেছিলেন পল্লীর মেয়েরা দলবেঁধে নদী থেকে জল নিতে এসেছে । সেদিন তারা যখন বসে বসে গল্প করছিল কিংবা নদীতে স্নান করতে করতে সাঁতার কাটছিল , তখন তাদের জলভরা পিতলের কলসীগুলাে তাে ওখানেই ওই বড়াে পাথরটার ওপরেই রাখা ছিলাে । দিনের পর দিন এভাবেই রাখতে রাখতে ঐখানে পাথর ক্ষয়ে গিয়ে ওরকম মসৃণ আর পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে । অন্য পাথরগুলাের মতাে তার ওপর কোথাও একটি ফোটাও শেওলা জমে নেই ।

      কালিদাস ভাবতে লাগলেন বসে বসে । দিনের পর দিন , বছরের পর বছর কলসী রাখতে রাখতে একসময় রুক্ষ পাথর ও ক্ষয়ে গিয়ে মসৃণ হয়ে গেল । তাহলে মানুষের মগজ কি পাথরের চেয়েও কঠিন ? দিনের পর দিন চেষ্টা চালিয়ে গেলে তিনিও কি মূর্খ কালিদাস থেকে পণ্ডিত কালিদাস হয়ে উঠতে পারবেন না ? 

       সেদিন শেষরাত্রে বাড়ি ফিরলেন তিনি । দরিদ্র পল্লী , পাতার কুটির । নিঃশব্দে নিজের ঘরে প্রবেশ করে দ্বার বন্ধ করে দিলেন তিনি । শুরু হয়ে গেল নীরব সাধনা । সবার অগােচরে । একে একে সমস্ত শাস্ত্র পাঠ করে সবার অলক্ষ্যেই মহাপণ্ডিত হয়ে উঠলেন তিনি । মুখে মুখে রচনা করতে লাগলেন অপূর্ব সুন্দর সব শ্লোক । ভূর্জ পত্রের ওপর শরের কলম দিয়ে একে একে রচনা করতে লাগলেন ঋতুসংহার , কুমারসম্ভব , বিক্রমাের্বশী , মেঘদূত , শকুন্তলা ।

       প্রতিভা কখনাে চাপা থাকে না । একদিন সম্রাট বিক্রমাদিত্যের কানে ঠিক পৌছে গেলাে তার কথা । সাদরে মহাকবিকে ডেকে নিজের সভায় বরণ করে নিলেন তিনি । কালিদাস হলেন- সম্রাটের নবরত্ন সভার সর্বশ্রেষ্ঠ রত্ন । 

      আর রত্নাবলী ? ততােদিনে ভুল ভেঙেছে তার । ভেঙেছে বিদ্যার অহংকারও । মহাপণ্ডিত মহাকবি কালিদাসকে স্বামীত্বে বরণ করে নিয়ে ভাগ্যবতী রাজকন্যা নিজেকে ধন্য মনে করলেন । 

     ‘ নহি সুপ্তস্য সিংহস্য প্রবিশান্তি মুখে মৃগাঃ '

        —ঘুমন্ত সিংহের মুখে হরিণ নিজে এসে প্রবেশ করে না ।

                                                সমাপ্ত 

সৌরভ গাঙ্গুলী এর সফলতার কাহিনী | Sourav Ganguly Success Story In Bengali | Bangla Motivational Success Story

সৌরভ গাঙ্গুলী এর সফলতার কাহিনী | Sourav Ganguly Success Story  In Bengali | Bangla Motivational Success Story

 Bangla success story :- This success story written by jayanti Chakraborty. This story revolves around Sourav Ganguly like Sourav Ganguly biography. Sourav Ganguly life story in bengali. We are collected this type success story that revive your lost mind. You get more success story on Bengali in our website. And I think all success story will take place in your mind. So please share this story to your friends and I sure they will also benefit from this success story. Thank you so much. 

