তুমি আসবে বলেই | Tumi Asbe Bolei | Manob Mondal | Shor love story in Bengali

 তুমি আসবে বলেই | Tumi Asbe Bolei | Manob Mondal | Shor love story in Bengali
    প্রিয় কবিদের প্রিয় কবিতা । বাংলা জগতে "বাংলামোটিভ ডট কম" এক অন্যতম নাম। গল্প ও কবিতা পড়া বা প্রকাশের এক অন্যতম ঠিকানা। এই ওয়েবসাইট তোমায় সুযোগ দেবে নতুন কিছু লেখার, নতুন কিছু সৃষ্টি করার। তোমার সৃষ্টিশীল জগতের মোটিভেশন হয়ে হাত বাড়িয়ে তোমার পাশে থাকবে। মনে রাখবে কোনো লেখক বা লেখিকা পরিচয়হীন নয়। তাদের লেখাই তাদের নিজস্ব পরিচয়। তাই আর দেরি কেনো ! তোমার লেখা গল্প বা কবিতা আমাদের Website এ প্রকাশিত করতে চাইলে যোগাযোগ করো আমাদের সাথে, আমাদের Email Id, "lovejunction506@gmail.com". এখানে তোমার লেখা গল্প, কবিতা বা মোটিভেশনাল স্টোরি, তোমার পুরো নাম দিয়ে পাঠিয়ে দাও। আমরা তোমার Email এর অপেক্ষায় আছি। ততক্ষনে মানব মন্ডল -এর "তুমি আসবে বলেই" কবিতাটি রইলো তোমাদের জন্য।    

তুমি আসবে বলেই 

মানব মন্ডল 

      Offshore চাকুরীতে মাইনে বেশি , কারণ জীবনের ঝুঁকি বেশি।  তাই এখানে আমাদের দায়িত্ব অনেকবেশি । কারণ কাজের জায়গায় দুর্ঘটনার প্রধান কারণ, ইউম্যান এরর, মানে মানুষের করা ভুল। offshore একটা দূর্ঘটনার পরিমাণ ভয়াবহ। কারণ এখানে আমাদের সাহায্য করার কেউ নেই। offshore কথাটা যাদের জন্য নতুন তাদের জন্য তাদের খুলে বলি, shore কথার অর্থ হলো জমি। সমুদ্রের মধ্যে শুধু জাহাজে চলে না, রিগ ,বার্জ, প্লাটফর্ম, থাকে , সাধারণত এগুলো খনিজ তেল আর গ্যাস উত্তোলন শিল্পের সাথে যুক্ত। আমি সৌদি আরবে চাকুরী করি এ রকম রিগে। আমি লোহিত সাগরে মিশরের কাছে আছে আমার রিগ, এখন যাচ্ছি ।

     কোলকাতা থেকে এমার্জেন্সি এসেছি সকালে। দাম্মাম বিমান করে তিন ঘণ্টা পর  পৌছালাম তাবুক, ওখান থেকে মরুভূমির ,ছোট পাহাড় ফাঁক ফোকর দিয়ে, আরো ঘন্টা ছয়েক পথ পেরালে আসবো দুবা তারপর চপারে করে যেতে হবে  রিগে।

     ক্যাটারিং সার্ভিসের কাজ করতে এসে পদোন্নতির জন্য সবচেয়ে কার্যকর শব্দ হলো কাস্টমার ফিডব্যাক।  সেইটাই আমার ক্ষেত্রে বিপদ হলো। আমাদের ওখানে আরবি খাবার বানানোর জন্য, মিশরীয় রাঁধুনি ছিলো। ও সেফটি রুল ফলোই করে না। যে কোন কাজের জন্য আমাদের PPE, মানে Personal Protective Equipment ব্যাবহার করা নিয়ম আছে। আপনার বাইক চালাতে গেলে PPE হলো হেলমেট। মাংস কাটার জন্য আমাদের ব্যবহার করতে হয় চেন গ্লাভস, ও সেটা না পরেই মাংস কাটা ছিলো। অসাবধানতাবশত ওর হাত একটা কোপ পরে গিয়ে আঙ্গুল একটু কেটে গেছে। তাই ওর চাকুরী খুইয়ে। আমাকে ওর জায়গায় যেতে হবে , ওখানে স্টাফরা আমাকেই চায়।

   আপনি বলবেন একটা আঙ্গুল কাটে যেতেই চাকুরী। চলে গেলো? হুঁ এটাই offshore এখানে safety Frist. কয়েকটি মাস আগে মুম্বাই হাই এরকম একটি কুকের হাত কেটে গিয়ে ছিলো। তাকে এমার্জেন্সি আনতে গিয়েছিলাম একটি ট্যাকবোর্ড। হঠাৎ সমুদ্র অশান্ত হয়ে যাওয়ায় । বোর্ডটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে প্লাটফর্মে ধাক্কা মারে। প্লাটফর্ম এ আগুন ধরে যায়। একসাথে তিনশজন  মানুষ বিপদে পড়ে যায়। তিন মাস এখন পর্যন্ত , মাত্র 185 জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, বাকিরা নিখোঁজ। তাই এখানে এতোটা কড়াকড়ি।

     হঠাৎ গাড়ি থামাতে দেখি অনেক উট রাস্তায় দাঁড়িয়ে। আসলে  অনেকক্ষণ ধরে মরুঝড় চলছিলো এখনে। তাসমীন এর হোটেলটার দিকে চোখ পড়তেই, আমার পাকিস্তানি ডাইভার বললো " লাঞ্চ করবেন তো চলেন। "

     আমি বললাম "চলো আমি গেলেই চপার ছেড়ে দেবে, রিগে গিয়ে খাবো।"

     আসলে খিদে পেয়েছে হয়তো একটু টাবুকে, একটু খেয়েছি ঠিকই কিন্তু তাসমীনকে দেখে আমার ভয় করে বড়ো রহস্যময়ী নারী ও।  সোজাসাপ্টা কথায় বলি ভারত বর্ষে যেমন যোক্ষনী আছে, তেমন স্কোগস্রা আছে এই ঊপকুলে অনেকেই বলছে। যেমন ও সাজিদ আলী খুব মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে ভালো বাসে। দুই তিন মাস ধরে নিখোঁজ এই রাস্তাতে যেতে গিয়ে। এবার একটা কথা বলে দিই দুবা শহরটা খুব ছোট। একশটা হয়তো বাড়ি আছে কিন্তু কোন টা রেসিডেন্সিয়াল না। সব অফিস গেস্ট হাউস , আর দুইটো খাবার হোটেল, তাসমীনকেটা নতুন বয়স জোর মাস তিনেক।

      ও স্কোগস্রা কি জানতে চাইবেন নিশ্চিত। সুইডেনের উপকথায় পাওয়া যায় স্কোগস্রা এক অদ্ভুত জীবের কথা, যাদের সামনে থেকে অপরূপ নারীর মত দেখতে । কোথাও এদের বলা হয় রাদান, কোথাও স্কগস্নুম্ফেন আবার কোন খানে এদের স্কগস্ফ্রুন বলে বলা হয়।

      উপকথার কাহিনীতে স্কোগস্রা শুধুই মেয়ে হিসেবে পাওয়া যায় এদের মধ্যে কোন ছেলে পাওয়া যায় না। এদের উচ্চতা হলেও এদের মুখশ্রী হয় অপরূপ সুন্দর, পিছন থেকে একদমই অন্যরকম , বেশ ভয়ঙ্কর। এদের পিঠে থাকে  ঠিক যেন কোন গাছের কান্ডে থাকা কোটরের মত, একটা মস্ত গর্ত। আর ল্যাজটা  থাকে  গরুর  মতো। মানুষের আসে পাশে থাকলে পিঠের গর্ত আর ল্যাজটা এরা ঢেকে রাখে এদের লম্বা চুল দিয়ে।

     আসলে এদের ব্যবহারে একটা বন্ধুত্বের আভাস থাকে। পুরুষ দের  রূপে মুগ্ধ করে হয়েছে এরা। পুরুষ সঙ্গী না থাকার জন্য, -স্কোগস্রারা পুরুষ মানুষদের ব্যবহার করে যৌনতার জন্য। সেই যৌন ক্রিয়ার পর যদিও বা কোন মানুষ বেঁচে থাকে, তাহলেও সে আর সাধারণ থাকে না। তার শরীরটা মানুস্য জগতে ফিরে গেলেও তার আত্মা আটকে পড়ে থাকে স্কোগস্রা-র কাছেই। 

    তবে শুনেছি ভালো শিকার পাওয়ার হয়েছে অনেক সময় শিকারিরা গিয়ে হাজির হয় এই স্কোগস্রা-দের ডেরায়, ভালো শিকারের বিনিময়ে তারা স্কোগস্রা-দের শয্যাসঙ্গী ।  একবার স্কোগস্রা-র সাথে যৌন ভাবে মিলিত  যে শিকারি, তাঁকে   যেতে হয় স্কোগস্রা-র কাছে প্রতিবার শিকারের পাওয়ার জন্য । নয়তো   স্কোগস্রা-র অভিশাপ  পরে তারা । এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় একটাই স্কোগস্রা-র মৃত্যু।স্কোগস্রা-দের মারার একটাই উপায়, হল রুপোর গুলি বা অস্ত্র দিয়ে আঘাত।।

   এ বাবা চরম বিপদে পড়ে গেছি আমি। চপার যাবে না। আবহাওয়া খারাপ। আর কিছু ক্ষনের মধ্যে। আবার ঝড় আসবে। গেস্ট হাউস বুকিং করে দিয়েছে রেডিও আপেরেটার কিন্তু মুস্কিল গেস্ট হাউস খাবার পাওয়া যাবে না। আমি লাগেজ টা রেখে একটু ফ্রেস হয়েই আব্দুলার রেস্টুরেন্ট গাড়ি নিয়ে যেতে বললাম। কারণ পেটে তখন ছুঁচো ডন দিচ্ছে। কিন্তু একি ওর দোকান বন্ধ। দুবার সবচেয়ে পুরনো এবং দুই তিন মাস আগে পর্যন্ত এটাই একমাত্র রেস্টুরেন্ট ছিলো।

     শেষ মেষ তাসমীন এর রেস্টুরেন্ট যেতে হলো। ওখানে যে গেট খুলে দিল তাকে দেখে  আমি অবাক। আব্দুলা কিন্তু ও আমাকে বা ডাইভার সাহেব কাউকে ই চিনতে পাড়লো না ওর ব্যবহার টা  অনেক টা যন্ত্রের মতো।  আমি কিছু টা ভয় পেয়ে গেলেও রেস্টুরেন্ট টা ঢুকে মন জুড়িয়ে গেলো, কি সুন্দর জুঁই ফুলের গন্ধ, এটা আমার খুব প্রিয় গন্ধ । যেনো কারো জন্মদিনে এর জন্য সাজনো। তাসমীন একটা হলুদ পোশাক পড়েছে, ওটাও আমার খুব প্রিয় রঙ।

     রেস্টুরেন্ট আর কেউ নেই টেবিলে  তাসমীন এলো খাবারের অর্ডার নিতে । একটা হলুদ টিউলিপ দিয়ে পুরো বাংলায় বললো " শুভ জন্মদিন".…

   আমি ভয় পেয়ে গেলাম ও কি করে জানলো আজ আমার জন্মদিন ‌।

   ও একটা বাঁকা হাসি হেসে বলল" সব কিছু তুমি আসবে বলেই।"

সমাপ্ত 

  

অনুভূতি | Anuvuti | মুহাম্মদ মারুফ আল-আমিন Love story | Best Romantic Love Story In Bengali |

অনুভূতি |  Anuvuti | মুহাম্মদ মারুফ আল-আমিন  Love story | Best Romantic Love Story In Bengali |
     প্রিয় লেখকের প্রিয় লেখা । বাংলা জগতে "বাংলামোটিভ ডট কম" এক অন্যতম নাম। গল্প ও কবিতা পড়া বা প্রকাশের এক অন্যতম ঠিকানা। এই ওয়েবসাইট তোমায় সুযোগ দেবে নতুন কিছু লেখার, নতুন কিছু সৃষ্টি করার। তোমার সৃষ্টিশীল জগতের মোটিভেশন হয়ে হাত বাড়িয়ে তোমার পাশে থাকবে। মনে রাখবে কোনো লেখক বা লেখিকা পরিচয়হীন নয়। তাদের লেখাই তাদের নিজস্ব পরিচয়। তাই আর দেরি কেনো ! আপনার লেখা গল্প বা কবিতা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করতে চাইলে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে, আমাদের Email Id, "lovejunction506@gmail.com". এখানে আপনার লেখা গল্প, কবিতা বা মোটিভেশনাল স্টোরি, তোমার পুরো নাম দিয়ে পাঠিয়ে দাও। আমরা তোমার Email এর অপেক্ষায় আছি। ততক্ষনে মুহাম্মদ মারুফ আল-আমিন এর  "অনুভূতি" লেখাটা রইলো তোমাদের জন্য। 

অনুভূতি

মুহাম্মদ মারুফ আল-আমিন


 -“আমাকে জানালার পাশের সীটটা দেয়া যাবে?”
আমি বই পড়ছিলাম। মাথা তুলে দেখলাম মেয়েটিকে। আমাকে আন্তরিক ভঙ্গিতে প্রশ্নটি করে এখনও জোর করে মুখে এক টুকরো হাসি ধরে রেখেছে মেয়েটি।
আমি বললাম ---“ অবশ্যই দেয়া যাবে। সুন্দরী মেয়েদের জানালার পাশের সীট ছেড়ে দেয়ার নিয়ম আছে”
-“ তাই? তা এই নিয়ম বুঝি এখন বানালেন? ” মেয়েটি লাগেজ টেনে নিয়ে জানালার পাশের সীটে বসে পরলো।
আমি বললাম -“ হ্যাঁ। সুন্দরী মেয়েদের জন্য নতুন নতুন নিয়ম বানানোর ও নিয়ম আছে ”
এবারে মেয়েটি হেসে ফেললো। ট্রেনের ঝকঝক শব্দে সেই হাসির শব্দ মৃদু শোনালো। মেয়েটি লাজুক ভঙ্গিতে বলল -“ দেখুন, নিয়ম বানান আর যাই করুন, ফোন নাম্বার, ফেইসবুক আইডি এইসব চাওয়ার চেষ্টা করবেন না। ”
-“ না ওসবে আমার আগ্রহ নেই। তাছাড়া সুন্দরী মেয়েদের সাথে বেশি ঘনিষ্ঠ ও হতে নেই। তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হয়।”

-“কিন্তু আপনি তো আমার পাশের সীটেই বসে আছেন। দূরত্ব থাকছে কোথায়?”
-“পাশে বসে আছি কিন্তু সহস্র মাইল ব্যবধান আছে মেম।” আমি হেসে বললাম।

  আমাকে বেশিক্ষণ মেয়েটির পাশে বসতে হলো না। পরের স্টেশনে একটি লোক নেমে যাওয়াতে তার সীটে আমি বসে পরলাম। এখন আমরা মুখোমুখি বসে আছি। দুইজনই জানালের পাশে। চোখে চোখ পরতেই মেয়েটি বলল-“ আচ্ছা আপনার এমনটা কেন মনে হলো যে সুন্দরী মেয়েদের থেকে দূরে থাকতে হবে। এটাও কি আপনার বানানো কোন নিয়ম?”
আমি বললাম -“সুন্দরের খুব বেশি কাছে যেতে নেই। একবার কাছ থেকে সৌন্দর্য দেখে ফেললে দেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে।”
-“তাই নাকি? এমন তো শুনিনি কখনও।”

-“তাছাড়া আরও একটা বেপার ঘটতে পারে।দূর থেকে যা সুন্দর দেখায় কাছে চলে গেলে সেই সৌন্দর্য অনেক সময় চোখে পরে না। দূর থেকে যা খুব বেশি আকষর্ণীয় কাছ থেকে দেখলে তাই খুব সাদামাটা”
-“ আপনি বলতে চাচ্ছেন আমি দূর থেকে সুন্দর। কাছ থেকে দেখতে পঁচা?”
-“ আমি সেটা কখন বললাম”
-“ এই যে মিস্টার আপনি বই পড়ছিলেন পড়ুন। আমার সাথে গল্প জমানোর চেষ্টা করছেন আপনি। ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছেন। আগেই বলে দিচ্ছি ভুলেও আমার সাথে প্রেম করার চেষ্টা করবেন না। একদমই না।?
-“দেখুন আপনি ভুল পথে চিন্তা এগুচ্ছেন। আমার মোটেও এরকম ইচ্ছে নেই। তাছাড়া আমি সুন্দরী কোন মেয়ের প্রেমে পরতে চাই না। যদি কখনও প্রেম করি অল্প সুন্দরী মেয়ে বেছে নেবো।”
-“তাই নাকি? ইন্টারেস্টিং তো। এরকম ইচ্ছের কারণ? ”
-“কারণ খুব সুন্দরী কারও প্রেমে একবার পরে গেলে আর উঠে দাঁড়াতে পারবো না। পরেই থাকবো।”

এই সামান্য কথায় মেয়েটি মনে হচ্ছে অনেক বেশি মজা পেল। শব্দ করে হাসছে মেয়েটি। হাসিটা অন্য রকম। শিশুদের হাসির মতো নির্মল যা আশেপাশের সবকিছুতেই মুগ্ধতা ছড়ায়। সেই হাসি বড় বেশি সংক্রামক। আমাকেও হাসতে হলো। আমি মেনে নিতে বাধ্য হলাম মেয়েটির হাসি সুন্দর। অল্প সুন্দর না। মন ভালো করে দেয়ার মতো সুন্দর। যেই হাসি এক নাগারে বেশিক্ষণ সহ্য করা কঠিন বেপার। এরকম হাসি দেখলে শুধু যে বুকের বা পাশে চিনচিন ব্যাথা করে তা না। সেই ব্যথা বুকের ডান পাশ অবধি চলে আসে----------

ধীরে ধীরে গল্প বেশ ভালোই জমে উঠলো। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো সেই হাসি। মেয়েটি একটু পর পর হাসছে আর আমাকে টেনশনে ফেলে দিচ্ছে। কারণ যখনই মেয়েটা হাসছে আমার সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। কী নিয়ে কথা বলছিলাম মনে থাকছে না। ভাবনায় ছেদ পরলে যা হয়। ভালো সমস্যায় পরা গেল।

মেয়েটা বলল-“তা আপনি যাচ্ছেন কোথায়?”
-“এখনও ঠিক করিনি। কোন একটা স্টেশন পছন্দ হলে নেমে যাব।”
-“আপনি এমন ভাবে কথা বলছেন মনে হচ্ছে আপনি মস্ত বড় একজন কবি-সাহিত্যিক।”
-“মস্ত বড় কিনা জানি না। কিন্তু আমি লেখালেখি করি।”
-“তাই? আপনাকে তো চিনি না। নাম কী আপনার?”
-“হুমায়ুন আহমেদ”
-“আজব। মিথ্যা বলছেন কেন?”
-“আপনার নাম হুমায়ুন আহমেদ হতে যাবে কেন? উনি কত বড় একজন লেখক।”
-“হ্যাঁ, উনি অনেক বড় একজন লেখক। তাই বলে কি আর কারও নাম হুমায়ুন আহমেদ হতে পারে না?” -“আপনার নাম সত্যি হুমায়ুন আহমেদ?”
-“ হ্যা আমার নাম হুমায়ুন আহমেদ। আমার সাথে ভোটার আইডি কার্ড আছে। আপনি চাইলে দেখাতে পারি।”
-“ না না থাক।দেখাতে হবে না। I am sorry.”
-“আমার মা হুমায়ুন স্যারের লেখা খুবই পছন্দ করেন। তাই আমার নামও উনার নামে রেখেছেন।”
এমন সময় হঠাৎ দমকা বাতাস এলো। বসন্তের মাতাল করা বাতাস নয়। বর্ষার ভীজে বাতাস। মেয়েটার একপাশের চুল বাতাসে উড়ে মুখ ঢেকে ফেলেছে।
অন্যরকম একটি অবয়ব। ইচ্ছে করছে হাত দিয়ে চুল সরিয়ে দিতে। সেটি সম্ভব না। আমি বললাম -“ বাতাসে কারো টিপ খুলে যায় দেখি নি। আপনার কপালের টিপ কিন্তু এক পাশে সরে গেছে।”
মেয়েটা টিপ দেখার জন্য কপালে হাত দিয়েছে। পুরো কপাল হাতরে টিপ খুজে পাওয়া গেল না।
আমি হেসে ফেললাম।
মেয়েটা মিছেমিছি রাগের ভান করে বলল-“আপনি তো ভালই পাজি। আমি আজ টিপই পরি নি। কিন্তু এমন ভাবে বললেন বিশ্বাস করে ফেললাম।”

এমন সময় বৃষ্টি শুরু হলো। আকাশে মিষ্টি রোদ ছিলো। হঠাৎ করে এমন ভাবে বৃষ্টি নেমে যাবে বোঝা যায়নি। প্রকৃতির এমন খেয়ালিপনা দেখে মনে হল, আমাদের গল্প করার সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখতেই যেন এই আয়োজন। আমি বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছি। আজকের বৃষ্টিটা অন্যরকম। ভিজতে ইচ্ছে করছে।
-“চা খাবেন?
ট্রেনে উঠলেই আমার চায়ের নেশা হয়। তাই ফ্লাস্কে চা নিয়েই ট্রেনে উঠি।”-মেয়েটার কথায় সম্বিৎ ফিরে পেলাম।
বললাম-“হ্যা খাব। চা আমি পারত পক্ষে খাই না। তবে ওই যে নিয়ম আছে সুন্দরি কেউ চায়ের অফার করলে না করতে নেই।”
-“হয়েছে। আপনি যে লেখক আর বোঝাতে হবে না। ক চামচ চিনি খান আপনি?”
-“চিনি খাই না।”
-“একটু ও না? এভাবে ভালো লাগবে?”
-“এক কাজ করুন, চিনির বদলে আমার চায়ে দুই ফোটা বৃষ্টির জল দিয়ে দিন। আমি এভাবেই চা খাই।”
-“সত্যি? দিবো?”
-“সত্যি।”

মেয়েটি আমার কাপে বৃষ্টির জল দিয়ে দিল। সাথে নিজের কাপেও নিল।
-“আপনার দেখাদেখি আমিও খাচ্ছি রেইন টি। কি অদ্ভুত।”
আমি কিছু বললাম না। নিশ্চুপ চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছি।
মেয়েটা বলল-“আচ্ছা শীতের সময় তো বৃষ্টি হয় না। তখন চা কীভাবে খান?”
-“তখন তো আরও ভাল। দুই ফোটা বৃষ্টির বদলে এক ফোটা শিশির দিলেই হয়।তখন মনে হয় পৃথিবীতে এসেছি শীতের সকালে শিশির ছোয়া চা খাওয়ার জন্য।”

মেয়েটা কিছুক্ষণ কথা বলল না। চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে চোখ পরতে আমি বললাম -“ কী হলো?”
মেয়েটা দ্রুত নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বলল-“ আপনি কেমন মানুষ বলুনতো। আমি আপনার নাম জানলাম। অথচ আপনি একবারও আমার নাম জানতে চাইলেন না।”
-“ ওহ হ্যা।আপনার নাম জানা হয়নি। কী নাম আপনার?”
-“ তিয়াশা,সুন্দর না নামটা?”
-“ হ্যা, অনেক সুন্দর।”
-“আচ্ছা লেখক সাহেব। আপনি কোথায় যাচ্ছেন বললেন না তো।”
-“ ওই যে বললামতো কোন একটা স্টেশন পছন্দ হলেই নেমে যাব।”
-“এটা কোন কথা। মিথ্যা বলছেন আপনি।”
-“ নাহ, তিশা, আমি মিথ্যা বলি না”
-“ এই যে মিস্টার আমার নাম তিশা না,তিয়াশা।”
-“ সরি তিয়াশা।”
-“ আচ্ছা আপনি হঠাৎ এমন চুপচাপ হয়ে গেলেন যে? কী হয়েছে?”
-“ কই না তো। কথা বলছি তো। তাছাড়া সুন্দরী মেয়েদের সাথে খুব বেশি গল্প করতেও নেই।”
-“ ইশ, আপনার এই বোরিং ডায়ালগ বাদ দিন প্লিজ। আচ্ছা আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে?”
-“ হঠাৎ এই প্রশ্ন?”
-“ আছে কিনা বলুন।”
-“ নাহ। নেই।”
-“হুম, বুঝলাম। আপনি কিন্তু আমাকে আবার জিজ্ঞেস করবেন না যে আমার বয়ফ্রেন্ড আছে কিনা। আপনি জিজ্ঞেস করলেও আমি কিন্তু বলবো না।”
-“হাহাহা, আচ্ছা ঠিক আছে আমি জানতে চাচ্ছি না।”
মেয়েটি হয়তো ভেবেছিল আমি জিজ্ঞেস করবো তার কোন বয়ফ্রেন্ড আছে কিনা। আমি জিজ্ঞেস করছি না দেখে মনে হল মন খারাপ হয়ে গেল মেয়েটার।
এমন সময় আমি ব্যাগ নিয়ে উঠে দাড়ালাম। মেয়েটা বলল-“ কোথায় যাচ্ছেন?”
আমি বললাম-“ নেমে যাব।এই স্টেশনটা পছন্দ হয়েছে।”
-“ বৃষ্টি হচ্ছে তো। ভীজে যাবেন। এখানে না নেমে অন্য কোন স্টেশনে নামলে হয় না?”
-“ জী না মেম। হয় না” মুচকি হেসে বললাম আমি।