সৌরভ গাঙ্গুলী

      নামটি পড়েই নিশ্চই তােমরা ‘ দাদা ’ ‘ দাদা ’ বলে লাফিয়ে উঠেছ । ঠিকই তো , সারা পৃথিবীতে ব্যাটসম্যান অনেক আছেন , ক্যাপ্টেনও অনেক । তাদের রান আর সেঞ্চুরির সংখ্যাও চমকে যাবার মতাে , কিন্তু ‘ দাদা একজনই । 

      সৌরভ সারা ভারতকে এক গভীর , পবিত্র আবেগের একসূত্রে বাঁধতে পেরেছিলেন । সে আবেগের নাম দেশাত্মবােধ । 

      সৌরভ দেখিয়ে দিয়েছেন আমরাও পারি । শুধু পিঠ বাঁচাতে আর মার খেতে নয় , আমরাও তাে পারি অস্ট্রেলিয়া , দক্ষিণ আফ্রিকা , পাকিস্তানের মতাে দলগুলােকে পিটিয়ে ছাতু করে দিতে । আমরা কিস্যু নয়— আমাদের কিছুই হবে না এই মনমরা হাল ছাড়া ভাবটা যুব সমাজের বুক থেকে ভুস্ করে উধাও হয়ে যেত ব্যাট হাতে মহারাজ যখনই দাঁড়াতেন এসে বাইশ গজের রাজ্যপাটের মাঝখানে । তার সঙ্গে খেলত সারা ভারত । জয় , পরাজয়ে , আনন্দে , বিষাদে এক হয়ে যেত । ভারতীয় ক্রিকেটকে তিনি এক অতি উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ আসনে বসিয়ে দিতে পেরেছেন । বিশ্ববাসীর কাছে পেয়েছেন অকুণ্ঠ প্রশংসা ভালােবাসা আর সম্মান । তিনিই ভারতের সর্বকালের সবচেয়ে সফল শ্রেষ্ঠ অধিনায়ক । কিন্তু কত যে যন্ত্রণা , কত সূক্ষ্ম অপমান , কত নিমর্ম উপেক্ষা আর অবহেলার দুঃখ যে তাকে নীরবে সহ্য করতে হয়েছে , নিজেকে বার বার প্রমাণ করতে হয়েছে নীতিভ্রষ্ট , অযােগ্য , একপেশে বিচারকদের সভায়— সে ইতিহাস জানলে তার প্রতি আরাে বেশি শ্রদ্ধায় , আরাে বেশি ভালােবাসায় ভরে যাবে তােমাদের অন্তর ।

       বেহালার বীরেন রায় রােডের এক আপাদমস্তক ক্রীড়ানুরাগী এবং ধনী পরিবারে সৌরভের জন্ম । ডাক নাম মহারাজ । ছেলেবেলায় ভালাে ফুটবল খেলতেন । দাদা স্নেহাশীষ ও ভালাে খেলােয়াড় । বাড়ির মধ্যেই অনুশীলনের জন্যে বাবা চণ্ডী গাঙ্গুলী সব রকম ব্যবস্থা করে দিয়েছেন । 

      হঠাৎ করেই কোচ দেবু মিত্রের চোখে পড়ে গেলেন । ছেলেটির মধ্যে বিপুল সম্ভাবনার অংকুর দেখতে পেয়ে নিজেই উপযাচক হয়ে এগিয়ে এলেন দেবু মিত্র । শুরু হয়ে গেল প্রশিক্ষণ-- ব্যাটে বলে । বয়স বাড়বার সঙ্গে সঙ্গে খেলাতেও ফুটতে লাগল জৌলুস । বাঁ হাতে খেলেন , দ্রুত খেলেন । হাতে দিব্যি রান আছে । কিছু ব্যাটসম্যান আছেন যারা রান তােলার চেয়ে ক্রীজে টিকে থাকাটাই বেশি পছন্দ করেন । সৌরভ তাদের দলে নন । তিনি খেলেন পিটিয়ে । চুটিয়ে । ঘন ঘন ছক্কা আর চারের উল্লাসে ফেটে পড়ে দর্শকের গ্যালারি । একইসঙ্গে বলও করেন দুর্ধর্ষ । স্বাভাবিক ভাবেই ভারতের ক্রিকেট অভিভাবক মহলের চোখ পড়ল তার দিকে । ক্রিকেট বাের্ডের প্রেসিডেন্ট তখন জগমােহন ডালমিয়া । ভারি ভালাে লেগে গেল তার ছেলেটিকে । প্রধানত তারই সুপারিশে এবং অবশ্যই আঞ্চলিক ম্যাচগুলিতে পারফরম্যানসের রেকর্ডের জোরে জাতীয় ক্রিকেট দলে সুযােগ পেয়ে গেলেন সৌরভ । তখন তার বয়স মাত্র আঠারাে বছর । সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে বি কম পড়ছেন । ১৯৯২ সাল সেটা ।অস্ট্রেলিয়া সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একটিমাত্র ম্যাচে খেলার সুযােগ পেলেন তিনি । ভাগ্য প্রতিকূল । মাত্র ৩ রানেই আউট হয়ে গেলেন ।