আর কোন কথা বললাম না। উঠে চলে এলাম। মেয়েটা অদ্ভুত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।‘ভাল থাকবেন, আবার হয়তো দেখা হবে’-এই জাতীয় কোন কথা হয়তো আশা করেছিল মেয়েটা।মেয়েটাকে বিভ্রান্তির মধ্যে রেখে আমি ট্রেন থেকে নেমে গেলাম। বৃষ্টির বেগ আরও বেড়েছে। আমার আসলে বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করছিল অনেক আগে থেকেই। নামার সাথে সাথেই ভিজে গেলাম। বৃষ্টির ফোটা গুলো একটু একটু করে আমাকে ভিজিয়ে দিচ্ছিলো। প্রকৃতির আহবানে আমি নেমে গেলাম ট্রেন থেকে কিন্তু অদৃশ্য কোন শক্তি যেনো আমার হাত ধরে টানছে ট্রেনে ফিরে যাওয়ার জন্য। কানের কাছে কে যেন বলছে মেয়েটার সাথে আরেক কাপ বৃষ্টির জল মেশানো চা খাওয়ার জন্য। সেই অদৃশ্য আকর্ষণ উপেক্ষা করেই আমাকে নামতে হলো। কোন দিকে যাব ঠিক করতে পারছি না। মেয়েটা জানালা দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এই বয়সী মেয়েরা খুব বেশি জেদি হয়। মেয়েটা আমাকে পেছন থেকে ডাকবে না। নিজের আবেগের কাছে হেরে যাবে না কখনোই। মনে মনে হয়তো আমাকে খুজবে কিন্তু পাবে না। বৃষ্টির বেগ বাড়ছে সাথে আদ্র বাতাস বাতাস। আমি চলে আসবো এমন সময় আমি অবাক মেয়েটার কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম।বৃষ্টি হচ্ছে এজন্য মেয়েটা জোরে ডেকে বলল-“ এই যে হুমায়ুন সাহেব। আপনি আমাকে আসল নামটা বলেননি। তাই না?”
আমি ফিরে তাকালাম।এক টুকরো হাসি ছুড়ে দিলাম। সরি বলা টাইপ হাসি। কোন জবাব দিলাম না। ফিরে যাওয়ার সাহস আমার নেই। জগতটা রহস্যময়। জগতের সব রহস্যের ব্যাখ্যা থাকে না।মেয়েটা আমাকে নিয়ে একটু হলেও ভাববে। আমি না হয় একটু খানি রহস্য হয়েই থাকলাম। সব রহস্যের সমাধান হয়ে গেলে প্রকৃতির সৌন্দর্য নষ্ট হবে। সেই অধিকার আমার নেই।

   বৃষ্টির মধ্যে সামনে এগুচ্ছি। চোখে মুখে বৃষ্টির ঝাট এসে লাগছে। বুকের মধ্যে এক অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে যেই অনুভূতির সাথে আমার পরিচয় নেই। এমন সময় একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। আমার বিস্ময় সীমাকে অতিক্রম করে আমাকে দ্বিতীয় বারের মতো ডাকলো মেয়েটা। আমার সব হিসেব নিকেশ এলোমেলো হয়ে গেলো মুহুর্তেই। এবারে আমাকে মেয়েটার কাছে ফিরে যেতে হবে।
কেন যেতে হবে? 
কারণ সুন্দরী মেয়েরা দ্বিতীয় বার ডাকলে সাড়া দেয়ার নিয়ম আছে।


                                                                             সমাপ্ত

                                                  Best Romantic Love Story In Bengali

আমাদের আর ও গল্প পড়ুন :-👇👇

আমাদের আর ও কবিতা রইলো তোমাদের জন্য :-👇👇

Tags:-

  • Anuvuti 
  • Mohammad Maruf Al-Amin
  • Bangla story
  • Bangla golpo
  • Story in Bengali,
  • Bangla valobasar golpo
  • Love story
  • bengali love story
  • Love story in Bengali,
  • golpo bangla
  • Romantic love story,
  • train love story,
  • journey love story,
  • Travel Love story

Love Story :- Everyone likes love story.Sad love story,emotional love story and romantic love story.This story is very romantic.A boy and a girl love each other from train journy.They are felling love to each other.if your mood is very sad now, you read  this love story.i sure that this love story fresh your mind and mood. Then you fall love this story. Please share this love story in your best friend or lover.They will fall in love with this story.So now you read this love story very carefully with attention.Thank you so much...

নতুন অতিথি(২য় খণ্ড)| Sagar Sarkar | Notun Otithi Part 2 | Love Junction | Animal Love Story

নতুন অতিথি(২য় খণ্ড)| Sagar Sarkar | Notun Otithi Part 2 | Love Junction | Animal Love Story
      প্রিয় লেখকের প্রিয় লেখা । বাংলা জগতে "বাংলামোটিভ ডট কম" এক অন্যতম নাম। গল্প ও কবিতা পড়া বা প্রকাশের এক অন্যতম ঠিকানা। এই ওয়েবসাইট তোমায় সুযোগ দেবে নতুন কিছু লেখার, নতুন কিছু সৃষ্টি করার। তোমার সৃষ্টিশীল জগতের মোটিভেশন হয়ে হাত বাড়িয়ে তোমার পাশে থাকবে। মনে রাখবে কোনো লেখক বা লেখিকা পরিচয়হীন নয়। তাদের লেখাই তাদের নিজস্ব পরিচয়। তাই আর দেরি কেনো ! আপনার লেখা গল্প বা কবিতা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করতে চাইলে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে, আমাদের Email Id, "lovejunction506@gmail.com". এখানে আপনার লেখা গল্প, কবিতা বা মোটিভেশনাল স্টোরি, তোমার পুরো নাম দিয়ে পাঠিয়ে দাও। আমরা তোমার Email এর অপেক্ষায় আছি। ততক্ষনে সাগর সরকারের "নতুন অতিথি(২য় খণ্ড) " লেখাটা রইলো তোমাদের জন্য। 

 নতুন অতিথি(২য় খণ্ড)

সাগর সরকার 

      বেশ কয়েকমাস আগে, আমরা কলেজ থেকে সবাই মিলে বোলপুর শান্তিনিকেতন ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে একটি মজার ঘটনা ঘটে আমাদের সাথে। সকাল ১০:১২ am । আমরা সবাই হাওড়া স্টেশন থেকে বোলপুর শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে পড়লাম সাথে ছিল আমাদের কলেজের অধ্যাপিকা অন্তরা ব্যানার্জী (H.O.D)। ম্যাম কে সাথে পেয়ে আমরা খুবই খুশি হয়েছিলাম। ট্রেনের মধ্যে সবাই খুবই আনন্দ করতে করতে পৌঁছে গেলাম বোলপুর শান্তিনিকেতনে। সময়টা যে কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। স্টেশনে নেমে টোটো রিজার্ভ করে পৌঁছে গেলাম গেস্ট হাউসে। 

    গেস্ট হাউসটি খুবই সুন্দর ছিল, চারিদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ মাঝে মাঝে পাখির ডাকের শব্দ মনটা পুরো ভালো করে দিল। দুপুরে খাওয়া দাওয়া করার পর সবাই মিলে ঘুরতে বার হয়েছিলাম । সন্ধ্যাবেলা ফিরে এসে আমার বন্ধু বান্ধবী সবাই মিলে নাচ, গান, আড্ডা কত কিছুই না হলো। আর আমাদের এখন বাস্তবিক জীবনে ফোন তো আছেই । সবাই এক জায়গায় থেকেও যখন একে অন্যকে ভিডিও কল করা হয় তখন কেমন মজা হয় বলুন তো। রাতে ঘুমানোর আগে সবাই মিলে আলোচনা করে ঘুমালাম। খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবো, উঠে সবাই মিলে হাঁটতে বার হবো। ঠিক তেমনটাই হল আমরা সবাই মিলে পরের দিন খুব সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে বার হলাম,কয়েকজন বান্ধবী বাদে। তারপর আমরা মর্নিং ওয়ার্ক থেকে  ফিরে সবাই মিলে উত্তরায়ণ মিউজিয়াম ও সোনাঝুরির হাটে গেলাম। সবাই অনেক কিছু কেনাকাটা করলো । আমিও কিছু জিনিস কিনে নিলাম বাড়ির জন্য। সেই দিনটাও খুব মজা করে কেটে গেল। পরের দিন আমাদের ফেরার পালা। সবার মনটা যেন খারাপ হতে শুরু করলো। কিন্তু তার মধ্যে একটা ঘটনা ঘটলো যেদিন আমরা ফিরব সেই দিন আমরা সবাই মিলে ঠিক করলাম কংকালীতলা পুজো দিয়েই ফিরবো। কিন্তু হঠাৎ করে মত পরিবর্তন হলো হয়তো আমাদের মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়া হবে না। সবার মন খারাপ হয়ে গেল।রাতে ঘুমাতে যাব হঠাৎ করে আমাদের H.O.D ম্যাম ফোন করে বলল সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গুছিয়ে নিস ,আমরা সকালে কংকালীতলা পুজো দিতে যাবো। কথাটি শুনে মনাটা খুব ভালো হয়ে গেল। 

    ম্যামের কথা মতো খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে গুছিয়ে নিলাম। সবাই বেরিয়ে পড়লাম। টোটো করে পৌঁছে গেলাম কংকালীতলা মায়ের মন্দিরে। মন্দিরের বাইরে থেকে পূজো দেওয়ার ডালা কিনে নিলাম । জায়গাটা খুবই সুন্দর ছিল। আর কংকালীতলা মায়ের মন্দিরে পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে কোপাই নদী। আমরা সবাই পূজো দিয়ে বার হলাম, তারপর শুরু হলো ছবি তোলার প্রস্তুতি। তার মধ্যে ঘটে গেল এক মজার ব্যাপার। আমি প্রথমে তাকে দেখতেই পায়নি। তিনি আমাদের পিছু নিয়েছে। আমাকে দেখে লেজ নাড়তে থাকলো, আমি বললাম কি রে কেমন আছিস। সে আবার লেজ নাড়তে থাকলো। আমি বললাম চলে আয় আমাদের সাথে । ও সত্যি আমাদের পিছু নিয়েছে। 

   ম্যাম বললো, "তোরা কিছু খাবি ?"  তখন সবাই মিলে ঠিক করলো চা , বিস্কুট খাবো। তিনি কিন্তু আমাদের পিছু ছাড়েন নি, সাথেই আছে। চা, বিস্কুট দিয়ে গেল । আমি আমার ভাগের বিস্কুটের অর্ধেকটা তাকে দিয়ে দিলাম। কিন্তু তিনি ওই টুকুতে খুশি নন বুঝলাম। হঠাৎ করে আমাদের ম্যাম আমাকে ডাকলেন , "বললো বিস্কুট খাওয়াবি?" আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি যে ,ম্যাম কাকে খাওয়ানোর কথা বললেন। কিন্তু পরে বুঝলাম ম্যাম ওনাকে খাওয়ানোর কথা বললেন। আমি বললাম, "অবশ্যই খাওয়াবো, কেন খাওয়াবো না।" চায়ের দোকান থেকে আরো দুটো বিস্কুট নিয়ে তাকে দিতে যাবো দেখি , আরো একজন এসে হাজির হয়েছে। তারপর তাদেরকে বিস্কুট দুটো ভাগ করে দিলাম। 

    কিছু সময় পর দেখলাম, যিনি পরে এসেছিলেন তিনি চলে গেছেন। কিন্তু প্রথম জন রয়ে গেছেন। আমি বললাম কি রে যাবি আমার সাথে। ও খুব খুশি হয়ে লেজ নাড়তে থাকলো। আমি ওকে বললাম তোকে হয়তো আমি নিয়ে যেতে পারবো না, কিন্তু তোর কিছু স্মৃতি আমি নিয়ে যেতে পারি। আমি ওকে ডাকলাম চলে আয় আমার পাশে । ও লেজ নাড়তে নাড়তে চলে এলো আমার পাশে, এসেই ডপ করে বসে পড়লো। আমি বললাম কি রে এবার আমার ফোনের দিকে তাকা, ও সত্যি আমার ফোনের দিকে তাকালো। আমি তো পুরো অবাক হয়ে গেলাম, আর সাথে সাথে দুজনেই ক্যামেরা বন্দি হয়ে গেলাম।