        বাদ পড়াটা স্বাভাবিক । পড়লেনও । কিন্তু অনেক মিথ্যা অপবাদও জুড়ে গেল তার নামের সঙ্গে । তিনি অহংকারী । দলের সঙ্গে মিশতে চান না , অলস , মাঠের মধ্যে জল বয়ে নিয়ে যেতে অস্বীকার করেছেন । ইত্যাদি ইত্যাদি । 

       সহযােগী ক্রিকেটাররা ব্যঙ্গ করে বললেন- বড়ােলােকের ছেলে । তাে , স্বয়ং মহারাজ ... কাজেই ...

      আসলে যারা এতটুকু উন্নতির আশায় কর্তাদের তৈলমর্দন করেন দিনরাত , সৌরভ সেই প্রজাতির অমেরুদণ্ডী প্রাণী নন । তিনি হলেন প্রকৃত অর্থেই আর্যসন্তান ; বীর ও ব্যক্তিত্ববান পুরুষ । খেলােয়াড় হিসেবে নিজের খেলাটাকে ছাড়া আর কিছুকেই গুরুত্ব দিতে রাজী নন । 

        চার বছরের জন্য জাতীয় দলে খেলার সুযােগ থেকে বঞ্চিত করা হল তাকে । সৌরভ ভেঙে পড়লেন না । জীবনের প্রথম পদক্ষেপেই এইরকম আঘাত পেয়ে যে রকম উদ্যমহীন হয়ে পড়ার কথা তিনি তা মােটেই হলেন না । বরং প্রতিদিন নিয়মিত কঠোর অনুশীলন করে নিজের দোষত্রুটিগুলাে একে একে দূর করে ফেললেন । 

       জনশূন্য ফাকা ইডেনের মাঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্র্যাকটিশ করতেন । তারপর বাড়িতে এসেই সেই খেলার রেকর্ডিং দেখতে বসে যেতেন । খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে দেখে নিজের ভুল ত্রুটিগুলি সযত্নে খুঁজে খুঁজে বার করতেন আর প্রতিজ্ঞা করতেন পরদিনের প্র্যাকটিসে একই ভুল আর করবেন না ।

       এইভাবে সাধনায় আর সংগ্রামে কেটে গেল নির্বাসনের চারটি বছর । ১৯৯৬ সাল । আবার জাতীয় দলে ফিরে এলেন সৌরভ । নির্বাচিত হলেন ইংল্যান্ড সফরের জন্য । জীবনে এই দ্বিতীয় সুযােগ । কোনােমতেই একে হারালে চলবে না । নিজেকে প্রমাণ করতেই হবে । না হলে পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাবে চিরতরে । 

      কঠিন প্রতিজ্ঞা বুকে নিয়ে দলের সঙ্গে এগিয়ে চলেছেন বিমানে ওঠার সিঁড়ির দিকে । হঠাৎ কানে এসে লাগল তীক্ষ্ণ ছুচের মতাে মন্তব্য ‘ দূর ! দূর ! ডালমিয়ার কোটার ক্রিকেটার । ও আবার কি করবে । ইংল্যান্ডে গিয়ে মার্কেটিং টার্কেটিং করে ফিরে আসবে ।'

      অপমানে দুকান গরম হয়ে গেল যেন আগুনের মতাে জ্বলতে লাগল সারা মুখ , সারা সত্তা । কিন্তু না , হার মানলেন না তিনি । এ আগুনে নিজে না ছাই হয়ে বরং এই আগুনের আঁচেই নিজের প্রতিজ্ঞাকে আরাে বেশি করে তাতিয়ে নিলেন সৌরভ । 

       ইংল্যান্ডের লর্ডসে , জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক মাঠে টেস্ট খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি করে ফেললেন । পরের টেস্ট টেন্টব্রিজে । আবার সেঞ্চুরি । অভিষেকেই এই অভূতপূর্ব সাফল্য , জাতীয় ক্রিকেটে তার আসন পাকা করে দিল । এবার তিনি নিশ্চিন্ত মনে খেলে যেতে পারবেন ,এরকম কথা অনেকেই ভাবলেন সেদিন । কিন্তু দুর্নীতি আর প্রাদেশিকতার কালরােগ তখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে জাতীয় ক্রিকেট বাের্ডের অন্দরমহলে । সবসময় তারা ছিদ্র খুঁজে যেতে লাগলেন কি করে এই দুর্বার বাঙালির ছেলেটাকে কোণঠাসা করা যায় । 

        কিন্তু সৌরভ যে ক্রমাগতই ছড়িয়ে পড়ছেন কৃতিত্বের দিকদিগন্ত জুড়ে । টরেন্টোয় পরপর চারটে ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলেন । ১৯৯৯ - এর বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১৮৩ রান করলেন । এতাে ভালাে পারফরম্যান্স তবু নিন্দা আর সমালােচনা তার পিছন ছাড়েনি কোনােদিন । যতােবড়াে ক্রিকেটারই হােন না কেন প্রতিটি ম্যাচেই তিনি সেঞ্চুরি করতে পারেন না । কারণ খেলােয়াড় মাত্রেই মানুষ— যন্ত্র নয় । অথচ বড়ােমাপের খেলােয়াড়ের কাছে মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি । যখনই সেই প্রত্যাশার তুলনায় কম রান করছেন তখনই মুখর হয়ে উঠছে নিন্দুকরা । 

       সৌরভের মাথার ওপরে তার ক্রিকেট জীবনের ১৩ টা বছর সমানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল একটা উদ্যত খাড়া । কখনাে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সাত নম্বরে , কখনাে বলা হয়েছে শুধু ব্যাটসম্যান নয় , এবার ভালাে বােলার হিসেবেও নিজের যােগ্যতা প্রমাণ করতে হবে । কখনাে বলা হল ওপেন করতে পারলেই দলে সুযােগ পাবে । সব পরীক্ষাতেই সসম্মানে উত্তীর্ণ হলেন তিনি । 

       অবশেষে সত্যের কাছে হার মানতেই হল দুষ্টচক্রকে । ২০০০ সালে সৌরভ গাঙ্গুলী হলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক । দল তখন ধুকছে । ম্যাচ গড়াপেটার দুষ্টখেলায় এক নম্বর দল । অন্তর্দ্বন্দ্বে , দলাদলিতে , পারফরম্যান্সে সবদিকেই ভারতীয় দলের তখন চরম অবক্ষয় । এই অবস্থায় সব দায়দায়িত্ব হাসিমুখে মাথায় তুলে নিলেন সৌরভ । 

      অধিনায়কের সবগুলি গুণই তার মধ্যে বর্তমান । সৌরভের নেতৃত্বে , পক্ষপাতিত্ব হীন সহমর্মী মনােভাব দলের মধ্যে এক অভূতপূর্ব টিম স্পিরিট গড়ে তুলল । তিনি একের পর এক নতুন প্রতিভা খুঁজে এনে দলকে সমৃদ্ধ করলেন । যুবরাজ , হরভজন , ধােনী , জাহির খান বর্তমান জাতীয় দলের মাঠ কাঁপানাে খেলােয়াড় যাঁরা— সবই সৌরভের আবিষ্কার । কয়েক বছরের মধ্যে দলের ভেতরকার সব ভূত তাড়িয়ে দলকে চাঙ্গা করে তুললেন তিনি । আসতে লাগল একের পর এক জয় । ২০০২ - এ ইংল্যান্ডে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনাল । ইংল্যান্ডকে একেবারে গুড়িয়ে নিলেন সৌরভ । আনন্দে উদ্বেল অধিনায়ক লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে গা থেকে খুলে ফেললেন জার্সি । ওড়াতে লাগলেন হু হু হাওয়ায় । 

       বিশ্বক্রিকেটের ইতিহাসে এই অভিনব দৃশ্য অমর হয়ে রইল । অমর হয়ে রইল ভারতীয়দের মনের মণিকোঠায় । ঠিক আগের বছরই ২০০১ - এ পৃথিবীর সেরা দল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জিতল । অষ্ট্রেলিয়ায় হল ড্র । একটি ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেন সৌরভ ।

        কিন্তু অধিনায়কের বিরাট দায়িত্ব , সেইসঙ্গে দর্শকের প্রত্যাশার বিপুল চাপে সৌরভের ব্যক্তিগত খেলার মান সর্বদা ঠিক থাকছিল না । ২০০৫ - এ জিম্বাওয়ে সফরে এসেছে ভারত । সেটা জুন মাস । কোচ গ্রেগ চ্যাপেল বললেন , অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে । 