    আমার তো এবার খুব মন খারাপ হতে শুরু করলো। আর কিছুটা সময় আমরা একসাথে আছি, তারপর আমি আমার রাস্তায়, আর ও নিজের রাস্তায়। ম্যাম বললো, "এবার আমাদের বার হতে হবে, না হলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।" আমরা সবাই উঠে হাঁটতে শুরু করলাম, তখন দেখি ও আমাদের পিছনে আসছে। তখন আমি আর আমার বন্ধু ওকে বললাম আর আসিস না, ফিরে যা। কিন্তু তবুও সে লেজ নাড়তে নাড়তে পিছনে আসতে থাকলো। সে আমাদের টোটো পর্যন্ত এগিয়ে দিতে এলো। আমি বললাম ভালো থাকিস রে, জানি না তোর সাথে আর কোন দিন দেখা হবে কি না। তবে মনে মনে ঠিক করলাম এখানে এলে তোর সাথে অবশ্যই দেখা করে যাবো।

     কিছু কিছু সময় নিজেকে যেন অন্য জগতে হারিয়ে ফেলি, কেন জানি না মনে হয় ভগবান রূপি এই প্রাণী গুলো যেন পরজন্মে অকুল সুখের অধিকারী হয়। মনুষ্য জন্ম নিয়েও আমরা কতটা বোকা , কিন্তু এই অবুঝ প্রাণী গুলো আমাদেরকে এক নজরে দেখেই বুঝতে পারে কে ভালো আর কে খারাপ। বাস্তব জীবনে অনেক ঘটনা আমাদের সাথে ঘটে থাকে কিন্তু আমরা সেই গুলকে অতটা মনে রাখার কারণ বলে মনে করি না, তবে চেষ্টা করলে সেই ঘটনা গুলোই হয়তো আমাদেরকে এই সুন্দর পৃথিবীটাকে অন্য রূপে দেখার সুযোগ করে দেবে…।  ..ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল প্রাণী। আর খুব ভালো থেকো তোমরা সবাই।

সমাপ্ত 

👉 নতুন অতিথি(১ম খণ্ড)

আমাদের আর ও গল্প পড়ুন :-👇👇

আমাদের আর ও কবিতা রইলো তোমাদের জন্য :-👇👇

Tags:-

  • Sagar Sarkar,
  • Notun Otithi,
  • Notun Otithi Part 2,
  • Story in bengali,
  • Dog lover 
  • Dog lover story,
  • Bangla golpo,
  • Animal love story,
  • Love Junction,
  • bangla golpo,

নতুন অতিথি (১ম খণ্ড) | Sagar Sarkar | Notun Otithi | Love Junction। Animal love story

নতুন অতিথি (১ম খণ্ড) | Sagar Sarkar | Notun Otithi | Love Junction। Animal love story

      প্রিয় লেখকের প্রিয় লেখা । বাংলা জগতে "বাংলামোটিভ ডট কম" এক অন্যতম নাম। গল্প ও কবিতা পড়া বা প্রকাশের এক অন্যতম ঠিকানা। এই ওয়েবসাইট তোমায় সুযোগ দেবে নতুন কিছু লেখার, নতুন কিছু সৃষ্টি করার। তোমার সৃষ্টিশীল জগতের মোটিভেশন হয়ে হাত বাড়িয়ে তোমার পাশে থাকবে। মনে রাখবে কোনো লেখক বা লেখিকা পরিচয়হীন নয়। তাদের লেখাই তাদের নিজস্ব পরিচয়। তাই আর দেরি কেনো ! তোমার লেখা গল্প বা কবিতা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করতে চাইলে যোগাযোগ করো আমাদের সাথে, আমাদের Email Id, "lovejunction506@gmail.com". এখানে তোমার লেখা গল্প, কবিতা বা মোটিভেশনাল স্টোরি, তোমার পুরো নাম দিয়ে পাঠিয়ে দাও। আমরা তোমার Email এর অপেক্ষায় আছি। ততক্ষনে সাগর সরকারের "নতুন অতিথি" লেখাটা রইলো তোমাদের জন্য। 

নতুন অতিথি (১ম খণ্ড)

  সাগর সরকার 

     সামনেই Last Semester । পড়াশোনার চাপও মোটামুটি ভালোই। Internal exam ২টো হয়ে গিয়েছে, এখনো ২টো Internal exam বাকি আছে। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে পরের ২ দুটো exam একই দিনে, খুব চিন্তা হচ্ছে। দ্বিতীয় পরীক্ষার আগের দিন কলেজে গিয়েছিলাম হঠাৎ করে বাড়ি থেকে ফোন এলো মামিমা বলল, "তুই তো অনেকদিন বাড়িতে আসিস না এসে ঘুরে যা।" আমারও মনটা যেন কেমন হতে লাগলো।কলেজ থেকে বার হয়ে আর রুমে ফিরলাম না। কলেজ থেকে সেই দিন একটু তাড়াতাড়ি বার হয়েছিলাম। 1:55 PM ট্রেন ধরলাম বাড়িতে যাওয়ার জন্য। 

      ট্রেনেও খুব ভিড় ছিল, ভেবেছিলাম দুপুরের সময় একটু ভিড় কম থাকবে, কিন্তু ৯ কামরার গাড়ি দেওয়াই একটু ভিড়টা বেশিই হয়েছে। অবশেষে বাড়িতে এসে পৌঁছালাম। বাড়িতে আজ ছোট করে একটা অনুষ্ঠান আছে, কারণ আমার দিদা বৈশাখ মাসের শেষের দিনে ঝরা নামায়। অনেক রকমের প্রসাদ তৈরি হচ্ছে , কিন্তু আজ আমার আর থাকা হবে না, একটু পরেই চলে যেতে হবে। কাল আমার Internal Exam আছে। 

     খুব মন খারাপ হয়ে যাচ্ছিল ,বাড়িতে অনুষ্ঠান আর আমিই থাকতে পারছি না। ২ ঘন্টা মতো কাটিয়েই আবার বেরিয়ে পড়লাম ফেরার জন্য। দিদা অনেক জোর করছিল থাকার জন্য কিন্তু আমি থাকতে পারলাম না। কিছু দূরে আসতে না আসতেই প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল, অনেক কষ্ট করে ট্রেনটা পেয়ে গেলাম। রুমে যাওয়ার পথেই একটা অন্যরকম ঘটনা ঘটলো আমার সাথে। রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম হঠাৎ করে এক নতুন অতিথির সাথে আমার পরিচয় হলো। অনেক লোকের মধ্যেও সে আমাকে খুঁজে বার করলো। আমি তার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম তার আজ খাওয়া হয়নি। সে আমার দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছে। একটি চায়ের দোকানের সামনে সে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু না খেয়ে থাকা ওকে যেন কেউ দেখতেই পাচ্ছে না। আমি ওর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম দেখলাম ও আমার পাশে এসে বসে পড়েছে। আর আমার দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, "কি রে খেয়েছিস," ও লেজ নাড়তে থাকলো। আমি বুঝতে পারলাম আজ ওর খাওয়া হয়নি। আমি বললাম, "আমি কিছু কিনে দিলে খাবিতো।" সে আবার লেজ নাড়লো । বুঝলাম সে রাজি। আমি দোকান থেকে দুটো বিস্কুটের প্যাকেট কিনলাম । প্রথম একটা বিস্কুটের প্যাকেট ছিড়ে দিতেই সে খেয়ে ফেললো, তার খাওয়া দেখে আমার মনটা যেন কেমন করতে লাগলো আমি দ্বিতীয় প্যাকেটটাও খুলে ওকে খেতে দিলাম। তার খাওয়া শেষ হলে আমার দিকে তাকালো যেন মনে হলো ও খুব খুশি হয়েছে। আমার রুমে ফিরতে দেরি হয়ে যাচ্ছিল তাই আমি ওকে বললাম, "আমি চলি রে, ভালো থাকিস। এই জীবন যুদ্ধে তোকে একাই বাঁচতে হবে ।"

      খুব খারাপ লাগছিল ওকে রেখে আসার সময়। আমি যেখানে থাকি সেই জায়গায় যদি তেমন কোনো জায়গা থাকতো তাহলে ওকে আমি সাথে করে নিয়ে আসতাম ,কিন্তু আমি যেখানে থাকি সেখানে হয়তো কোন প্রাণীকে থাকতে দেবে না তাই আমি আর ওকে নিয়ে আসতে পারিনি । যখন আমি চলে আসছি ও আমার পিছু পিছু কিছুটা দূর চলে এলো ,আমি বললাম আমার সাথে আসিস না রে তুই ফিরে যা। আমার বলার পরেও সে আরো কিছুটা দূরে এগিয়ে এলো । তারপর দেখলাম সে দাঁড়িয়ে পড়লো। আমি ওকে আবার বললাম যা ফিরে যা। সে যেন আমার ভাষাটা বুঝতে পেরে ঘুরে দাঁড়িয়ে পড়ল। আমি ওর দিকে কিছুটা তাকিয়ে রইলাম দেখছিলাম ও আমার দিকে আর ফিরে তাকায় কিনা ,কিছুটা দূরে যেতেই দেখলাম ও আবার পিছন ফিরে আমার দিকে তাকালো। তখন আমার চোখ দিয়ে যেন নিজে থেকেই জল গড়িয়ে পড়লো। এই বাস্তব জীবনে অনেক লড়াই নিজেকেই করতে হয়। যে লড়াই করার জন্য কেউ তোমার পাশে থাকবে না।

      অবশেষে রুমে পৌঁছালাম। শুধু ওর কথা মনে পড়ছিল আর মনটা যেন কেমন হতে লাগলো। কিছুদিন পর, দ্বিতীয় বার আমি আবার ওর খোঁজে বেরিয়ে পড়লাম কিন্তু ওর সাথে আমার আর দেখা হয়নি। আশেপাশে অনেক দেখেছিলাম কিন্তু আর খুঁজে পায়নি ওকে। ভীষণ খারাপ লাগছিল , আর মনে মনে বলছিলাম তুই যেখানেই থাকিস ভালো থাকিস ……।

    শুধু একটা কথা বলব সবাইকে রাস্তায় হোক বা কোন জায়গাতেই কোন প্রাণীকে দেখলে তাকে কিছু খেতে দিতে না পারো , কিন্তু তাকে কখনো আঘাত করবে না। হয়তো তার জীবনটা অতটা সহজ নয় তোমার মত। খুব ভালো থেকো সবাই । নিজেকেও ভালো রেখো আর অন্য কেউ ভালো রাখার চেষ্টা করো ।যাতে তোমার জন্য অন্য কেউ কখনো দুঃখ না পায়।

সমাপ্ত 

👉 নতুন অতিথি(২য় খণ্ড)

আমাদের আর ও গল্প পড়ুন :-👇👇

আমাদের আর ও কবিতা রইলো তোমাদের জন্য :-👇👇

Tags:-

  • bangla golpo,
  • Sagar Sarkar
  • Notun Otithi
  • Love Junction
  • story
  • golpo
  • bangla story facebook
  • bangla story golpo
  • pet lover
  • Sad story
  • emotional story in bengali,
  • story collection
  • story in bengali
  • bangla story collection
  • dog lover story

Bengali Story :- This Story written by "Sagar Sarkar". Story name, "Notun Otithi". We are collected best love and romantic poem in Bengali. We can also published your poem or story in Bengali. If you want to send your Bengali poem . Like sad poemromantic poem, love poem and many others poem in Bengali. Then you can contact me. My email id , "lovejunction506@gmail.com". So please sent your poem or story and don't forget to mention your name. I published your creation on my website. Please share this poem in your friends or lover to gift a beautiful moment. Thank you so much.  

একটি বিচ্ছেদের গল্প | আয়ান হাসান | Love Junction| Bangla Sad love storty

একটি বিচ্ছেদের গল্প |  আয়ান হাসান | Love Junction| Bangla Sad love storty
       প্রিয় লেখকের প্রিয় লেখা । বাংলা জগতে "বাংলামোটিভ ডট কম" এক অন্যতম নাম। গল্প ও কবিতা পড়া বা প্রকাশের এক অন্যতম ঠিকানা। এই ওয়েবসাইট তোমায় সুযোগ দেবে নতুন কিছু লেখার, নতুন কিছু সৃষ্টি করার। তোমার সৃষ্টিশীল জগতের মোটিভেশন হয়ে হাত বাড়িয়ে তোমার পাশে থাকবে। মনে রাখবে কোনো লেখক বা লেখিকা পরিচয়হীন নয়। তাদের লেখাই তাদের নিজস্ব পরিচয়। তাই আর দেরি কেনো ! তোমার লেখা গল্প বা কবিতা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করতে চাইলে যোগাযোগ করো আমাদের সাথে, আমাদের Email Id, "lovejunction506@gmail.com". এখানে তোমার লেখা গল্প, কবিতা বা মোটিভেশনাল স্টোরি, তোমার পুরো নাম দিয়ে পাঠিয়ে দাও। আমরা তোমার Email এর অপেক্ষায় আছি। ততক্ষনে আয়ান হাসানের লেখাটা রইলো তোমাদের জন্য।  

     আমি যাকে ভালোবাসি, সে আমায় ভালোবাসেনি। যদি এমন বলি তাহলে এটা চরম মিথ্যে কথা। সেও যদি বলে আমায় ভালোবাসে না, তাহলে সেটাও চরম মিথ্যে কথা। 

    প্রচন্ড ঘৃনা নিয়েও যা আমরা ছুড়ে ফেলতে পারি না, তাহলে সেখানে আমাদের কিছুটা হলেও মায়া থাকে, করুনা থাকে। এই মায়া, দয়া, করুণা, সবই ভালোবাসার ভেতরে। ভালোবাসা না থাকলে এসব কিছুই করা যায় না।

    যাকে অসংখ্য বিরক্ত করার পরেও কোনো একটা আঘাত দিয়ে কথা বলার মতো সামর্থ্য রাখলো না, কি করে বলবো সে আমায় ঘৃনা করে। সে আমায় কোনো আঘাত দেয়নি, সব আঘাত আমার আত্মঘাতী।

    আমি তো এমন কিছু করি নি, যাতে সে আমায় খারাপ মনে করতে পারে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার লাইফ স্টাইল এরকমেরই। আমার ভেতর বাজে বলতে কিছু বাজে অভ্যাস আছে।

    যেমন ছেলেমানুষী বেশী, হুটহাট সিদ্ধান্ত, না ভেবে কথা বলা, এরকমের সামান্য কিছু বাজে অভ্যাস ছাড়া যদি আমি কিছু খারাপ করে থাকি তাহলে সেটা অতিরিক্ত ভালোবাসা। আর সেও আমায় খারাপ বলতে পারবে না। 

   সেও এগুলো সব জানে আসলে আমি কেমন সেটাও সে বুঝতে পেরেছে! সেও আমায় ঠিকই ভালোবাসে,আমার অবস্থানটা ঠিক থাকলে সেও আমায় ঠিকই চাইতো। কিন্তু তার এতটুকু বোঝা উচিৎ ছিলো,ভবিষ্যৎ কেউ বলতে পারে না।

   কিছু কিছু জিনিস আছে যা আমার হাতে নেই, যেমন চেহারা, উচ্চতা, অবস্থান, এগুলো তো কোনো মানুষের হাতে না। তার থেকে আমি গরিব হতে পারি কিন্তু সেটা তো আমার হাতে না। যেসব আমার হাতে সেগুলো আমার দখলে অনেকাংশ। আর এই সব বিধাতা প্রদত্ত ইস্যুতে যদি আমি হেরে যাই, তাহলে বলবো সে আমার ভালোবাসার যোগ্য না।

   আমি কতটা নিঃস্বার্থ ভাবে তার কাছে নিজেকে বিসর্জন দিয়েছি,  সেটা সেও জানে। ভন্ডামির ভালোবাসায় অবহেলায় অবহেলা বাড়ে, আর সত্যি কাউকে ভালোবাসলে অবহেলায় ভালোবাসা বাড়ে। আমি সেখানেও পাশ করেছি।

   আসলে আমি কেন যে ব্যর্থ,  সেটাই আমি বুঝতে পারছি না, আসলে মানুষের বিকল্প মানুষ পেলে মানুষকে ভোলা যায়, কিন্তু সে তো এক পিস, তার বিকল্প নেই। 

  আমার জগৎ সংসার, যতোই পাই, তার মতো কেউ নাই। তাই পরপারে ও তারে চাই।

লেখাঃ আয়ান হাসান

আমাদের আর ও কবিতা রইলো তোমাদের জন্য :-👇👇

আমাদের আর ও গল্প পড়ুন :-👇👇

Tag:-

  • Sad Love Story,
  • story in bengali,
  • valobasar golpo,
  • ayan hossain
  • love junction
Bengali Poem :- This poem is written by "Ayan hossain". We are collected best love and romantic poem in Bengali. We can also published your poem or story in Bengali. If you want to send your Bengali poem . Like sad poem, romantic poem, love poem and many others poem in Bengali. Then you can contact me. My email id , "lovejunction506@gmail.com". So please sent your poem or story and don't forget to mention your name. I published your creation on my website. Please share this poem in your friends or lover to gift a beautiful moment. Thank you so much.

Nari। নারী। Ruma Rani Ghosh | Love Junction

Nari। নারী। Ruma Rani Ghosh | Love Junction
     প্রিয় লেখকের প্রিয় লেখা । বাংলা জগতে "বাংলামোটিভ ডট কম" এক অন্যতম নাম। গল্প ও কবিতা পড়া বা প্রকাশের এক অন্যতম ঠিকানা। এই ওয়েবসাইট তোমায় সুযোগ দেবে নতুন কিছু লেখার, নতুন কিছু সৃষ্টি করার। তোমার সৃষ্টিশীল জগতের মোটিভেশন হয়ে হাত বাড়িয়ে তোমার পাশে থাকবে। মনে রাখবে কোনো লেখক বা লেখিকা পরিচয়হীন নয়। তাদের লেখাই তাদের নিজস্ব পরিচয়। তাই আর দেরি কেনো ! তোমার লেখা গল্প বা কবিতা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করতে চাইলে যোগাযোগ করো আমাদের সাথে, আমাদের Email Id, "lovejunction506@gmail.com". এখানে তোমার লেখা গল্প, কবিতা বা মোটিভেশনাল স্টোরি, তোমার পুরো নাম দিয়ে পাঠিয়ে দাও। আমরা তোমার Email এর অপেক্ষায় আছি। ততক্ষনে রুমা রানী ঘোষের "নারী" লেখাটা রইলো তোমাদের জন্য।

নারী 

 রুমা রানী ঘোষ 

   নারী জাতিকে আমরা যতই আবেগি বলি, দুর্বল বলি না কেন, তাদের কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা কিন্তু সত্যিই অসাধারণ;

     নারীরা হয়তো তেলাপোকা দেখে ভয় পেয়ে চিৎকার করে, ছোট ছোট বিষয়ে উহ, আহ করে কেঁদে দেয়, 

     পিঁপড়ের কামড়ের মতো সামান্য ব্যথার ইনজেকশনের সূচ ফোটানোটর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত ভয়ে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় তোলে, কিন্তু এই নারী জাতিই আবার প্রয়োজনে ডেলিভারির মতো কয়েকশগুণ কষ্টও সহ্য করে নেয় অবলীলায়;

   নারী জাতি বড্ড অভিমানী প্রকৃতির... এরা ভালোবাসার মানুষের গায়ে যেমন কোনো রকম কষ্টের আচ লাগতে দিতে পারে না, ঠিক তেমনি ভালোবাসার মানুষগুলোর সামান্যতম অবহেলা, অসম্মান, অনাদরও  নিজেরা মেনে নিতে পারে না, তাই তো ছোট খাটো বিষয়ে-- অভিমান করে, ঝগড়া করে, কখনো কখনো ছোট একটি আঘাতে অঝোরে কেঁদেও দেয়, কিন্তু! এই নারীরাই আবার চিরচেনা মানুষ, পঁচিশ বছরের জীবন, মা-বাবা সহ প্রিয় মানুষজনকে ছেড়ে থাকার কষ্ট হাসি মুখে সহ্য করে নেয় দিব্যি;

    কখনো কি ভেবে দেখেছেন? নারী জাতিকে জন্মের পর থেকেই কতটা ত্যাগস্বীকার করতে হয়!

   প্রথমে তাদের ত্যাগ করতে হয় নিজেদের ইচ্ছে গুলোকে, তার পর তাদের ত্যাগ করতে হয় মনের অনুভূতি গুলোকে, তার পর ত্যাগ করতে হয় পিতার ঘর, বিয়ের পর ত্যাগ করতে হয় সকাল দশটা অব্ধি সাধের ঘুম, ইচ্ছেমতো চলাফেরা, মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া, হুটহাট পছন্দের জিনিসটি খেতে দূরে কোথাও বেরিয়ে পড়া, নিজের স্বপ্ন, সন্তান লাভের পর ত্যাগ করতে হয় নিজের ক্যারিয়ার, সখ-আহ্লাদ, পছন্দের খাবারটি এমনকি রাতের ঘুমও;

   নারী জাতি প্রিয়জনের জন্য সবকিছু উৎসর্গ করে দেয়, 

    সারাদিন কষ্ট করে রান্নাবান্না করে স্বামী- সন্তানের ক্ষুধা দূর করার মধ্যেই তারা শান্তি খুঁজে পায়, অসহ্য গরমে যখন একচুল নড়তে ইচ্ছে হয় না, তখনও তারা রান্না ঘরে গোসল করার মতো ঘামে ভিজে আমাদের জন্য সবার পছন্দের খাবারটি আলাদা আলাদা ভাবে রান্না করে দেয়, তাদের এই অক্লান্ত পরিশ্রমের পরও তারা যখন খাবারের পর আমাদের তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে দেখে, তখন তারা সারাদিনের সমস্ত কষ্টের কথা ভুলে যায়;

    এ বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নেওয়ার জন্য আমার, আপনার, আমাদের মায়েদের দিকে একটু খেয়াল করলেই নিশ্চিত হতে পারবেন;

   অসীম ধৈর্য, ত্যাগ, কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা! আপনজনদের খুশী রাখার জন্য নিজের সবকিছুকে বিসর্জন দেয়ার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা একমাত্র নারী জাতিকেই দিয়েছেন...তাই নারী জাতিকে বুঝতে শিখুন, তাদের রাগ-অভিমানগুলোকে একটু ভালোবাসা দিয়ে ভাঙ্গাতে শিখুন, আপনার বেটার আফ হিসেবে তাদের গুরুত্ব ও মর্যাদা দিতে শিখুন;

    জেনে রাখবেন! নারী জাতি কিন্তু ভীষণ রকমের লোভী... এরা ভালোবাসা, সম্মাম, শ্রদ্ধা, গুরুত্ব, বিশ্বাস, আস্থা এই সম্পদ গুলোর প্রতি সবসময় মুখিয়ে থাকে আর এই ছয়টি সম্পদ পেলে তারা সে মানুষটির প্রতিও

   ভীষণ ভাবে মা'য়া'র জালে দূর্বল হয়ে জড়িয়ে যায়, এই জাল কেটে বেড়িয়ে আসার সাধ্যি কোন নারী জাতির নেই, এই জাল কেটে বেড়িয়ে আসার সাধ্যি একমাত্র মৃ'ত্যু;

    তবে হ্যাঁ! আরেকটি কথা তো না বললেই নয়... নারী জাতি যেমন এই ছয়টি সম্পদের মা'য়া'র জাল কেটে বেরুতে পারে না, ঠিক তেমনি তারা আবার-- অবহেলা, অনাদর, অসম্মান, গুরুত্বের অভাব, ভালোবাসার অভাব সহ্য করতে পারে না, তাই তাদের সাথে কখনো খারাপ ব্যাবহার করবেন না, আর আপনি যদি কোনো কারণে তাকে সম্মান দিতে নাও পারেন, তবে অন্তত অসম্মান করবেন না;

    নারী জাতির মন খুব নরম...সেই নরম মনে কখনো আঘাত করবেন না, কখনো কষ্ট দিবেন না, কেননা নারী-রা অবহেলা, অনাদর, অসম্মান, গুরুত্বের অভাব, ভালোবাসার অভাব এই বিষয়গুলো মেনে নিতে পারে না, নারীরা যেমন নিজের সবটা উজাড় করে ভালোবাসতে জানে, ঠিক তেমনি আঘাতের পর আঘাত জমতে থাকলে নিজেকে গুটিয়েও নিতে পারে, তাই নারীদের একটু বুঝতে চেষ্টা করুন;

     নারীদের এক গুণ ভালোবাসা দিলে...তারা আপনাকে দ্বিগুণ ভালোবাসা ফিরিয়ে দিবে, তাই! তাদের শুধু আপন করে একটু ভালোবাসা, সম্মান, গুরুত্ব দিয়ে দেখুন, প্রয়োজনে সে পুরো পৃথিবীর সাথে লড়াই করবে শুধুমাত্র আপনার জন্য;

    নারী জাতি সৃষ্টিকর্তার এক অপরূপ সৃষ্টি...একটি নারীই পারে তার অগুছালো প্রিয় মানুষটিকে ভালোবাসার মায়ায় যত্ন করে গুছিয়ে রাখতে;