       কিন্তু কেন ? সৌরভ কিছুতেই বুঝতে পারলেন না তাঁর খামতিটা কোথায় ? চ্যাপেলের কথার উত্তরে তিনি তার হাতে তুলে দিলেন নিটোল একটি সেঞ্চুরি । মান - অভিমান বা বাদানুবাদ নয়— সৌরভ তার সব উত্তর দিয়েছেন ব্যাটের ঘায়ে । কিন্তু তবুও তাকে বাদ পড়তে হল আবার । কনুই - এর চোটের জন্য চ্যালেঞ্জার সিরিজ খেলতে পারলেন না । আরও নানা অজুহাত দেখিয়ে সৌরভের অধিনায়কত্ব ছিনিয়ে নেওয়া হল । দল থেকেও বাদ পড়লেন তিনি । অথচ তার ঝুলিতে তখন ৬০০০ - এর বেশি রান । ১৫ টি সেঞ্চুরি । একমাত্র সুনীল গাভাস্কার ছাড়া আর কোনাে ভারতীয় ক্রিকেটারের কেরিয়ার গড় কখনােই ১০ ছাড়ায়নি । অথচ সৌরভের গড় ৪০ - এর বেশি । 

       তবুও এই বঞ্চনা তাকে সহ্য করতে হল । সহ্য করতে হল এত বড়াে অন্যায় অবিচার । না , তবু সৌরভ ভেঙে পড়লেন না । হাল ছাড়লেন না। অবিশ্বাস্য মনের জোর নিয়ে আবার ফিরে এলেন নিরলস অনুশীলনে । জানতেন জবাব মুখে দিলে তা গুরুত্ব হারায় । জবাব দিতে হবে ব্যাটে । খেলা ছাড়লে চলবে না । তাই বাংলা দলের সঙ্গে একের পর এক ম্যাচ খেলতে গিয়েছেন । কোথায় লক্ষ লক্ষ দর্শকের করতালি মুখরিত স্টেডিয়াম আর কোথাও এই নির্জন , নিষ্প্রাণ ঘরােয়া ক্রিকেট । তবু প্রতিটি অখ্যাত অজ্ঞাত খেলােয়াড়ের সঙ্গে বন্ধুর মতাে মিশেছেন । দুর্বলতম বােলারকেও খেলেছেন একান্ত মনােযােগের সঙ্গে । কাউকে উপেক্ষা বা অবহেলা বা তাচ্ছিল্য করেন নি । কারও বিরুদ্ধে অভিমান বা ক্ষোভ উগরে দেন নি । অভিযােগ আনেন নি কারও নামে । শান্ত , অবিচলিত ভাবে সমস্ত অন্যায় সহ্য করেছেন মুখ বুজে । 

        কী দুঃসময় না গেছে তার তখন । নিতান্ত ঘনিষ্ঠরাও তখন ধরে নিয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলি শেষ হয়ে গেছেন । ফুরিয়ে গেছে তার সমস্ত শক্তি ।

       ছােট্ট মেয়ে সানা প্রশ্ন করেছে ,

        -বাবা , তুমি আর খেলাে না কেন ?

      –আমি যে আর খেলতে পারি না মা । নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিয়েছেন সৌরভ । 

       কিন্তু পারলেন । আবার দুর্দান্তভাবে ফর্মে ফিরে এলেন সৌরভ গাঙ্গুলী নামের বিস্ময় । দীর্ঘ ১০ মাস পর আবার জাতীয় দলে জায়গা করে নিলেন । প্রথম খেললেন দক্ষিণ আফ্রিকায় । ৫১ রানে নট আউট । ২০০৭ - এ আবার কাপিয়ে দিলেন সারা পৃথিবী । পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গালােরের মাঠে ২৩৯ রান করলেন । কমাস পরেই নভেম্বরে খেলতে নামলেন ইডেনের মাঠে । বাঙালির সংবাদমাধ্যমগুলিই বিরূপ সমালােচনায় , সবচেয়ে বেশি বিরােধিতা করেছে তার সঙ্গে । এদের একটা উচিত জবাব দিতেই হবে । 

       ইডেনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেই নিটোল তাজা একটি সেঞ্চুরি ছুঁড়ে দিলেন । চুপ করিয়ে দিলেন তাদের , যারা এতদিন ধরেই নিয়েছিল সৌরভ গাঙ্গুলি ইতিহাস হয়ে গেছেন । সৌরভের এই দুর্দান্ত কামব্যাকে সবচেয়ে কষ্ট পেলেন তারই দলের কোচ গ্রেগ চ্যাপেল । এই অস্ট্রেলিয় ভদ্রলােককে সৌরভই এনেছিলেন দলের প্রশিক্ষক করে । কিন্তু চিরবিজয়ী অস্ট্রেলিয়ার মুকুট ধুলােয় লুটিয়ে দেয় যে দুর্দম , অহংকারী ভারতীয় ছেলেটা , তাকে ছলে বলে কৌশলে ধ্বংস করতে না পারলে যে অস্ট্রেলিয় ভদ্রলােকটির শান্তি নেই । তাই , গােপনে চলতে লাগল গভীর ষড়যন্ত্র । ২০০৮ - এ অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্টে যথেষ্ট ভালাে করা সত্ত্বেও একদিনের সিরিজে টিম থেকে বাদ পড়লেন সৌরভ । কিন্তু কেন ? তার রেকর্ড তাে কারাে চেয়ে খারাপ নয় । একদিনের ম্যাচে ভারতের অন্যতম সেরা জুটি হলেন শচীন টেন্ডুলকর ও সৌরভ । দুজনের প্রথম উইকেটে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ ২৬ টি । একদিনের ম্যাচে মােট রান ১১,০০০ | একদিনের ম্যাচে নিজস্ব সেঞ্চুরি— ২১ টি । 

        সমস্ত কিছু ভুলে গেল তারা । নির্বাচক দলের কানে কি মন্ত্র শােনানো হল কে জানে ! এরপর ইরানি ট্রফি থেকেও বাদ পড়লেন তিনি । নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি তখন দিলীপ বেঙ্গসরকার । যে সৌরভের নেতৃত্বে ভারত সবচেয়ে শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে , তাদেরই মাটিতে হারিয়েছে ইংল্যান্ড , ওয়েস্ট ইন্ডিজ , পাকিস্তানকে সেই সৌরভকে উপযুক্ত কোনাে কারণ ছাড়াই আবার বিতাড়িত করা হল দল থেকে । 

       বিবেক , বুদ্ধিহীন মিডিয়া আবার মুখর হল নিন্দায় । সৌরভ বুঝলেন ‘ এখানে প্রতিবাদ অর্থহীন । অর্থহীন যােগ্যতা প্রদর্শন । কিছুদিন পর শ্রীকান্ত বাের্ডের নির্বাচক হয়ে এসে সৌরভকে আবার ফিরিয়ে আনলেন দলে । কিন্তু না । ততােদিনে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন সৌরভ । অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এবার প্রথমদিন মাঠে নেমেই জানিয়ে দিলেন , বিশ্বক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন । আর খেলবেন না তিনি । ভেবেছিলেন ফেরার সময় চিরশত্রু অস্ট্রেলিয়াকে , গ্রেগ চ্যাপেলের অস্ট্রেলিয়াকে একটি সুন্দর সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে যাবেন , কিন্তু একটুর জন্য হল না । ৮৫ রানেই সন্তুষ্ট থাকতে হল । কিন্তু দল জিতল । অস্ট্রেলিয়ার হল ভরাডুবি । দীর্ঘ কুড়ি বছর পর টেস্টে ২ ম্যাচের ব্যবধানে হারল তারা । লর্ডসের মাঠে যে সূর্যোদয় হয়েছিল ১৩ বছর আগে , নাগপুরের মাঠে তা হল অস্তগামী । কিন্তু সূর্যের অস্তিত্ব কে অস্বীকার করবে ? সেদিন যে ছেলেটিকে সবাই অবহেলা করেছিল আজ তিনিই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এর প্রেসিডেন্ট ।

       সৌরভ গাঙ্গুলী শুধু একজন চূড়ান্ত সফল বাঁহাতি ক্রিকেটার নন , তিনি অটুট মনােবলের প্রতীক । কিছুতেই ভেঙে না পড়ার , হার না মানার অপর নামই হল সৌরভ গাঙ্গুলী । নীচতা , সংকীর্ণতা আর আবেগ দুর্বলতার উর্ধ্বে ১০০ ভাগ পেশাদারিত্বের নাম সৌরভ গাঙ্গুলী । মানুষ যে পাথর তার দিকে ছুড়ে দিয়েছিল তাই দিয়েই তিনি তৈরি করেছিলেন তার ইমারত । 

        Adversity causes some men to break , others to break records .

                                              – Villiam A Ward