     আর তাই তো নারীদের "মায়াবতী" বলা হয়...কারণ! তারা ব্যবহার করা কপালের টিপ'টা আঠা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সেটা যত্ন করে রেখে দেয়, একজোড়া কানের দুলের একটা হারিয়ে গেলেও অন্যটা ফেলে না দিয়ে খুব যত্ন করে রেখে দেয়, ঘরের টুকিটাকি এমন হাজারটা ফেলনা জিনিসটাও তারা যত্ন করে তুলে রাখে, এর আসল কারণ হলো "মায়া" মায়ার টানে তারা ফেলনা জিনিসটাই যে জায়গায় ফেলে দিতে পারে না, আর আমি আপনি তো সে জায়গায় জল জ্যান্ত মানুষ, তার জীবন জুড়ে থাকা একটি অধ্যায়;

    অসংখ্য কষ্ট, যন্ত্রণা সহ্য করেও অনেক সময় নারীরা মায়ারটানে একটা সম্পর্ক, একটা সংসার টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে আর এর জন্যই নারীরা মায়াবতী আর মায়াবতী শব্দের কোন পুংলিঙ্গ নেই।

"নারীদের মতো মায়া পুরুষের কখনোই হয় না আর তাই  তো মায়াবতী শব্দের কোন পুংলিঙ্গ নেই"।

সমাপ্ত 

আমাদের আর ও গল্প পড়ুন :-👇👇

Tag:-

  • Love story for facebook
  • Nari
  • Ruma Rani Ghosh
  • Love Junction
  • bangla golpo
  • story
  • bengali story
  • Story in Bengali
  • Bengali story collection,
  • real life story
  • life story
Bangla Story Golpo :- This story is written by "Ruma Rani Ghosh". Story name, "Nari". We are collected best love poemromantic poemsad poem and sad storylove storyfriendship story, romantic story in Bengali. We can also published your poem or story in Bengali. If you want to send your Bengali poem . Like sad poemromantic poem, love poem and many others poem in Bengali. Then you can contact me. My email id, "lovejunction506@gmail.com". So please sent your poem or story and don't forget to mention your name. I published your creation on my website. Please share this poem in your friends or lover to gift a beautiful moment. Thank you so much.

সংসার | Sangsar | Smritikotha Dutta | Bangla Sad Family Story

সংসার | Sangsar | Smritikotha Dutta | Bangla Sad Family Story
     প্রিয় লেখকের প্রিয় লেখা । বাংলা জগতে "বাংলামোটিভ ডট কম" এক অন্যতম নাম। গল্প ও কবিতা পড়া বা প্রকাশের এক অন্যতম ঠিকানা। এই ওয়েবসাইট তোমায় সুযোগ দেবে নতুন কিছু লেখার, নতুন কিছু সৃষ্টি করার। তোমার সৃষ্টিশীল জগতের মোটিভেশন হয়ে হাত বাড়িয়ে তোমার পাশে থাকবে। মনে রাখবে কোনো লেখক বা লেখিকা পরিচয়হীন নয়। তাদের লেখাই তাদের নিজস্ব পরিচয়। তাই আর দেরি কেনো ! তোমার লেখা গল্প বা কবিতা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করতে চাইলে যোগাযোগ করো আমাদের সাথে, আমাদের Email Id, "lovejunction506@gmail.com". এখানে তোমার লেখা গল্প, কবিতা বা মোটিভেশনাল স্টোরি, তোমার পুরো নাম দিয়ে পাঠিয়ে দাও। আমরা তোমার Email এর অপেক্ষায় আছি। ততক্ষনে স্মৃতিকথা দত্তের  "সংসার " লেখাটা রইলো তোমাদের জন্য।

 সংসার

স্মৃতিকথা দত্ত

    বিয়ের পর থেকেই দেখি আসছি  প্রতিবার পুজায় আমার জন্য কেনা শাড়িগুলোতে তরী (আমার ননদ) সবসময়ই হাত বুলাতে বুলাতে দীর্ঘশ্বাস ছাড়তো।

    কখনো কখনো নিজেই বলতাম যেটা পছন্দ হয় নিয়ে নাও। সবসময়ই দেখতাম সবচেয়ে দামী আর সুন্দর শাড়িটা তরী নিজের জন্য  নিয়ে নিতো কোনো দ্বিধা ছাড়াই।

    আমার শ্বশুর রিটায়ার্ড করেছে অনেকদিন হয়েছে কিন্তু শাশুড়ী মাকে সবসময়ই দেখতাম কথায় কথায় তরীর বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলে বলতো তোর বাপের কি কম আছে?

    যে তোর দাদার ভরসা করবো আমরা ভালো ছেলে ভালো ঘর দেখেই বিয়ে দিবো তোকে। খালি হাতে শ্বশুর বাড়ি যাবে না আমার মেয়ে।

    বুঝতাম কথাগুলো আমাকেই ইঙ্গিত করে বলছে। নিরবে চোখের জল ফেলতাম। অভ্রর সামনে কখনো আমাকে কোনো বিষয়ে কটু কথা বলতো না তরী বা আমার শাশুড়ী মা। কিন্তু অভ্র আমাদের বাসার কাজের মাসী সুমির মায়ের থেকে শুনে ঠিকই বুঝতে পারতো। হঠাৎ একদিন অভ্র মাকে ডেকে বলেছিলো মা,তরী আর পিহুকের মধ্যে এত পার্থক্য করো কেন তুমি? 

   সেই দিন সেই সময় আমাকে রান্না ঘর থেকে আমার হাতে হেঁচকা টানে ড্রয়িং রুমে এনেছিলো তরী। 
বাধ্য হয়ে অভ্র তরীকে একটা থাপ্পড় দেয়। পুরো একসপ্তাহ তরী আর আমার শাশুড়ী মা আমার মামা শ্বশুরের বাসায় ছিলো।

   কি এক কান্ড! আমার মা-বাবা পর্যন্ত ক্ষমা চেয়েছিলো এই ঘটনায়। শুধু মেয়ের সংসার বাঁচাবে বলে।
আটদিনের দিন এসেছিলো বাসায়। এসব কিছুর মধ্যে আমার শ্বশুর ছিলো সবসময়ই নিরব দর্শক। সে কোনো বিষয়ে কোনো শব্দ করতো না তবে প্রতিবাদ করতো না এমনও নয় বরং আমার শাশুড়ীর কাছে সে মতামত কোনো পাত্তা পেতো না।

    বিয়ের পর ছয় মাস খুব খারাপ গিয়েছিলো অভ্রর ব্যবসা সেজন্য প্রতিদিন কথা শুনাতো আমাকে।
ঠিক ছয়মাস পর যখন ব্যবসার উন্নতি হতে লাগলো। বছর খানেক এর মধ্যে আরেকটা বড় দোকান নিলো অভ্র  তখন তরী আমাকে বলে বসলো বৌদি দাদার যদি বিয়ের আগেই দুইটা দোকান থাকতো তবে কি তুমি এ বাড়িতে বউ হয়ে আসতে পারতে?

    সরাসরি ভাবে এটাই বুঝাতে চেয়েছিলো যে এখনকার মতো অবস্থা থাকলে এ বাড়িতে আমি বউ হয়ে আসতে পারতাম না।

   বিয়ের আড়াই বছর পরও যখন  আমার বাচ্চা হচ্ছিলো না। সেই সময় শাশুড়ী মা বললো সকালে আমার সামনে আসবে না। অপয়া মেয়ে মানুষের মুখ দেখে ঘুম ভাঙলে সারাদিন খারাপ যাবে। এভাবেই চলতে লাগলো সংসার। মানিয়ে নিতে মেনে নিতে। মেয়ে হয়েও অন্য মেয়েদের কাছে নিপীড়িত হতে হতে। 

    অনেক সাধ্য-সাধনার পর এক রাজকন্যার জননীও হলাম। হঠাৎ করে তরীর ভালো বিয়ের সম্বন্ধ আসলো। এক ছেলে, এক মেয়ে ছোট পরিবার। মেয়ের বিয়েও হয়ে গেছে। তরীর মতামত নিয়ে বিয়েও হয়ে গেলো।

    মাস ছয়েক সংসার করার পর হঠাৎ একদিন তরী খুব ভোরে এ বাসায় আসলো। এসেই আমাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। ক্ষমাও চাইলো আমার সাথে করা অন্যায়ের জন্য। কথার প্রসঙ্গে জানতে পারলাম ওর ননদ বাচ্চা হওয়ার জন্য বাপের বাড়ি এসেছে মাসখানেক । সেখানে এসেই মা মেয়ে মিলে তরীকে বেশ কষ্ট দিচ্ছিলো অথচ তরীর বর কোনো প্রতিবাদ করে না। মাকে অথবা বোনকে বুঝায় না। সেই অভিমানেই চলে এসেছে তরী।

     হঠাৎ করে এমন পরিস্থিতি দেখে বেশ কষ্ট লাগছিলো। খারাপ লাগছিলো এটা ভেবে কিছু বউ রা হয়তো এভাবেই প্রতিনিয়ত সমাজের বাজে নিয়মে নির্যাতিত হয়। ছেড়ে দেওয়া বা ছাড় দেওয়ার পরিবর্তে যারা পরের বাড়ির মেয়েটাকে কষ্ট দিয়ে নিজের মেয়ের ভালো সংসার কামনা করে সেই সংসার কি আদৌ সুখকর হয়?

    শুধু শুধু কিছু সম্পর্ককে আমরা নিজেরাই জটিল করি তুলি। কারণ সৃষ্টিকর্তা কার জন্য কি প্রস্তুত রাখে কেউ বলতে পারে না!

    তাই অন্তত নিজেদের সংসারটাকে আর সংসারে থাকা মানুষগুলোকে আপন মনে করেই মেনে নিন।
তাহলেই দেখবেন!

 "সংসার পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আবাসস্থল হয়ে উঠেছে"।

Purush | পুরুষ | Ruma Rani Ghosh | Love Junction | Real Life Story In Bengali

Purush | পুরুষ | Ruma Rani Ghosh | Love Junction | Real Life Story In Bengali
      প্রিয় লেখকের প্রিয় লেখা । বাংলা জগতে "বাংলামোটিভ ডট কম" এক অন্যতম নাম। গল্প ও কবিতা পড়া বা প্রকাশের এক অন্যতম ঠিকানা। এই ওয়েবসাইট তোমায় সুযোগ দেবে নতুন কিছু লেখার, নতুন কিছু সৃষ্টি করার। তোমার সৃষ্টিশীল জগতের মোটিভেশন হয়ে হাত বাড়িয়ে তোমার পাশে থাকবে। মনে রাখবে কোনো লেখক বা লেখিকা পরিচয়হীন নয়। তাদের লেখাই তাদের নিজস্ব পরিচয়। তাই আর দেরি কেনো ! তোমার লেখা গল্প বা কবিতা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করতে চাইলে যোগাযোগ করো আমাদের সাথে, আমাদের Email Id, "lovejunction506@gmail.com". এখানে তোমার লেখা গল্প, কবিতা বা মোটিভেশনাল স্টোরি, তোমার পুরো নাম দিয়ে পাঠিয়ে দাও। আমরা তোমার Email এর অপেক্ষায় আছি। ততক্ষনে রুমা রানী ঘোষের  "পুরুষ" লেখাটা রইলো তোমাদের জন্য।

পুরুষ 

রুমা রানী ঘোষ  

   ব পুরুষ খারাপ হয় না... কিছু কিছু পুরুষ অতুলনীয়  ভাবেও ভালো হয়;

   সব পুরুষ অজুহাত দেখিয়ে ছেড়ে চলে যায় না... কিছু কিছু পুরুষ ছেড়ে যাওয়ার হাজারটা যৌক্তিক কারণ থাকার পরেও পরম যত্নে ভালোবেসে আগলে রেখে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হাতটি শক্ত করে ধরে থেকে যায়;

   সব পুরুষ ঠকায় না... কিছু কিছু পুরুষ ঠকে যাওয়া নারীটিকে যত্নে করে আগলায়;

   সব পুরুষ নারীর সাজানো গোছানো জীবনটাকে এলোমেলো করে দিতে আসে না... কিছু কিছু পুরুষ নারীর অগোছালো জীবনটাকে সাজিয়ে গুছিয়ে দেওয়ার জন্যও আসে;

   সব পুরুষ ধ'র্ষ'ক হয় না... কিছু কিছু পুরুষ হাজারটা সুযোগ থাকার পরেও নারীদের মাতৃজ্ঞানেই সম্মান দেয়;

   সব পুরুষ বউ পি'টি'য়ে পু'রু'ষ'ত্ব জাহির করে না... কিছু কিছু পুরুষ নিজে পড়তে না পেরেও ফুটপাতে চা বিক্রি করে বউকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায়;

    সব পুরুষ দায়িত্বজ্ঞানহীন হয় না... কিছু কিছু পুরুষ অনেক নারীদের থেকেও বেশি দায়িত্বশীল হয়, স্ত্রীর প্রেগনেন্সি সময় কিছু কিছু পুরুষ গোটা সংসার ও স্ত্রীর দায়িত্ব খুব ভালো ভাবেই সামলায়, সন্তান হওয়ার পর স্ত্রীর সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে মাঝ রাতে স্ত্রীকে ঘুমাতে দিয়ে সন্তানের ভেজা কাঁথা পালটায়;

   সব পুরুষ সুযোগ সন্ধানী হয় না... কিছু কিছু পুরুষ ফাঁকা জায়গায় একলা নারীকে দেখতে পেয়ে দ্বায়িত্ব নিয়ে সসম্মানে গন্তব্য স্থানে পৌঁছায়;

  সব পুরুষ স্ত্রীকে হাড়ি ঠেলার জন্য ঘরে বন্দী করে রাখার চেষ্টা করে না... কিছু কিছু পুরুষ মুক্ত মনে খোলা আকাশের বুকে স্ত্রীকে ডানা মেলে উড়ে বেড়াতে দেখতেও স্বপ্ন বুনে, ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে দিন রাত সময় দিয়ে স্ত্রীকে যোগ্য ভাবে তৈরি করে;

    সব পুরুষ নারীরদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে না...  কিছু কিছু পুরুষ কখনো কখনো বাবা রুপে, কখনো কখনো ভাই রুপে, কখনো কখনো বন্ধু রুপে, কখনো কখনো বা প্রেমিক, স্বামী কিংবা ছেলে রুপে মাথা উঁচু করে বাঁচতে দেখতে পিছন থেকে ছায়ার মতো মিশে থেকে নিজের সর্বস্ব দিয়ে পাশে থাকে;

    সব পুরুষ নারীদের হারাতে চায় না... কিছু কিছু পুরুষ নিজে ইচ্ছে করে হেরে গিয়ে প্রিয় মানুষটিকে জিতিয়ে দিয়ে জিতে যাওয়ার সুখ দু-চোখ ভরে উপলব্ধি করে শান্তির স্নিগ্ধতায় বিভোর হয়;

   ঐটুকু ঘরের কাজ ছাড়া সারাদিন আর কি -ই বা করো এমন, বলে....  সব পুরুষ কথায় কথায় নারীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে না, কিছু কিছু পুরুষ মনে প্রাণে মানে ও বিশ্বাস করে নারী ছাড়া প্রতিটি সংসার অচল;
সব পুরুষ স্ত্রীর সাফল্যে হীনমন্যতায় ভোগে না... কিছু কিছু পুরুষ নিজের থেকেও ভালো অবস্থানে স্ত্রীকে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করায়;

    পুরুষ কুলে জন্ম নিলেই পুরুষ হওয়া যায় না... প্রকৃত পুরুষ হওয়াটা চারটে খানি কথা না, প্রকৃত পুরুষ আসলে তারাই, যারা নির্জনতায় মেয়েদের দেখে লালসার হাত না বাড়িয়ে দায়িত্বের হাত বাড়ায়, যারা নারী সহকর্মী'র পিছনে না লেগে, অ'শ্লী'ল'তা না করে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে মিশে বেড়ায়, যারা পরিবার - পরিস্থিতির অজুহাতে না দেখিয়ে সাত-আট বছরের সম্পর্ক না ভেঙ্গে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই পাশে থেকে যায়, তারাই তো পুরুষ, যারা নারীকে 'মেয়েমানুষ' না ভেবে, ভাবে শুধু মানুষ।

"তারাই তো পুরুষ যারা নারীকেও ভাবে মানুষ"। 


আমাদের আর ও গল্প পড়ুন :-👇👇

Tag:-

  • Love story for facebook
  • Purush
  • Ruma Rani Ghosh
  • Love Junction
  • bangla golpo
  • story
  • bengali story
  • Story in Bengali
  • Bengali story collection,
  • real life story
  • life story
Love Story :- This story is written by "Ruma Rani Ghosh". Story name, "Purush". We are collected best love poemromantic poemsad poem and sad storylove storyfriendship story, romantic story in Bengali. We can also published your poem or story in Bengali. If you want to send your Bengali poem . Like sad poemromantic poem, love poem and many others poem in Bengali. Then you can contact me. My email id , "lovejunction506@gmail.com". So please sent your poem or story and don't forget to mention your name. I published your creation on my website. Please share this poem in your friends or lover to gift a beautiful moment. Thank you so much.

Agami । আগামী। Nilima Nil। Love junction। Sad Story Bengali

Agami । আগামী। Nilima Nil। Love junction। Sad Story Bengali

      প্রিয় কবিদের প্রিয় কবিতা । বাংলা জগতে "বাংলামোটিভ ডট কম" এক অন্যতম নাম। গল্প ও কবিতা পড়া বা প্রকাশের এক অন্যতম ঠিকানা। এই ওয়েবসাইট তোমায় সুযোগ দেবে নতুন কিছু লেখার, নতুন কিছু সৃষ্টি করার। তোমার সৃষ্টিশীল জগতের মোটিভেশন হয়ে হাত বাড়িয়ে তোমার পাশে থাকবে। মনে রাখবে কোনো লেখক বা লেখিকা পরিচয়হীন নয়। তাদের লেখাই তাদের নিজস্ব পরিচয়। তাই আর দেরি কেনো ! তোমার লেখা গল্প বা কবিতা আমাদের Website এ প্রকাশিত করতে চাইলে যোগাযোগ করো আমাদের সাথে, আমাদের Email Id, "lovejunction506@gmail.com". এখানে তোমার লেখা গল্প, কবিতা বা মোটিভেশনাল স্টোরি, তোমার পুরো নাম দিয়ে পাঠিয়ে দাও। আমরা তোমার Email এর অপেক্ষায় আছি। ততক্ষনে নিলীমা নীল এর আগামী লেখাটা রইলো তোমাদের জন্য।

আগামী  

নিলীমা নীল 

  "উমা। নাতি নাতনির মুখ না দেখেই আমরা ওপারে চলে যাব, এটাই কী তোমরা চাইতেছো? পাঁচ বছর তো হইলো এবার একটা চিন্তা ভাবনা করো। আমাদেরও তো বয়স হয়েছে।"

    শাশুড়ির কথায় একটুও মন খারাপ হয়নি। বরং সাফিনের উপর বেজায় রাগ হলো। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য যতবার বলেছি, ততবারই সাফিন বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টা এড়িয়ে গিয়েছে। সবার ধারণা আমরা ইচ্ছে করেই বাচ্চা নিচ্ছি না। আসল কারণ কেউ জানে না।

 'সাফিন, তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে?'

আমার বলার ভঙ্গিতেই সাফিন বুঝে নিয়েছে, আমি বেশ রেগে আছি ৷ 

একগাল হেসে সাফিন আমার পাশে এসে বললো, "জ্বী, বেগম সাহেবা। আপনার মূল্যবান বক্তব্য শ্রবণ করার জন্য এই বৎস প্রস্তুত।"

"শোনো, একদম ঢং করবে না। ডাক্তারের কাছে কবে যাচ্ছি আমরা?"

"আগামী মাসে। এ মাসে হাতে একদমই সময় নেই গো।"

"তোমার এই আগামী মাস কখনোই আসবে না, আমার ভালো করে জানা আছে।"

"ডাক্তারের কাছে গিয়েই বা কী হবে?"

"কী হবে এটা তুমিও জানো। অবান্তর প্রশ্ন করো না।"

সাফিন চুপ করে রইলো। আমি সাফিনের হাতের মধ্যে হাত গুঁজে দিয়ে বললাম, "আমাদের নিশ্চিত হওয়া দরকার আমরা আসলেই কখনো বাবা-মা হতে পারব কী না! যদি না পারি সেটা সবাইকে জানিয়ে দিলে আর কেউ অযথা প্রশ্ন করে মন খারাপ করে দিবে না এবং কেউ প্রত্যাশায়ও থাকবে না।"

আমার হাতটা চেপে ধরে সাফিন প্রশ্ন করলো, "যদি সমস্যাটা আমার হয়, তবে কী তুমি আমায় ছেড়ে চলে যাবে?"

"পাঁচ বছরে এই আমাকে চিনলে সাফিন?"

সাফিন চুপ করে তাকিয়ে রইলো। আমি সাফিনের কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে বললাম, "তুমি ছাড়া আমি, এমন কথা আমি কখনো কল্পনায়ও আনি না।"

"তোমাকে খুব ভালোবাসি জুলিয়া।"

"যদি সমস্যাটা আমার হয় তখনো কী বাসবে?"

"আজীবন।"

"সত্যি করে বলো তো, সমস্যাটা তোমার হতে পারে শুধু এই ভয়েই কী তুমি ডাক্তারের কাছে যেতে চাওনি?"

"আমার কেন যেন মনে হয়, সমস্যাটা আমারই। আর আমি তোমাকে হারাতে চাই না।"

"এসব ভাবার কোনোই দরকার নেই। চলো সামনের সপ্তাহেই ডাক্তারের কাছে যাই। বাবা-মা অস্থির হয়ে উঠেছেন। প্রায়ই আমাকে প্রশ্ন করেন।"

সাফিন রাজি হলে আমরা পরের সপ্তাহে ডাক্তারের কাছে গেলাম। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ হলে জানা যায়, সমস্যাটা আসলে সাফিনের নয়, আমার। যদিও ডাক্তার পুরোপুরি হতাশ করেননি। বলেছেন, সম্ভাবণা রয়েছে তবে খুব কম। কিন্তু আমি ডাক্তারের এই কথাটাকে কেবল সান্ত্বনা হিসেবেই ভাবছি। 

সাফিনকে নিয়ে ভয় হচ্ছে না। কিন্তু শ্বশুর শাশুড়িকে নিয়ে খুব চিন্তা হচ্ছে। তাদের ছেলের সমস্যা নেই জানলে নিশ্চয়ই তারা আমার বিপরীতে কোনো সিদ্ধান্ত নিবেন। বংশের ধারা বহল রাখলে নতুন সদস্য তো তারা চাইতেই পারেন, তাদেরই বা কী দোষ!

তবে কী সাফিনের ভালোবাসা ভাগ হয়ে যাবে! ভাবতেই চোখ জোড়া ছলছলিয়ে উঠলো। সাফিন আমার হাতটা শক্ত করে ধরে আছে৷ এতদিন ওর চোখ জুড়ে শঙ্কা দেখেছি। আর এখন ওর জুড়ে স্বস্তি দেখছি। যেন কোনো কলঙ্কের দায় থেকে মুক্তি পেয়েছে সাফিন। 

বাড়ি ফিরলাম। সাফিনকে বললাম, বাবা-মাকে বিষয়টা জানানো প্রয়োজন। সাফিন বললো, পরে জানানো যাবে। তাই আর এ নিয়ে এখন কিছু ভাবছি না৷ 

নিজের মধ্যে কেমন একটা অসম্পূর্ণতা অনুভব করছি। দিন যত যেতে লাগলো অস্থিরতা বাড়তে লাগলো। একসময় শ্বশুর শাশুড়িকে বিষয়টা জানালাম। তারা বেশ চিন্তায় পড়ে গেলেন। আমাকে তারাই পছন্দ করে বেশ আগ্রহ সহকারে এ বাড়িতে নিয়ে আসেন। আমার কষ্ট হয়, এমন সিদ্ধান্ত নিতেও তারা বেশ হিমসিম খাচ্ছেন। 

শাশুড়ি মা বললেন, "চিন্তা করো না। আল্লাহ নিশ্চয়ই নিরাশ করবেন না৷ তাকে ডাকো।"

আমিও এই কথাই বিশ্বাস করি। সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই সুখবর দিবেন৷ 

    দেখতে দেখতে আরও একটা বছর কেটে গেলো। কিন্তু সুখবরের দেখা মিলছে না। ইদানীং সাফিন বেশ দেরি করে বাড়ি ফেরে। সবসময় ব্যস্ত থাকে, সবকিছুতে যেন ওর তাড়াহুড়ো। সকালের নাস্তাটাও প্রায়ই না করে বের হয়। অথচ আগে আমার হাতের নাস্তা দিয়েই ওর দিন শুরু হতো।

"জুলিয়া, অফিসের কাজের জন্য কয়েকদিন আমাকে ঢাকার বাহিরে থাকতে হবে।"

"আমাকেও নিয়ে চলো না।"

"অফিসের আরো সহকর্মীরা যাচ্ছে৷ তোমায় নিয়ে যেতে পারছি না। তুমি দয়া করে মন খারাপ করো না। তবে কথা দিচ্ছি, কাজ শেষ করে এসে তোমায় নিয়ে ঘুরতে যাব।"

"তোমায় ছাড়া থাকতে খারাপ লাগবে সাফিন। অভ্যেস নেই তো।"

সাফিন আমায় ওর বুকের মধ্যে টেনে নিয়ে বললো, "আমি যতদূরেই থাকি না কেন, আমার চিন্তা চেতনা জুড়ে সবসময় তুমিই আছো।"

সাফিন চলে গেলে বাড়িটা ফাঁকা ফাঁকা লাগতে শুরু করে। রাতে ঘুমও হয় না ঠিকঠাক। সাফিনকে কল করলেও তেমন কথা হয় না, কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত সময় পার করছে। 

টানা পাঁচ দিন পর বাড়ি ফেরে সাফিন। বেশ ফুরফুরে লাগছে ওকে। ওর চোখে মুখ জুড়ে আনন্দ আর খুশি লেগে আছে। সাফিন মুখে খুব বললেও আমার কেন যেন মনে হচ্ছে না, ও এতদিন আমার জন্য মন খারাপ করেছে। বরং কেন যেন বারবার মনে হচ্ছে আমি ছাড়া ওর সময়টা আরও ভালো কেটেছে। 

তারপর থেকে সাফিনকে সবসময় বেশ খুশি খুশি লাগতে শুরু করে। মানুষ প্রেমে পড়লে যেমন তার ভেতরকার খুশি তার চেহারায় ফুটে ওঠে, সাফিনের বেলাও ঠিক তেমন মনে হচ্ছে। হয়তো অফিসে পদোন্নতি হতে চলছে খুব শীঘ্রই। আমাকে সারপ্রাইজ দিবে বলেই হয়তো বিষয়টা লুকিয়ে রেখেছে। আমি উপরওয়ালার কাছে খুব প্রার্থনা করি, যেন সাফিনের মনোবাসনাটা পূর্ণ হয়। 

সাফিনের প্রায়ই রাত করে বাড়ি ফেরা, সারাদিন ফোনে ব্যস্ত থাকা, বাড়ি ফিরলেও ফোন নিয়ে পড়ে থাকা, কখনো কখনো বাড়িই না ফেরা, ওর এই ব্যস্ততাগুলো আমার থেকে ওকে ক্রমশ দূরে নিয়ে যাচ্ছে। আমায় নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা তো বেমালুম ভুলে বসে আছে। তবে কী সাফিন তার ভেতরের দুঃখ ভোলার জন্য নিজেকে ব্যস্ত রাখার প্রয়াস চালাচ্ছে! বাবা না হওয়ার দুঃখটা যে অনেক বড় একটা যন্ত্রণা। 

কেটে যাচ্ছে সময় বিষন্নতায়। সাফিনকে কাছে পাই খুব কম সময়। দিন রাত খেটে চলছে অফিসের পেছনে। এত কষ্ট করে কী লাভ! কী হবে এত টাকা দিয়ে! আমাদের তো কোনো ভবিষ্যৎ নেই। 

"বউমা, সাফিন বাড়ি ফিরেছে?"

"না, মা। আজ মনে হয় ফিরবে না।"

"কী যে হয়েছে ছেলেটার! নিজের দিকে খেয়াল নেয় না একটুও।"

চুপ করে রইলাম। সাফিনকে কল করলে দেখি নাম্বার বন্ধ। অন্ধকার গিলে খাচ্ছে আমায়। এখন যেন একা থাকতেই আমার অভ্যেস হয়ে যাচ্ছে। 

পরদিন সকালে সাফিন ফোনে জানায়, "অফিসের কাজে সাত দিনের জন্য চট্টগ্রাম যাচ্ছে। সঙ্গে সহকর্মী আরিফ সাহেব যাচ্ছেন।"

জিজ্ঞেস করলাম, "ব্যাগ গুছিয়ে রাখবো। এসে নিয়ে যাবে?"

"দরকার হবে না। ওখানে গিয়ে ব্যবস্থা করে নিব।"

শেষ কবে সাফিন ফোনে আমার সঙ্গে একটু সময় নিয়ে কথা বলেছে, আমি একদম ভুলে গিয়েছি। ব্যস্ততার অজুহাতে আমি আমাকে সামলে নিচ্ছি। 

পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলো, সাফিন আমাকে একবারের জন্যও মনে করেনি। আমি ফোন করলেও কথা বলার যেন তার সময়ই নেই। 

বেশ কয়েকদিন যাবৎ শরীরটা একদম ভালো লাগছে না। ভাবলাম, সাফিন ফেরার আগে ডাক্তার দেখিয়ে আসি। শাশুড়ি মা'কে সঙ্গে নিয়ে বের হলাম।

ডাক্তার বললেন, পরদিন এসে টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে যেতে। ডাক্তারের ওখান থেকে বের হয়ে আমি আর শাশুড়ি মা কেনাকাটা করার উদ্দেশ্যে শপিংমলে এলাম। হঠাৎ সাফিনের সহকর্মী আরিফ সাহেবের সঙ্গে দেখা। 

কুশল বিনিময় শেষে জিজ্ঞেস করলাম, "কবে এলেন চট্টগ্রাম থেকে?"

আমার কথায় আরিফ সাহেব বিস্মিত হলেন। "চট্টগ্রাম তো যাইনি ভাবী।"

"কেন আপনি আর আপনার সাফিন ভাই কয়েকদিন আগেইতো চট্টগ্রামে গেলেন অফিসের কাজে! সাফিন তো এখনো ফেরেনি।"

"কী বলেন ভাবী! সাফিন ভাই তো সাত দিনের জন্য ছুটি নিয়েছেন অফিস থেকে।"

আমার চোখ কপালে উঠলো। সাফিন আমার সঙ্গে মিথ্যা কথা বলবে না। আরিফ সাহেবেরই হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে।

"সাফিন তো এর আগেও একবার অফিসের কাজে ঢাকার বাহিরে গিয়েছিলো।"

"ভাবী আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে। সাফিন ভাইকে কিংবা আমাকে এখনো অফিস ঢাকার বাহিরে কোথাও পাঠায়নি।"

মাথা ঘুরিয়ে এলো। সাফিন তাহলে মিথ্যা বলেছে আমার সঙ্গে। কিন্তু কেন! সন্দেহের কাটা বইছে মস্তিষ্ক জুড়ে। শরীরটা আরও খারাপ লাগছে। নিজেকে সামলে অপেক্ষা করতে লাগলাম সাফিনের ফেরার।

ডাক্তারের কাছ থেকে রিপোর্ট আনতে গিয়ে জানলাম, সত্যিই এবার আমি মা হতে চলছি। মুহুর্তেই যেন সব মন খারাপেরা দূরে সরে গেলো। খুশিতে চোখে জল জমে গেলো। আগামীকাল সাফিন বাড়ি ফিরবে। তখন ওকে এই খুশির খবরটা নিজেই জানাবো। তার আগে আর কাউকে জানাবো না বলে ঠিক করেছি। ও নিশ্চয়ই ভীষণ খুশি হবে। আমাদের মধ্যেকার সব দূরত্ব ঘুচবে এবার, ভাবতে আনন্দ যেন বেড়ে দ্বিগুণ হচ্ছে।

পরদিন সাফিন বাড়ি ফেরে। সাফিনের চালচলন সবই আমার কাছে সন্দেহজনক লাগে। যেন এ এক অন্য সাফিন, আমার সাফিন নয়। বারবার মনে হয় সাফিন কিছু লুকাচ্ছে। এদিকে খবরটা জানানোর জন্য ভেতরে ভেতরে ছটফট করে চলছি কিন্তু সঠিক সময়টাই যেন পাচ্ছি না।

সাফিন ওয়াশরুমে গেলে আমি ওর ফোনটা হাতে নেই। এত বছরে আমি কখনোই ওর ফোন এভাবে সন্দেহ নিয়ে ধরিনি। আজ প্রথমবার সাফিনের ফোনে তল্লাশি চালাচ্ছি। মনে মনে প্রার্থনা করে চলছি, যেন আমার সব সন্দেহ ভুল প্রমাণিত হয়। 

মেসেজ বাক্সে চোখ রাখতেই কেঁপে উঠলাম। একটার পর একটা করে মেসেজগুলো পড়ে চলছি। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। শরীরটা খুব দুর্বল লাগছে। নিজের চোখেই বিশ্বাস হচ্ছে না।

সাফিন হয়তো ভেবেছে আমি কখনোই ওকে সন্দেহ করতে পারি না। তাই ফোনের একটা ফোনকল, মেসেজও ডিলিট করেনি। আমার কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না, সাফিন অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। এতদিন আমাকে বোকা বানিয়ে সাফিন ওর সময়গুলো অন্য কারো সঙ্গে কাটিয়েছে। 

সাফিন ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আমার হাতে ওর ফোন দেখতেই আঁতকে ওঠে। আমার চোখ ভিজে জল গড়াচ্ছে। সাফিন অপরাধীর মত চুপ করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। 

চোখের জল মুছে প্রশ্ন করলাম, "বিয়ে করেছো নাকি শুধুই সময় কাটিয়েছো?"

মাথা নিচু করে উত্তর দিলো সাফিন, "বিয়ে করেছি। তুমি অনুমতি দিলে এ বাড়িতে নিয়ে আসব।"

তীরের মত বিধলো কথাটা বুকের মধ্যে। এই সাফিনকে আমি দিনের পর দিন এতটা বিশ্বাস করে গিয়েছি। 

"আমি মা হতে পারব না বলেই কী এমনটা করেছো নাকি আরও কারণ আছে?"

"জুলিয়া, আমাকে ভুল বুঝো না। সবারই তো বাবা হতে ইচ্ছে করে।"

"সবার মা হতে বুঝি ইচ্ছে করে না সাফিন! অথচ তুমি আমাকে একসময় হারানোর ভয় পেতে। কিন্তু তুমি অপেক্ষা করতে পারলে না।"

"অপেক্ষা করেই বা কী হত? লাভ হতো কোনো?"

চোখে টলমল করে উঠলো জলেরা। ভেতরে যন্ত্রণারা ছটফট করছে। ভাঙচুর হচ্ছে ভেতর জুড়ে। 

"তুমি তোমার স্ত্রী'কে এ বাড়িতে নিয়ে আসতে পারো।"

কথাটা বলেই ওয়াশরুমে ঢুকে পানির ট্যাপটা ছেড়ে দিলাম। হাউমাউ করে কাঁদার শব্দ আর বাহিরে বের হচ্ছে না। এ কষ্ট কোনো সান্ত্বনাই আটকাতে পারবে না। 

চোখ মুখ ধুয়ে বের হয়ে দেখি সাফিন বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছে। নিজের সবকিছু গুছিয়ে ব্যাগে ঢুকালাম। 

শাশুড়ি আর শ্বশুর বারবার প্রশ্ন করে চলছেন, "কী হয়েছে বউমা? কেন এমন করছো? কোথায় যাচ্ছো?"

শান্ত গলায় বললাম, "বাড়িতে আপনার নতুন বউমা আসছে আর পুরাতন বিদায় নিচ্ছে।"

ডাক্তারের থেকে পাওয়া রিপোর্টের কাগজটা শ্বশুরের হাতে দিয়ে বললাম, "এটা আপনার ছেলেকে দিবেন। বলবেন, তার বিয়েতে এটা আমার প্রথম উপহার। আর দ্বিতীয় উপহারের কাগজটা খুব শীঘ্রই পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব, যাতে স্বাধীনভাবে সংসারটা সে করতে পারে।"

শাশুড়ি আমাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হলেন। আমার সামনের সময় কাটিয়ে দেওয়ার জন্য একজন সঙ্গী আমি পেয়ে গিয়েছি, আমার শত কষ্টের মাঝেও সে সুখের বার্তা হয়ে জীবনে এসেছে। তাকে ঘিরেই তো এখন আমার আগামী🙂🥀
সমাপ্ত

আমাদের আর ও কবিতা রইলো তোমাদের জন্য :-👇👇

আমাদের আর ও গল্প পড়ুন :-👇👇

Tag:-

  • Sad story for facebook
  • Agami
  • Nilima Nil
  • Story in Bengali
  • Bangla sad love story
  • Love junction
  • Bangla golpo
  • valobasar golpo
  • love story
  • sad story bengali
  • bangla koster golpo
  • divorced story
  • break up story in Bengali 
Love Story :- This story is written by "Nilima Nil". Story name, "Agami". We are collected best love poemromantic poemsad poem and sad storylove storyfriendship story, romantic story in Bengali. We can also published your poem or story in Bengali. If you want to send your Bengali poem . Like sad poemromantic poem, love poem and many others poem in Bengali. Then you can contact me. My email id , "lovejunction506@gmail.com". So please sent your poem or story and don't forget to mention your name. I published your creation on my website. Please share this poem in your friends or lover to gift a beautiful moment. Thank you so much.